সাঈদীর মামলার যুক্তিতর্ক শেষ সোমবার

0
65
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৭জানুয়ারী) : মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে পুনরায় যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন সোমবারের মধ্যে শেষ করার আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। এরপর রাষ্ট্রপক্ষকেও আইনি পয়েন্টে সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করতে বলেছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার দিনভর ৬ষ্ঠ দিনের মতো যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন করেন আসামিপক্ষ। দুই অর্ধ্বেই আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।

সোমবার শেষ দিনের মতো যুক্তিতর্কের দিন ধার্য রেখে চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল আসামিপক্ষকে সোমবার তাদের যুক্তিতর্ক শেষ করতে বলেছেন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষকে আসামিপক্ষের পরে আইনি পয়েন্টে সমাপনী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

এরপরই আইন অনুসারে সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলার রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করবেন ট্র্রাইব্যুনাল।

উল্লেখ্য, আসামিপক্ষকে প্রথম ৩ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শেষ করার জন্য ট্রাইব্যুনাল সময় বেধে দিলেও তারা পরের দু’দিনে আবেদন করে সময় বাড়িয়ে নিয়েছেন। ২০ থেকে ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত আসামিপক্ষে ঘটনার বিষয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সাঈদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম। এরপর আইনি পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
 
এর আগে গত ১৩ থেকে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩ কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী।

বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরীর দায়ের করা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে একটি মামলায় সাঈদীকে ২০১০ সালের ২৯ জুন গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।

২০১০ সালের ২১ জুলাই থেকে ২০১১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত মোট ৩১৩ দিন তদন্ত করে ১১ জুলাই সাঈদীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন রাষ্ট্রপক্ষ। ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগের বিষয়ে শুনানি শেষে ৩ অক্টোবর সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। সাঈদীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনকালে মুক্তিযুদ্ধকালে সময়ে পিরোজপুর জেলায় হত্যা, গণহত্যা, ধর্ষণ এবং এ ধরনের অপরাধে সাহায্য করা ও জড়িত থাকার ঘটনায় ২০টি অভিযোগ আনা হয়।

একই বছরের ২০ ও ২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উত্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপু ও প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান।

ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে গত বছরের ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলালউদ্দিনসহ ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন হয়। দেন।

সাক্ষীদের মধ্যে ২০ জন ঘটনার সাক্ষী হলেন, মাহাবুব উদ্দিন হাওলাদার, রুহুল আমীন নবীন, মিজানুর রহমান তালুকদার, সুলতান আহমেদ হাওলাদার, মাহতাব উদ্দিন হাওলাদার, মানিক পসারি, মফিজ উদ্দিন পসারি, মোঃ মোস্তফা হাওলাদার, মোঃ আলতাফ হোসেন হাওলাদার, বাসুদেব মিস্ত্রি, আব্দুল জলিল শেখ, আব্দুল আওয়াল এমপি (বর্তমান), গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা, আব্দুল হালিম বাবুল, মোঃ সেলিম খান, জুলফিকার আলী, মধুসূদন ঘরামী, মোঃ হোসেন আলী, মোঃ মোবারক হোসেন ও সাইফ হাফিজুর রহমান।

আর জব্দ তালিকার ৭ সাক্ষী হলেন, পিআইবির ক্যাটালগার মোঃ রবিউল আলম খান, পিআইবির চতুর্থ শ্রেণীর বুক সার্টার এসএম আমিরুল ইসলাম, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের গাইড কাম কম্পিউটার অপারেটর ফাতেমা বেগম, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের গাইড মোঃ নেছার, বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগারিক ইজাব উদ্দিন মিয়া, বাংলা একাডেমির গ্রন্থাগারিক ডিস্ট্রিবিউটর মাসুম উল কবির এবং বিশিষ্ট সাংবাদিক আবেদ খান।

এছাড়াও রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়া ১৫ সাক্ষীর জবানবন্দি ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তারা হচ্ছেন উষা রানী মালাকার, সুখরঞ্জন বালি, আশীস কুমার মণ্ডল, সুমতি রানী মণ্ডল, সমর মিস্ত্রি, সুরেশ চন্দ্র মণ্ডল, গণেশ চন্দ্র সাহা, শহিদুল ইসলাম খান সেলিম, মোঃ মোস্তফা, আব্দুল লতিফ হাওলাদার, আইয়ুব আলী হাওলাদার, সেতারা বেগম, অনিল চন্দ্র মণ্ডল, রানী বেগম ও অজিত কুমার শীল।

গত বছরের ২ সেপ্টেম্বর থেকে সাঈদীর পক্ষের সাক্ষীদের সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দিতে আসামিপক্ষ ৪৮ জনের নামের তালিকা দিলেও ২০ জন সাক্ষীকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য অনুমোদন দেন ট্রাইব্যুনাল। ২০ জনের মধ্যে আসামিপক্ষ ১৭ জন হাজির করে সাফাই সাক্ষ্য দেওয়ান। ২৩ অক্টোবর তারা আর কোনো সাফাই সাক্ষী আনতে না পারায় সেদিনই সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ বন্ধ করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

সাঈদীর পক্ষে যে ১৭ জন সাক্ষ্য দেন তারা হলেন শামসুল আলম তালুকদার, আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ, নুরুল হক হাওলাদার, আবুল হোসেন, খসরুল  আলম, রওশন আলী, জামাল উদ্দিন ফকির, কুবাত আলী, হেমায়েত উদ্দিন, গোলাম  মোস্তফা, আনোয়ার হোসেন, হাফিজুল হক, সাঈদীর ছেলে মাসুদ বিন সাঈদী, এমরান হোসাইন, আব্দুস সালাম হাওলাদার, আব্দুল হালিম ফকির ও গণেশ চন্দ্র সাহা।

উভয়পক্ষের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গত বছরের ৫ নভেম্বর শুরু হয় যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপন। রাষ্ট্রপক্ষে ৫ থেকে ১৫ নভেম্বর ও ৪ থেকে ৬ ডিসেম্বর মোট ১২ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী। অন্যদিকে ১৮ নভেম্বর শুরু করে ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৩ কার্যদিবসে আসামিপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন সাঈদীর প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ও অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুল ইসলাম।

এরপরই স্কাইপি কথোকপথনের জের ধরে বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগ, দুই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনসহ সাঈদীর একের পর এক আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার কার্যক্রম মুলতবি হয়ে যায়।৩ জানুয়ারি সাঈদীর পুনর্বিচারের আবেদন খারিজ করে দিলেও উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক পুনরায় শুনবেন বলে জানান ট্রাইব্যুনাল। সে অনুসারে ১৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপন।

নিউজরুম

শেয়ার করুন