ব্রাজিলের নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২৪৫

0
96
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৭জানুয়ারী) : ব্রাব্রাজিলের দক্ষিণাঞ্চলে নাইটক্লাবে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা ২৪৫ ছাড়িয়ে গেছে।

এ পর্যন্ত ২৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। অনেকে গুরুতর আহত হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার স্থানীয় সময় রাত ২ টায় ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সংবাদ মাধ্যমগুলোতে এ খবর প্রকাশিত হয়েছে। মেজর গারসন দা রোসা ফেরেইরা উদ্ধারকাজ দেখভাল করছেন। তিনি বলেন, “সান্তা মারিয়ার ক্লাবটি মরদেহ সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।”

রাজধানী রিও গ্রান্ড ডো সুল রাজ্যের সান্তা মারিয়া শহরের ‘কিস’ নাইটক্লাবে একটি গানের দলের পরিবেশনার সময় আতশবাজি প্রদর্শনী থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

প্রাদেশিক রাজধানী পোর্তো এলেগ্রে থেকে ৩০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ক্লাবটির বহির্গমন পথ মাত্র একটি। সমবেতদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সবাই বের হওয়ার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করে। পদদলিত হয়ে ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে মারা গেছে বলে জানা গেছে।

ব্রাজিলের গ্লোবো টিভি জানিয়েছে, মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে সরানো হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

অগ্নিনির্বাপণ দলের প্রধান গুইদো দে মেলো বলেন, “নিহতের সন্ধান চালাচ্ছে অগ্নিনির্বাপণকর্মীরা। আমরা নিহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে পারছি না। জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে এবং একে অপরকে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে।”

স্থানীয় একটি রেডিওর এক প্রতিবেদক জানান, নাইটক্লাবটিতে দুই হাজারের অধিক লোক ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন। শনিবার রাতে ক্লাবটিতে ৩০০ থেকে ৫০০ লোক ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুন ছড়িয়ে পড়লে কালো ধোঁয়ায় ছেয়ে যায় পুড়ে এলাকা।
ভেতরে আটকা পড়াদের উদ্ধার করতে উদ্ধারকর্মীরা ক্লাবের একটি দেওয়াল ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করে।

ক্লাবের টয়লেট থেকে প্রায় ১৫টি মরদেহ উদ্ধার করা গেছে। জীবন বাঁচানোর জন্য তারা ওইখানে আশ্রয় নিয়েছিল বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী লুয়ানা সান্তোস সিলভা বলেন, “মঞ্চের ছাদে দেখতে পানি সেখানে আগুনের কুণ্ডলী।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বোন আমাকে জড়িয়ে ধরে এবং আমাকে  বের করে আনে। অনেক লোক বের হওয়ার জন্য  বহির্গমন পথ খুবই ছোট ছিল।”

তার বোন আলিনে সান্তোস সিলভা বলেন, “ঠিক সময়ে দেখায় আগুন ছড়িয়ে পরার আগেই আমরা পালাতে সক্ষম হই। আগুন এত দ্রুত ছড়িয়ে পরে যে লোকজন পালানোর সময় পায়নি।”

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খুবই দ্রত অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ ও উদ্ধারকারীরা এসে পৌঁছান।

এক অগ্নিনির্বাপণকর্মী জানিয়েছেন, তিনি আরও কখনো এধরনের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দেখেননি। নিহতদের অধিকাংশ তরুণ।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ আঞ্চলিক সম্মেলনে যোগ দিতে চিলিতে সফররত রয়েছেন। তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, তিনি দেশে ফিরছেন।

চিলিতে থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “ব্রাজিলের জনগণ ও সান্তা মারিয়ার জনগণকে আমি আহ্বান জানাই, এই মুহূর্তে আমাদের একত্রে থাকতে হবে।”

এক টুইটার বার্তায় রিও গ্রান্ড ডো সুলের গভর্নর তারসো গ্রেনরো বলেন, “ এটি ‘মর্মান্তিক রোববার’ ছিল । অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার প্রেক্ষিতে দ্রুত সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” রোববার দিনের শেষ দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাবেন গ্রেনরো।

এর আগে ২০০৩ সালে ব্রাজিলের রোড আইল্যান্ডে গ্রেট হোয়াইট ব্যান্ডের পরিবেশনার মধ্যে আতশবাজি প্রদর্শনীর সময় অগ্নিকাণ্ডে ৯০ জনেরও বেশি লোক নিহত হয়।  

২০০৪ সালে আর্জেন্টিনায় নাইটক্লাবে অগ্নিকাণ্ডে ১৯৪ জন নিহত হয়।

২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ ও ২০১৬ সালে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের  আয়োজক দেশ ব্রাজিল। এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ও জরুরি উদ্ধার তৎপরতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সান্তা মারিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পল্লী হিসেবে পরিচিত। ফেডারেল ইউনিভার্সিটি অব সান্তা মারিয়াসহ বহু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শহরটি অবস্থিত।

নিউজরুম

শেয়ার করুন