‘বিরোধী দল নিশ্চিহ্ন করতে মানবতাবিরোধী বিচার জনগণ মানবে না’

0
84
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২২জানুয়ারী) : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম বলেছেন, আসুন সব মানবতাবিরোধীর বিচার করি। গুটি কয়েক চিহ্নিত বিরোধীদলকে নিশ্চিহ্ন করতে যদি মানবতাবিরোধীদের বিচার হয় তাতে জাতীয় ঐক্য হবে না। সে বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এমন বিচার জনগণ মেনে নেবে না।

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৭৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে বারোটায় রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী মহিলা দল আয়োজিত ‍আলোচনা সভায প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে তরিকুল আরো বলেন, “বিচার হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। এই বিচারের বিশ্বাসযোগ্যতা ‍থাকতে হবে।”

জিয়াউর রহমানের দল বিএনপিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও অসাম্প্রদায়িক দল উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার যেন কোনো দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য না হয়। হলে দেশের মানুষ তা মানবে না।”

দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন আমরা পাপমোচন করি। এখনও মানবতা ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে। চলছে হত্যা, খুন। আসুন সব মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করি। যদি গুটি কয়েক চিহ্নিত বিরোধী দলকে নিশ্চিহ করতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করা হয়, তবে জাতীয় ঐক্য হবে না। এ বিচার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। এ বিচার জনগণ মানবে না।”

মহিলা দল সভাপতি নুরে আরা সাফার সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ঢ‍াকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রোভিসি অধ্যাপক আনম ইউসুফ হায়দার, সংরক্ষিত আসনের সাংসদ রেহেনা আক্তার রানু প্রমুখ।

“সরকার উন্নয়নের আত্মতৃপ্তিতে ঢেঁকুর তুলছে” মন্তব্য করে তরিকুল বলেন, “স্বাধীনতা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ব্যর্থ হয়েছিল। আর জিয়াউর রহমান হয়েছিলেন সফল। আওয়ামী লীগ এবারও অনেক ওয়াদা দিয়ে ক্ষমতায় এসে সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।”

রক্ষীবাহিনীর ৪০ হাজার মুক্তিযোদ্ধার হত্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই মুক্তিযোদ্ধাদের পিতামাতারা এখনও স্বপ্ন দেখছেন তাদের সন্তান হয়তো ফিরে আসবে।”

তরিকুল বলেন, “শেখ হাসিনা বলছেন-পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার বরতে চাই না। এমন বক্তব্যকে স্বাগত জানাই। কিন্তু হারুন নামে যে পুলিশ কর্মকর্তা বিএনপির ডাকা হরতালে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুককে লাঞ্ছিত করলো তাকে কেন পদক দিলেন?” ‍

তিনি বলেন, “বিশেষ এলাকার পুলিশ যা ইচ্ছা তাই করছে। ছাত্রলীগকে খুনের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এসব বন্ধ করুন।”

তরিকুল বলেন, “পুলিশকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে আপনাদের-আমাদের কারো জন্যই ভাল হবে না। সে আগুন আপনাদের ঘরে ও বাইরে জ্বলবে।”

প্রধানমন্ত্রীর ভাল কাজ ও আইনের শাসনের দাবিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “জনগণের ভোটের অধিকার চাইতে গিয়ে যদি মির্জা ফখরুলকে জেলে যেতে হয়, তাহলে দেশে আইনের শাসন বলতে কিছু থাকে না।”

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তরিকুল বলেন, “আপনি যদি দেশের মানুষের ভালো চান তবে তত্ত্বাবধায়কের অধীনে নির্বাচন দিন।দেশের মানুষ আপনাকে যদি আবারো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করে তবে আপনাকে স্যালুট জানাবো।”

তিনি বলেন, “আপনার ভয় কোথায়? আপনি কেন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিচ্ছেন না?”

দেশবাসীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আসুন আমরা নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সবাই এক হয়ে এমন আন্দোলন গড়ে তুলি, যাতে সে আন্দোলন স্ফ‍ূলিঙ্গ হয়ে দাবানলে পরিণত হয়।”

নিউজরুম

শেয়ার করুন