রাজাকারদের কবর দেওয়ার প্রক্রিয়ায় সরকার সক্ষম হয়েছে: মতিয়া

0
62
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৩জানুয়ারী) : আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে নিহত ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ মা-বোনের আত্মাকে আশ্বস্ত করতে চাই। সরকার আইনের মাধ্যমে রাজাকারদের কবর দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে সক্ষম হয়েছে।

বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার ১৪ দলের মানববন্ধন সফল করতে মহানগর ১৪ দল আয়োজিত বৈঠকে তিনি একথা বলেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায়ে খালেদা জিয়া শোকে পাথর হয়ে গেছে বলেই কোন প্রতিক্রিয়া জানাননি মন্তব্য করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, “মাত্র একজনের বিচার হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব রাজাকারের বিচার হবে। এখনো যদি নাৎসী বাহিনীর বিচার হতে পারে তবে একজন রাজাকার অবশিষ্ট থাকা পর্যন্ত এ বিচার চলবে।”

মতিয়া চৌধুরী বলেন, “তাড়াহুড়ো করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হয়নি। ক্যাঙ্গারু কোর্ট কিংবা সামরিক আদালতের মাধ্যমে এ বিচার করা হয় নি। বিচার বিভাগ কারো অঙ্গুলীর নির্দেশে কিংবা কারো ইশারায় যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় হয় নি। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করার প্রত্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জনগণ মেনে নেবে না, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের এমন বক্তব্যের জবাবে ওর্য়াকাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, মুক্তিযুদ্ধও ছিল রাজনীতি। জনগণের অধিকার আদায়, শোষণ থেকে মুক্তি পেতে বাংলার মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে ৯ মাস যুদ্ধ করেছে। এ বিচার জনগণের রাজনৈতিক এজেন্ডা।

তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার রাজনৈতিক হিংসা চরিতার্থ করার জন্য হচ্ছে না। এই বিচার প্রক্রিয়া সর্ম্পূণ স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, জামায়াত যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিএনপি ঘোমটা খুলে মাঠে নেমে গেছে। একটি মাত্র রায়ই শেষ নয়, বার বার রায় হবে। সব যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে। ৭১’রের রক্তস্রোত বৃথা যেতে পারে না।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার জনগণের দাবি। এ বিচার বিএনপি মানবে কি মানবেন না সেটা জনগণ দেখতে চায় না। জনগণ বিএনপি ভাবনা নিয়ে ভাববেও না।

তিনি বলেন, ২১ আগস্ট হত্যাকাণ্ড, উদীচি হত্যাকাণ্ডসহ দেশে সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- গণ আজাদী লীগের সভাপতি আব্দুস সামাদ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরিফ নুরুল আম্বিয়া, ওর্য়াকাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক নুরুর রহমান সেলিম, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম, অসিত বরণ রায়সহ ১৪ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর নেতারা।

নিউজরুম

শেয়ার করুন