দুর্নীতি কেবল টাকা লেনদেনই নয়: ইফতেখারুজ্জামান

0
107
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২২জানুয়ারী) : দুর্নীতি কেবল টাকা লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, ক্ষমতার অপব্যবহার করাও এক ধরণের দুর্নীতি বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ‘র (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) গোলটেবিলে ‘নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের বন্দোবস্তপ্রাপ্ত ভূমিহীনদের বঞ্চণা তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধি দল গত ১৭ থেকে ২০ নভেম্বর ২০১২ পর্যন্ত নীলফামারী জেলার ওই অঞ্চলে সরেজমিনে অনুসন্ধান চালায়।

তিনি বলেন, “টিআইবি’র একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমি প্রশাসন সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। উত্তরাধিকারী বা ক্রয়সূত্রে জমির মালিক বিভিন্ন সময় যারা ভূমি অফিসে গিয়েছেন তাদের ৫৫ ভাগ মানুষ তাদের কাজ করাতে দুর্নীতির শিকার হয়েছেন।”

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে উন্নয়নের তথ্য দিতে গিয়ে বলেছেন, জন প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা জনগণের সেবক। কিন্তু যেসব প্রশাসনিক কর্মকর্তা ভূমিহীনদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করছে তারা একদিকে যেমন দায়িত্বে অবহেলা, সংবিধান লঙ্ঘন-  অন্যদিকে রাষ্ট প্রধানের নির্দেশ অমান্য করছে।”

ইফতেখারুজ্জামান প্রশ্ন করে বলেন, স্বাধীনতার ৪১ বছর পর ভূমিহীন মানুষ কেন তাদের রাষ্ট্রীয় অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন?

তিনি আরো বলেন, “স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে যেমন বিচার বহির্ভূত অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে যুদ্ধাপরাধীর বিচার করা হয়েছে একইভাবে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর যোগসাজসে যারা দায়িত্বে অবহেলা করছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাদের বিরুদ্ধে ত্রিমুখী আচরণ করেছে- তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

 

সংবাদ সম্মেলনে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের ভুক্তভোগী মো. শফিকুল ইসলাম, মো. মনিক শেখ, মোছা. হাসিনা বেগম ও মোছা. মফিদুল অভিযোগ করে বলেন, “খাস জমির কবুলিয়ত দলিল হাতে পাওয়ার ১৩ বছর পরেও আমরা জমির দখল পাইনি। স্থানীয় প্রভাবশালী মহল জমি দখল করে রয়েছে। জমির দখল চাইতে গেলে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে দখলকারীরা।”
 
তারা আরো অভিযোগ করেন, “জমির দখল পাওয়ার জন্য ২০১২ সালের ২০ মার্চ স্থানীয় ভূমিহীন মো. মোন্নাফ হোসেনকে আহ্বায়ক করে একটি ভূমি অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মজিদের কাছে অভিযোগ নিয়ে গেলে তিনি ছেঁড়া পোশাক পরে তার দফতরে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে কোনো কথা না শুনেই অপমান করে বের করে দেন।”

প্রসঙ্গত, আয়োজক সংগঠনের তথ্যানুসন্ধানী দল তাদের তৈরি প্রতিবেদন নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে ভূমিহীনদের অপমান করার কথা স্বীকার করেন । ভূমিহীনদের এই আচরণকে তিনি ‘ধৃষ্টতা’ বলে আখ্যায়িত করেন।

তথ্যানুসন্ধানী দলের কাছে জেলা প্রশাসক আরো বলেন, এত বছর পর জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া এত সহজ নয়। তাছাড়া এত বছরে ঐসব জমি অন্য কারও নামে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েও থাকতে পারে আর এ রকম হলে প্রথম যিনি বন্দোবস্ত পেয়েছিলেন তার নাম বাদ দেওয়া হবে।

ভূমিহীনদের অপমান করার বিষয়টি সংবাদপত্রে আসার পরও জেলা প্রশাসক ভালভাবে না নিয়ে তার দ‍ায়িত্ব ও কর্তব্যকে আড়াল করতে ভূমিহীনদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

এ সময় ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের কবুলিয়তপ্রাপ্ত ভূমিহীনদের জমির দখল বুঝিয়ে দিতে কার্যকর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, যারা এখনও দলিল বা জমি পায়নি তাদের নীলফামারী জেলার পরিত্যাক্ত অন্য খাস জমি বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করেন বক্তারা।

অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), ব্লাস্ট, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), নিজেরা করি, একশন এইড বাংলাদেশ এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) যৌথভাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন নিজেরা করি-এর সমন্বয়ক খুশী কবির, ব্লাস্টের অনারারি ডিরেক্টর ব্যারিস্টার সারা হোসেন, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শাসসুল হুদা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সিনিয়র উপ-পরিচালক অ্যাড. নিনা গোস্বামী প্রমুখ।

নিউজরুম

শেয়ার করুন