অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করে দেশে ফিরলেন ওয়াসফিয়া

0
85
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৩জানুয়ারী) : অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ ভিনসন ম্যাসিফ অভিযান শেষে দেশে ফিরেছেন এভারেস্টজয়ী বাংলাদেশী নারী ওয়াসফিয়া নাজরীন।

দেশে ফিরেই নিজের দুঃসাহসিক অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি।  এসময় তিনি টানা ৬দিনের নানা চ্যালেঞ্জ আর জীবন ঝুঁকির কথা জানান। জানান, এ অর্জনে বেদনার ছাপও ফেলেছে দেশের একটি ঘটনা।

ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আবেগতাড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “চলতি মাসের ৪ তারিখে আমি ভিনসন ম্যাসিফে আরোহন করি। বাংলাদেশ সময়  তখন  রাত ১টা। ঠিক সেদিনই জানতে পারি, বাংলাদেশে একটি মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে। সেসময় ভাবছিলাম, বাংলাদেশের একটি মেয়ে আজ অ্যান্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ জয় করেছে। অন্যদিকে, সে দেশেরই আরেকটি মেয়ে ধর্ষিত হয়েছে।”

বলতে গিয়ে বার বার কথা আটকে যাচ্ছিল তার। কথা শেষ হওয়ার পর সম্মেলন কক্ষে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা।

মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের যাত্রী মিলনায়তনে ওয়াসফিয়া নাজরীনের দেশে ফেরা উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ওয়াসফিয়া তার দুঃসাহসিক অভিযানের বিবরণ তুলে ধরেন সাংবাদিকদের কাছে।

অনুষ্ঠানে ওয়াসফিয়ার অভিযানে আর্থিক সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন, ব্র্যাক ব্যাংকের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান জীশান কিংশুক হক, বিকাশের বিপণন বিভাগের প্রধান সানিয়া মাহমুদ, ব্র্যাকের কিশোর ও কিশোরী উন্নয়ন কর্মসূচির জ্যেষ্ঠ প্রোগাম ম্যানেজার রাশিদা পারভীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিমানে ঢাকায় পৌঁছান ওয়াসফিয়া।

সম্মেলনে ওয়াসফিয়া জানান, তিনি দেশের নারী প্রগতির ৪০ বছর উদযাপনের অংশ হিসেবে ‘বাংলাদেশ অন সেভেন সামিট ক্যাম্পেইন’ শীর্ষক এই অভিযাত্রা শুরু করেন।

এরই মধ্যে ওয়াসফিয়া অ্যান্টার্কটিকাসহ ৪টি মহাদেশের শীর্ষ পর্বতচূড়া জয় করেছেন। বর্তমানে ব্র্যাকের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করবেন।

সম্মেলনে অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “কানাডায় ৩ সপ্তাহের ট্রেনিং শেষে ২০১২ সালের ২৯ ডিসেম্বর অ্যান্টার্কটিকা পৌঁছানোর পর পাহাড়ে উঠতে আমার আরও ৬ দিন সময় লাগে। এভারেস্টের চেয়ে ভিনসন ম্যাসিফের মূল পার্থক্য পরিবেশ। কারণ, মাইনাস ৩৫ থেকে ৪৫ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সেখানে আরোহন করতে হয়েছে। সবকিছুই বরফে ঢাকা।”

তিনি আরও বলেন, “অভিযানকালে আমার গাইড প্যাট্রিক মোরো পড়ে যায়। নানা ঝুঁকির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এভারেস্টের চেয়ে এ অভিযান অনেক ভিন্ন। অনেক পথ হেঁটে উঠতে হয়েছে। কত মিটার বলতে পারবো না। কিন্তু উচ্চতা ৪ হাজার ৮৯৩ মিটার।”

এসময় দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী হিসেবে সেভেন সামিট জয়ের আশা প্রকাশ করে ওয়াসফিয়া বলেন, “আর্থিক সহযোগিতা পেলে এটি সম্ভব হবে।”
 
প্রথম এভারেস্ট জয়ী এই বাংলাদেশি নারী আরও বলেন, “আমার বিশাস, নারীর ক্ষমতায়নে এটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ দেবে। এতে বাংলাদেশের আরও ১০ জন মেয়ের জীবনে হয়ত পরিবর্তন আসবে। তবে ভাবতে হবে, আমরা অনেক পেছনে আছি। আরও অনেক পথ যেতে হবে।”

ওয়াসফিয়াকে অভিনন্দন জানিয়ে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন বলেন, “বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমার মনে হয়, এর মূল কারণ এখানকার নারীদের ক্ষমতায়ন। ওয়াসফিয়া সেক্ষেত্রে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সে এখন তরুণদের আদর্শে পরিণত হয়েছে।”

সম্মেলনে ওয়াসফিয়া গত বছরের ৮ নভেম্বর তার হাতে ভিনসন ম্যাসিফ অভিযানের জন্য তুলে দেওয়া বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা আবার তুলে দেন ব্র্যাক কর্তৃপক্ষের কাছে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন