নাটোরে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত মিল্লাতকে রাজশাহীতে স্থানান্তর

0
83
Print Friendly, PDF & Email

নাটোর, (২৭জানুয়ারী) : নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত নাটোরের আট বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। শনিবার রাতে তাকে রাজশাহী পাঠানো হয়।নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. রফিকুল ইসলাম রুপসীবাংলাকে জানান, সদর হাসপাতালে পাঁচ দিন ধরে চিকিৎসার পর নিপা ভাইরাস সংক্রমণের বিষয়টি নিশ্চিত হলে শনিবার রাতে মিল্লাত হোসেন নামের ওই স্কুল ছাত্রকে রাজশাহী পাঠানো হয়।
চিকিৎসকরা জানান, সাধারণ ওষুধে মিল্লাতের জ্বর ভাল না হওয়ায় তার মুখের লালা পরীার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। সেখানেই তার নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
এর আগে গত সোমবার মিল্লাতের মা আম্বিয়া বেগম ‘জ্বরে ভুগে’ মারা যান। তবে তিনি নিপায় আক্রান্ত হয়েছিলেন কি-না পরীা না হওয়ায় তা নিশ্চিত করতে পারেননি সিভিল সার্জন।
মিল্লাতের বাবা সাইফুল ইসলাম জানান, আম্বিয়া মারা যাওয়ার পর ওইদিনই তার তাদের ছেলের জ্বর আসে।
চলতি মৌসুমে নিপায় আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এর মধ্যে রাজবাড়ী, ঝিনাইদহ, নওগাঁ, নাটোর ও গাইবান্ধায় মারা গেছেন পাঁচ জন। আর ঢাকায় মারা গেছে আট বছর বয়সী এক শিশু।
সাধারণত শীতকালে বাদুরের মাধ্যমে খেঁজুরের রস থেকে মানুষের মধ্যে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণ হতে পারে। জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি থাকে।
এ ভাইরাস সংক্রমণে শতকরা ৮০ জনের মৃত্যু হতে পারে, যেখানে কাঁচা খেজুর রস পান থেকে বিরত থাকলে এটা পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব। ভাইরাস সংক্রমণের প্রায় আটদিন পর রোগের লণ প্রকাশ পায় বলে জানান আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান।নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার লণগুলো হলো- জ্বর, প্রলাপ বকা এবং সংজ্ঞা হারানো।
মাহমুদুর রহমান বলেন, এ রোগে একবার আক্রান্ত হলে প্রতিকার কঠিন। তবে খেঁজুরের কাঁচা রস না খেয়ে ভাইরাসটির সংক্রমণ শতভাগ ঠেকানো সম্ভব।

নিউজরুম

শেয়ার করুন