আলু চাষে লাভবান হওয়ার আশা কৃষকের

0
45
Print Friendly, PDF & Email

কৃষি ডেস্ক(২৩ জানুয়ারী): আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মুন্সীগঞ্জে এবার লক্ষ্যমাত্রার বেশি আলু পাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছেবাজারে আলুর ভালো দাম থাকায় লাভের আশাও করছেন চাষিরা

 

মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকিশোরগঞ্জ এলাকার আলুচাষি রফিকের দেখা মিলল ক্ষেতেআলুগাছের পরিচর্যা নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনিতাকে প্রশ্ন করতেই তিনি জানান, এক কানি জমিতে তিনি আলু চাষ করছেনগত বছর তিন কানি জমিতে আলু চাষ করে অনেক লোকসান গুনতে হয়েছেতাই এবার বেশি চাষ করেননিএক কানি জমিতে আলু চাষে খরচের একটা পরিসংখ্যান দিলেন তিনিতিনি জানান, সার লেগেছে পাঁচ বস্তা যার দাম পড়েছে ছয় হাজার টাকা, কীটনাশক দিয়েছেন দুই হাজার ৫০০ টাকা, বদলির মজুরিতে খরচ হয়েছে তিন হাজার টাকা, পানি দিতে হয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা খরচ করেজমিভাড়া পাঁচ হাজার ছাড়াও আরো কিছু আনুষঙ্গিক খরচ আছেতারপরও এবার আলুতে ২০-২৫ হাজার টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেনএকই গ্রামের আরেক চাষি রিপন জানান, তিনি তিন কানি জমিতে এবার আলু চাষ করেছেনআবহাওয়া ভালো থাকায় গাছ ভালো হয়েছেদামটাও ভালো আছেতিনি আশা করেছেন এবার আলুতে লাভবান হবেনএখন শুধু অপেক্ষার পালাআগামী এক দেড় মাসের মধ্যেই সব আলু তোলা সম্পন্ন হবেসবুজের সমারোহে বিস্তীর্ণ অঞ্চলআলু প্রধান এ অঞ্চলের কৃষকদের লাখ লাখ টাকা এখন মাটির নিচে আছেকবে উঠে আসবে সোনার এ ফসল কৃষকেরা তারই অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন

 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছেঅনুকূল আবহাওয়া বাড়তি ফসল উপাদনে সহায়তা করবেতারা আশা করছেন আলু উপাদনের লক্ষ্যমাত্রাও ছাড়িয়ে যাবেসূত্রে মতে, ২০১১-১২ অর্থবছরে আলু আবাদের পরিমাণ ছিল ৩৫ হাজার ৫৭৬ হেক্টর জমিচলতি বছর ২০১২-১৩ অর্থবছরে আলু আবাদের পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৭ হাজার ৩৩০ হেক্টরগত অর্থবছরে আলু উপাদন হয়েছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার ৮ মেট্রিক টনচলতি বছর আলু পাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ পাঁচ হাজার ৫৯২ মেট্রিক টন

 

উপজেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান হলোÑ সদর উপজেলায় আলু আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ২৪০ হেক্টর জমিতেপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে এক লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৮ মেট্রিক টনটঙ্গিবাড়ী উপজেলায় আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিপাদনের লক্ষ্যমাত্রা এক লাখ ৮৩ হাজার ৪৫৫ মেট্রিক টনশ্রীনগর উপজেলায় আবাদের পরিমাণ দুই হাজার ৫১০ হেক্টর জমিপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৯২ মেট্রিক টনসিরাজদিখান উপজেলায় ৯ হাজার ৩০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছেপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৩৪২ মেট্রিক টনলৌহজং উপজেলায় চার হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছেপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৮৪ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন এবং গজারিয়া উপজেলায় আবাদ হয়েছে দুই হাজার ৫৫০ হেক্টর জমিআলু উপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪২ হাজার ৩৪৫ মেট্রিক টন

 

আলু উপাদন ও দাম নিয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক কৃষিবিদ হাবিবুর রহমান বলেন, অনুকূল আবহাওয়া যেমন আলুগাছের জন্য বাড়তি সুবিধা দিয়েছেতেমনি আলুর চড়া মূল্য এ জেলার কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসবে বলে আমরা আশাবাদী

 

 

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন