শ্যামাসুন্দরী খাল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন অনিশ্চয়তা

0
83
Print Friendly, PDF & Email

কৃষি ডেস্ক(৩০ জানুয়ারী): রংপুরের শ্যামাসুন্দরী খাল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তাদেখা দিয়েছেকাজ শুরুর এক বছর পর হঠা প্রকল্পটি সিটি করপোরেশন থেকেস্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল বিভাগে (এলজিইডি) হস্তান্তর করায় এই পরিস্থিতিরসৃষ্টি হয়েছে
প্রকল্পের আওতায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ শ্যামাসুন্দরীখালের পুরোটা খনন, খালের পাড় সংরক্ষণ ও সেতু নির্মাণের কথা ছিলকিন্তুলোকদেখানো কাজ করে পাঁচ ঠিকাদার ইতিমধ্যে ছয় কোটি ৮৫ লাখ টাকা তুলেনিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে
শহরের ভেতর প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী খালটি খননকরা হয় ১৮৯০ সালেসে সময় কলেরা, মহামারিসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি থেকেজনগণকে মুক্ত রাখতে রাজা জানকী বল্লভ সেন খালটি তাঁর মা শ্যামাসুন্দরীরনামে খনন করেন
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, খালটির উন্নয়নে গত বছরেরফেব্রুয়ারিতে প্রায় ২২ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়এর মধ্যে খালেরপাড় সংরক্ষণ বাবদ সাড়ে ১৬ কোটি ও খাল খননে এক কোটি ৪১ লাখ টাকা এবংখালের ওপর নতুন করে তিনটি সেতু নির্মাণ ও একটি সেতু সংস্কার বাবদ চার কোটিটাকা ব্যয় ধরা হয়২২ কোটির মধ্যে নয় কোটি ৯৫ লাখ টাকা প্রকল্প খাতেবরাদ্দ দেওয়া হয়বাকি টাকা পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ দেওয়ার কথা
খালেরপাড় সংরক্ষণকাজে চার ঠিকাদারের মধ্যে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ওসমবায় মন্ত্রণালয় বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহিদ খানের ছোট ভাই শামীম খানরয়েছেনঅন্য তিনজন হলেন: সার্দুল হোসেন, শফিকুল ইসলাম ও রাজা মিয়াছাড়া খাল খননের ঠিকাদার হলেন এমদাদুল হোসেন ও সেতু নির্মাণের ঠিকাদার হলেনখায়রুল কবির
সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদ হোসেন জানান, ছয় ঠিকাদারের মধ্যে সেতু নির্মাণের ঠিকাদার ছাড়া বাকি পাঁচজনকে ছয় কোটি৮৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের পূর্ব-উত্তর দিকেশহরের সিও বাজার এলাকায় মাত্র এক হাজার ফুট খালের পাড় সংরক্ষণের কাজহয়েছে১২ কিলোমিটার খাল খনন করে দুই পাড়ে সিমেন্টের স্পার বসানোর কথা; সেখানে স্পার বসানো হয়েছে মাত্র এক হাজার ফুটেদরপত্র অনুযায়ী কাজটিআগামী জুনের মধ্যে শেষ করতে হবেপুরো খালের কোথাও কোনো কাজ দেখা যায়নি
ঠিকাদার শামীম খান বলেন, ‘খালের দুই পাড়ের জন্য স্পার নির্মাণ করেছি অন্য স্থানেকিন্তু খালের পাড়ে তা বসানোর কাজ এখনো হয়নি
জানাযায়, সরফুদ্দীন আহমেদ নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর এ প্রকল্পের কাজআপাতত বন্ধ রাখতে মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেনএ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জানতেপেরেছি, এ প্রকল্পের কাজে অনিয়ম রয়েছেআমি শপথ না নেওয়া পর্যন্ত এ কাজবন্ধ রাখতে বলেছি
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের নির্দেশে ২০জানুয়ারি প্রকল্পের সব কাগজসহ তহবিলে থাকা তিন কোটি ১০ লাখ টাকা এলজিইডিতেস্থানান্তর করা হয়েছেসিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এ তথ্যেরসত্যতা নিশ্চিত করেছেনএ ঘটনা জানাজানি হলে, সরফুদ্দীন আহমেদ ২১ জানুয়ারিসংবাদ সম্মেলন করে আবু আলম মো. শহিদ খানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগতোলেনসরফুদ্দীন বলেন, ‘প্রকল্পের কাজ না করে ঠিকাদারদের টাকা দেওয়াহয়েছে, এমন অভিযোগ পাওয়ার পর গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে সরেজমিনে কাজেরএলাকা পরিদর্শন করিসেখানে দেখতে পাই, কোনো কাজ হয়নিএ জন্য কাজ বন্ধরাখতে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিইসে অনুযায়ী কাজ বন্ধ রয়েছেকিন্তু এ ঘটনারপর সচিব পুরো প্রকল্পটি এলজিইডিতে হস্তান্তর করেন, এটি ষড়যন্ত্রমূলক
অভিযোগপ্রসঙ্গে আবু আলম মো. শহিদ খান প্রথম আলোকে জানান, প্রকল্পটি হস্তান্তরেরসিদ্ধান্ত হয়েছে দুই মাস আগেসিটি করপোরেশনের কাছে থাকায় নির্মাণকাজেরঅগ্রগতি হচ্ছিল নাকাজটি চলতি বছরের জুনের মধ্যে শেষ করতে হবেআর তা নাকরতে পারলে টাকা ফেরত যাবেতাই প্রকল্পটি হস্তান্তর করা হয়

 

 

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন