পীরগঞ্জে ফসলি জমির মাটি ইটভাটায় বিক্রি

0
112
Print Friendly, PDF & Email

কৃষি ডেস্ক(২ জানুয়ারী): ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) ইটভাটায় বিক্রি হচ্ছেইটভাটার মালিকেরা চড়া দামে এসব মাটি কিনে নিচ্ছেন
পরিবেশঅধিদপ্তর রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মকর্তা সুকুমার সাহা বলেন, ‘ফসলিজমির টপ সয়েল কাটার ব্যাপারে সরকারি নিষেধাজ্ঞা রয়েছেএই মাটি কেটেইটভাটায় দেওয়া সম্পূর্ণ বেআইনিএ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন আইনগত ব্যবস্থানিতে পারে
স্থানীয় সূত্রে জানা গছে, পীরগঞ্জের উত্তর গড়গাঁও, সিন্দুরনা, খনগাঁও আরাজি উজ্জ্বলকোঠা, ঘোড়াধাপ, ভেলাতৈড়, গুয়াগাঁও ও চাপোড়গ্রামে সাতটি ইটভাটা চালু রয়েছেএসব ইটভাটার মালিকেরা আশপাশের বিভিন্নগ্রাম থেকে ফসলি জমির মাটি কিনে ট্রাক্টরে করে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেনশুক্রও শনিবার (১৮ ও ১৯ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রমিকেরা ভেমটিয়াগ্রামের ইউসুফ আলীর ফসলি জমির মাটি কেটে রিকশা-ভ্যানে করে সেভেন বিনামেরএকটি ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছেন
জমির মালিক ইউসুফ আলী বলেন, ‘আমার দুই বিঘাজমির ওপরের অংশের (এক ফুট) মাটি ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি ভাটারমালিকের কাছেখনগাঁও গ্রামের কৃষক আব্বাস আলী বলেন, ‘এবার আমন ধান ভালোহয় নাই, হাতত টাকা নাই, সংসারত অভাবএই তাহেনে মুই এক বিঘা জমির মাটিবিক্রি করে নয় হাজার টাকা পাইচু
সেভেন বিইটভাটার পশ্চিম-দক্ষিণেলাছি নদীর পাড় ঘেঁষেও কয়েকজন কৃষকের ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি কেটে ইটভাটায়নেওয়া হচ্ছেমাটি বহনকারী ভ্যানশ্রমিকেরা জানান, গুয়াগাঁও ও ভেমটিয়াগ্রামের কাইমত আলী, হাসান আলী, সিরাজুল ইসলাম, ইউসুফ আলীসহ অনেক কৃষকতাঁদের মাটি বিক্রি করেছেন
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁওয়েরউপপরিচালক বেলায়েত হোসেন জানান, আবাদি জমির উপরিভাগের (টপ সয়েল) ছয় থেকে ১০ইঞ্চির মধ্যে জমির খাদ্যকণা ও জৈব উপাদান থাকেউপরিভাগের মাটি কেটে ফেলাহলে জমিতে খাদ্যকণা ও জৈব উপাদান আর থাকে নাতাই জমির উর্বরতা শক্তি কমেযায়এসব ফসলি জমি আগের অবস্থায় ফিরে আসতে অন্তত ১০ বছর সময় লাগেএকই জমিথেকে প্রতিবছর এভাবে মাটি কাটা হলে সেটি আর ফসলি জমি থাকে না
পীরগঞ্জউপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনোঅভিযোগ পাইনিঅভিযোগ পেলে সরেজমিনে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন