জনগণ চাইলে ঐকমত্যের ভিক্তিতে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে: হানিফ

0
30
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৯জানুয়ারী) : জনগণ চাইলে ও জাতীয় ঐকমত্য গড়ে উঠলে জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ।

তিনি বলেন, “জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করাটা একটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সব আইন সব সময় পাস করা যায় না। তাই এদের নিষিদ্ধ করতে জাতীয় ঐকমত্যের প্রয়োজন।”

মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে জামায়াত-শিবিরের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘‘গোটা দেশ যখন জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যে উদ্বিগ্ন, তখন প্রধান বিরোধী দলীয় নেত্রীকে খুব উৎফুল্ল চিত্তে দেখা গেছে। জামায়াত-শিবিরের নৈরাজ্যে তারা যেন উজ্জীবিত হয়েছেন।’’

তিনি বলেন, ‘‘দেশের প্রধান বিরোধী দল এ ধরনের ফ্যাসিস্ট শক্তিকে উস্কানি দেয়, তাদের নিয়ে রাজপথে ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ করে। সেক্ষেত্রে এ দলকে নিষিদ্ধ করতে উদ্যোগ নিতে হবে।’’

তিনি বলেন, ‘‘ক্ষমতার লোভে দেশবাসীর সঙ্গে বিএনপির এ শঠতা ও প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণ সুযোগ পেলে সমুচিত জবাব দেবে। অপ-রাজনীতি থেকে বিএনপি বেরিয়ে আসতে না পারলে তাদের অতীতের মতোই পরিণতি ভোগ করতে হবে।’’

জামায়াত-শিবিরের সোমবারের হামলা-ভাঙচুর সর্ম্পকে হানিফ বলেন, ‘‘এ ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতা ছিল কিনা জানি না। তবে সেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের ব্যর্থতা রয়েছে।’’

বিচারের রায় হওয়ার পরে কিছু করতে পারবে না জেনে আগেই বিচারকে বন্ধ করতে জামায়াত-শিবির সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নেমেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘আগামীতে সব ভুলত্রুটি সংশোধন করে সর্বশক্তি প্রয়োগ করে জামায়াত-শিবিরকে প্রতিহত করা হবে। প্রথমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শেষ করা হবে। তারপর এসব জঙ্গিবাদে অর্থায়নের মদদ দাতাদের খুঁজে বের করা হবে।’’

সংবাদ সম্মেলনে হানিফ সরকারের প্রতি নৈরাজ্যের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

জামায়াত-শিবিরের বুধবারের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া প্রসঙ্গে হানিফ বলেন, ‘‘জামায়াত-শিবির গত দু’দিনে যেসব ঘটনা ঘটিয়েছে তার মাধ্যমে তারা ফ্যাসিস্ট রাজনীতির পরিচয় দিয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে শান্তিপূর্ণ স্থিতিশীল পরিবেশকে নষ্ট করতে উচ্চাভিলাষী সংঘাতমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। প্রতিশোধ ও রক্তপাতের হুমকি দিয়ে গুরুতর উস্কানি দিচ্ছে। তাদেরকে বুধবারের কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হবে বলে মনে করি না।’’

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহম্মেদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ডাবলু, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় নেতা এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।

নিউজরুম

শেয়ার করুন