ভোক্তা অধিকার আইনের কার্যকারিতা সময়ের দাবি

0
113
Print Friendly, PDF & Email

১৯ জানুয়ারি, ২০১৩।।

সরকার এক দিনের জন্যও নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে পারেনি। মজুদদার, মুনাফাখোর ও সিন্ডিকেট চক্রকে দায়ী করে প্রায়ই বক্তব্য দেয়া হয়। আবার বিশ্ববাজারের সাথে সঙ্গতি-অসঙ্গতির প্রশ্নও তোলা হয়। তার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। অনেক সময় মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার দোহাই দেয়া হয় শুধু নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার বিষয়টি বৈধ বলার জন্য। টিসিবিও বাজার স্থিতিশীল রাখার মতো সক্ষমতায় নেই। আমাদের আইনগুলোও কোনো কার্যকর অবস্থায় নেই।  ফলে ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণের কোনো পদক্ষেপ পরিলক্ষিত হয় না। প্রতিনিয়ত খর্ব হচ্ছে ভোক্তার অধিকার। আইন থাকলেও তা কাজে আসছে না। বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যে ক্ষতিকারক রাসায়নিক মিশ্রণ হচ্ছে কিন্তু আইনের শিথিল প্রয়োগও নেই। এসব খাবার খেয়ে মানুষের স্বাস্থ্যহানি ঘটছে, তার পরও কোনো প্রতিকার নেই। ভেজাল মিশ্রণ ও ওজনে কম দেয়ার প্রবণতা যেন স্বাভাবিক হয়ে গেছে, কিন্তু ভোক্তাদের অধিকার নিয়ে কেউ কথা বলার নেই।

অথচ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ প্রণয়ন করা হয়েছিল ভোক্তাস্বার্থ সংরক্ষণের জন্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভেজাল মিশ্রণের মাধ্যমে অসাধু পন্থা অবলম্বনপূর্বক অধিক মুনাফা অর্জনের প্রবণতা রোধকল্পে সারা দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটি গঠনের বিধান ওই আইনে সন্নিবেশিত করা হয়েছিল। তাতেও সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। এত কিছুর পরও প্রতিনিয়ত খর্ব হচ্ছে ভোক্তার অধিকার। সবাই একমত যে, খাদ্যে ভেজাল মেশানো ফৌজদারি অপরাধ। কিন্তু অপরাধীর শাস্তি সম্পর্কে সবাই উদাসীন।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও মনে করেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিকার না চাইলে তারা উৎসাহিত হয়। এ জন্য খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা উচিত বলেও তিনি মনে করেন। তার পরও বলা হয়, খাদ্যে ভেজাল রোধে আইন কার্যকর করতে নাগরিকদেরই এগিয়ে আসতে হবে।

ভোক্তা অধিকার আইন নিয়েও অনেক বিতর্ক রয়েছে। তার পরও যতটুকু আইন রয়েছে তা কার্যকর করা জরুরি। বিশেষত ভোক্তা অধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে নাগরিকদের ওপর দায় না বর্তিয়ে সরকারকেই নজরদারি ও খবরদারি বাড়ানো উচিত। সেই সাথে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনের পাশাপাশি অন্য দিকগুলোও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। বিশেষত বাজার স্থিতিশীল রাখার গরজে টিসিবিকে সক্রিয় করা, ব্যবসায়ীদের নিয়ে মতবিনিময়, বাজারের ওপর তদারকি বাড়ানো ও বাজারজাতকরণে চাঁদাবাজি এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি মগজে নিতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে, যা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন