দেশের সব জাহাজ বন্ধের হুমকি বেলায়েত-মাহবুবের

0
300
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৮জানুয়ারী) : আগামী ৩০ জানুয়ারি থেকে দেশের সব জাহাজ বন্ধ করে দেওয়ার আলটিমেটাম দিয়েছে বাংলাদেশ জাহাজ মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদ। রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ আলটিমেটাম দেয়।

বাংলাদেশ জাহাজ মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদ মূলত কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সভাপতি গাজী বেলায়েত হোসেন ও অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীরবিক্রমের নেতৃত্বাধীন সংগঠনের জোট।

তারা আগামী ২৯ জানুয়ারির মধ্যে নতুন মালবাহী জাহাজের নকশা ও রেজিস্ট্রেশন প্রদান বন্ধ, বিসিভোয়া ও কোয়াবের সম্মতি ছাড়া কোনো মালবাহী জাহাজের সার্ভে ও রেজিস্ট্রেশন সনদ এবং ভারতীয় প্রটোকল অনুমোদন না দেওয়াসহ মোট ২২ দফা দাবি পূরণের জন্য সরকারকে আলটিমেটাম দিয়েছে।

সরকার এ সময়ের মধ্যে দাবিগুলো পূরণ না করলে ৩০ জানুয়ারি মধ্যরাত থেকে জাহাজ পরিচালনা বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন- অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহন সংস্থা ও নবগঠিত বাংলাদেশ জাহাজ মালিক সমিতি ঐক্য পরিষদের সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বীরবিক্রম। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন গাজী বেলায়েত হোসেন।

লিখিত বক্তব্য শেষে মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ সাংবাদিকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গেলে তাকে বারবারই থামিয়ে দিয়ে কথা বলতে শুরু করেন গাজী বেলায়েত। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের মুখে হাসির পাত্র হয়ে ওঠেন তিনি।

চাঁদাবাজির মাধ্যমে নিজের আয়ের পরিধি বাড়ানোর জন্যই শিল্প প্রতিষ্ঠানের পণ্যবাহী জাহাজগুলো সিন্ডিকেটভুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছে কি না- এ প্রশ্নের মুখে কোয়াব সভাপতি গাজী বেলায়েত বলেন, “কথা দিলাম, গ্রুপ অব কম্পানির জাহাজগুলো আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের আওতায় এলে আমরা তাদের কাছ থেকে একটি টাকাও নেব না।”

“আপনার আশপাশের আর কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও আপনার বিরুদ্ধে কেনো নানা অভিযোগ রয়েছে”- সাংবাদিকরা এ প্রশ্ন করলে গাজী বেলায়েত বলেন, “যারা এসব অভিযোগ করে তারা হয়তো অন্যদের সঙ্গে সুবিধা করতে পারে না, আমার সঙ্গেই বেশি সুবিধা পায়, এ জন্যই তারা সব সময় আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে।”

মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, “পণ্যবাহী, তেলবাহী ও যাত্রীবাহী নৌযান সেক্টরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকটের মুখে আছে পণ্যবাহী নৌযান সেক্টর। বিশেষ করে মালিক সমিতির নিয়মকানুন না মেনে গ্রুপ অব কম্পানির ১৩০টি জাহাজ দিয়ে বছরে এক কোটি টনের বেশি পণ্য পরিবহন শুরু করা হয়েছে। তাদের প্রতিটি জাহাজ গড়ে পাঁচ/ছয়টি ট্রিপ দিচ্ছে। এতে পণ্যবাহী নৌযান শিল্প ভারসাম্যহীন ও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পথে বসতে শুরু করেছে মালিক সমিতির আওতাধীন প্রায় ১১০০ জাহাজ, এসব জাহাজের প্রতিটি গড়ে দেড় মাসেও একটি ট্রিপ পায় না।”

তিনি বলেন, “পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে গ্রুপ অব কম্পানির মালিক পক্ষ ও সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। সরকারের ২৭ জানুয়ারির মধ্যে এ সমস্যা সমাধান করার কথা থাকলেও কোনো সাড়া না পাওয়া যায়নি।”

কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান নিজের পণ্য পরিবহনে সরকারের কাছ থেকে যথাযথ অনুমোদন নিয়ে এবং নিজ খরচে তৈরি করা নিজস্ব পরিবহন ব্যবহার করলে তা নিয়ে অন্য কারো আপত্তি কতটা যৌক্তিক- জানতে চাইলে মাহবুব উদ্দিন বলেন, “দেশে পণ্যবাহী নৌযানের সংখ্যা এমনিতেই প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। এর পরও সরকার বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে নিজস্ব নৌযান তৈরির অনুমোদন দিচ্ছে। আর কোম্পানিগুলো ভিন্ন নাম ব্যবহার করে একের পর এক জাহাজ নামাচ্ছে। ফলে এসব কম্পানি এখন আর নৌ পরিবহন ব্যবসায়ীদের নৌযান ব্যবহার করছে না।”

একই প্রশ্নের সূত্র ধরে গাজী বেলায়েত অনেকটা উত্তেজিত হয়ে বলেন, “এই গ্রুপ অব কোম্পানিগুলো নিজেদের পণ্য ব্যবহারের কাজেই কেবল নিজস্ব জাহাজ ব্যবহার করছে, তারা দেশের কোনো কাজ করছে না। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একচেটিয়া দেশের সব ব্যবসা-বাণিজ্য করবে, অন্যদের কিছু করতে দেবে না, এটা হতে পারে না।”

পণ্য পরিবহনের সমস্যার সঙ্গে যাত্রী পরিবহনকে কেনো টেনে আনা হলো- এ প্রশ্নের মুখে মাহবুব উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “আমাদেরও দীর্ঘদিনের কিছু দাবি আছে।”

নিউজরুম

শেয়ার করুন