আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়েই শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

0
76
Print Friendly, PDF & Email

টঙ্গী, (১৩ জানুয়ারী) : বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে বিশ্ব মুসলিমের শান্তি কামনা করা হয়েছে। রোববার বেলা ১২টা ৫৬ মিনিটে মুনাজাত শুরু হয়। শেষ হয় ১টা ২২ মিনিটে। ২৪ মিনিট স্থায়ী এই মোনাজাতে দুহাত ঊর্ধ্বমুখী করে বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নেওয়া কয়েক লাখ মুসল্লি বারবার বলছিলেন, আমিন আমিন।

মোনাজাতের সময় এই ধ্বনিতে পুরো টঙ্গী এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে। jibon-26

আর মোনাজাত পরিচালনাকারী ভারতের মাওলানা জোবায়েরুল হাসান দোয়া করলেন বিশ্ব মুসলিমের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের জন্যও দোয়া করা হলো। আর এই আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়েই শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব। দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব শুরু হবে আগামী ১৮ জানুয়ারি। শেষ হবে ২০ জানুয়ারি।

বিশ্বের ১০৭টি দেশের প্রায় ৪২ হাজার বিদেশি মেহমানসহ প্রায় কয়েক লাখ মানুষ এতে অংশ নেন। কয়েকটি স্যাটেলাইট টেলিভিশনে সরাসরি মোনাজাত সম্প্রচারের ফলে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে মোনাজাতে শরিক হতে পেরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি মিশনের কর্মকতার্, বর্তমান ও সাবেক মন্ত্রিপরিষদের সদস্য বর্গসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ মোনাজাতে শরিক হন।

হেদায়াতি বয়ান
সকাল ৯টা থেকে মোনাজাতের আগে চলে হেদায়াতি বয়ান। হেদায়াতি বয়ান করেন ভারতের মাওলানা সা’দ। বয়ানে তিনি বলেন, আল্লাহর গজবের বড় স্থান হচ্ছে জাহান্নাম। তিনি আল্লাহর রাস্তায় (তাবলীগে) দাওয়াতি কাজে পায়ে হেটে মানুষের কাছে দাওয়াত পৌঁছে দেওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ পায়ে হেটে বেশি মানুষকে দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া সম্ভব হবে। এতে পায়ে যে ধূলাবালি লাগবে তা জাহান্নামের আগুনকে ঠাণ্ডা করে দেয়।

তিনি তাবলিগের দাওয়াতি কাজে গিয়ে মানুষের কাছে ইহজগতের জন্য ছওয়াল করতে বারণ করে বলেন, যে জামাত ছওয়াল করে আল্লাহর সাহায্যের দরজা তাদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। ছওয়াল করলে দিলে শয়তান স্থান পায়। দাওয়াতি কাজে সবচেয়ে বড় কাজ হলো নিজের নিয়তকে সহি করা এবং অন্যের কাছে ছওয়াল না করা।  

বয়ানের তাৎক্ষণিক অনুবাদ :

বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের তাবলিগ মারকাজের ১৫-২০জন শুরা সদস্য ও বুজর্গ বয়ান পেশ করবেন। মূল বয়ান উর্দূতে হলেও বাংলা, ইংরেজি, আরবি, তামিল, মালয়, তুর্কি ও ফরাসি ভাষায় তাৎক্ষণিক অনুবাদ হচ্ছে। বিদেশি মেহমানদের জন্য মূল বয়ান মঞ্চের উত্তর, দক্ষিণ ও পূর্বপাশে হোগলা পাটিতে বসেন। বিভিন্ন ভাষাভাষি মুসল্লিরা আলাদা আলাদা বসেন এবং তাদের মধ্যে একজন মুরুব্বি মূল বয়ানকে তাৎক্ষণিক অনুবাদ করে শোনান।

mosarof-16১১ মুসল্লির জানাজা
শীত ও অন্যান্য রোগে ইজতেমা ময়দানে গত তিন দিনে ১১জন মুসল্লি মারা গেছেন। এদের মধ্যে একজন ভারতীয় মুসল্লি রয়েছেন,তার নাম, রফিক উদ্দিন(৭০)। এছাড়া- কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার পষা গ্রামের আব্দুল হামিদ (৭৫) ও চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানার ঘরদুয়ারা গ্রামের আব্দুল মোতালেব (৬০)। মোঃ ফজলুল হক মোল্লা(৬৫) নামে আরেক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তার পিতা নাম সাব্বির আলী গ্রাম কয়রা থানা আলফাডাঙ্গা জেলা চূয়াডাঙ্গা। শনিবার সকাল ৬টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ইজতেমা ময়দানে সামসুল হক(৬০) নামে আরও এক মুসল্লির মৃত্যু হয়। তিনি নরসিংদীর রায়পুরা থানার রামবড়চর এলাকার বাসিন্দা।

রোববার সকালে টঙ্গী হাসপাতালে সুরত আলী খান (৭৫) এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এছাড়া, চান মিয়া(৬০),জামাল উদ্দিন শেখ(৬৫)খলিলুর রহমান(৮০) আলাউদ্দিন শেখ(৪৬)আবুল খায়েরের(৪৬)মারা যাওয়ার বিষয়টি ইজতেমা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের পুলিশ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। এ নিয়ে এবারের ইজতেমায় এ পর্যন্ত ১১জন মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেত্রীর অংশ গ্রহণ
অন্যদের মধ্যে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসল্লিদের যাতায়তের সুবিধার্থে যানজট এড়াতে গণভবনে বসে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মোনাজাতে অংশ নিয়েছেন বলে জানা গেছে। বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া এটলাস  হোন্ডা কারখানা ভবনে বিশেষ মঞ্চে মুনাজাতে অংশ নিতে উপস্থিত হন ১১টা ২৫ মিনিটে।

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার ভোর থেকেই টঙ্গীর ইজতেমা অভিমুখে শুরু হয় মানুষের ঢল। টঙ্গীর পথে শনিবার মধ্যরাত থেকেই ঢাকা-ময়মনসিং মহাসড়কে গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মোনাজাতে অংশ নিতে চার দিক থেকে লাখ লাখ মুসল্লি পায়ে হেঁটেই ইজতেমাস্থলে পৌঁছেন।

সকাল ১০টার আগেই ইজতেমা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে মুসুল্লিরা মাঠের আশে-পাশের রাস্তা, অলি-গলিতে অবস্থান নেন। ইজতেমা স্থলে পোঁছুতে না পেরে কয়েক লাখ মানুষ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মোনাজাতের জন্য পুরনো খবরের কাগজ, পাটি, সিমেন্টের বস্তা ও পলিথিন বিছিয়ে বসে পড়েন।

এছাড়াও পাশ্ববর্তী বাসা-বাড়ি-কলকারখানা-অফিস-দোকানের ছাদে, যানবাহনের ছাদে ও তুরাগ নদীতে নৌকায়  মুসুল্লিরা অবস্থান নেন। যে দিকেই চোখ যায় সেদিকেই দেখা যায় শুধু টুপি-পাঞ্জাবি পড়া মানুষ । সবাই অপেক্ষায় আছেন কখন শুরু হবে সেই কাক্সিক্ষত আখেরি মোনাজাত। ইজতেমা স্থলের চারপাশের ৩-৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কোথাও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। আখেরি মোনাজাতের জন্য রোববার আশে-পাশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানাসহ বিভিন্ন অফিস-আদালতে ছিল ছুটি। কোন কোন  প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা না করলেও কর্মকর্তাদের মোনাজাতে অংশ নিতে বাধা ছিল না। নানা বয়সী ও পেশার মানুষ এমনকি মহিলারাও ভিড় ঠেলে মোনাজাতে অংশ নিতে রোববার সকালেই টঙ্গী এলাকায় পৌঁছেন।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা
টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উপলক্ষে সরকার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা  ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এর মধ্যে বিভিন্ন ভাবে প্রায় ১২ হাজারের মত আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত ছিলেন। ইজতেমাস্থলে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে বেশ সুউচ্চ ক’টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার বসানো হয়। র্যাব সদস্যরা ওইসব টাওয়ার থেকে ইজতেমাস্থল পর্যবেক্ষণ করেন। আকাশে হেলিকপ্টারে ও তুরাগ নদীতে স্পিড বোটের টহলের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া মুসুল্লিবেশে গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে ও খিত্তার মুসল্লীদের মাঝে অবস্থান করছেন। jibon-23

এছাড়া মাঠের প্রবেশ পথে ও আশে-পাশের এলাকায় ছিল পুলিশ, র্যাব ও সাদা পোশাকধারী পুলিশসহ গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা কড়া নজরদারি। প্রতিটি গেট ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ও ভিডিও ক্যামেরা বসানো হয়। মাঠের উত্তরপাশে স্থাপিত র্যাবের কন্ট্রোলরুম থেকে এসব ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হয়। র্যাব ছাড়াও পুলিশ ও জেলা প্রশাসন এবং টঙ্গী পৌরসভার উদ্যোগে ইজতেমা এলাকায় পৃথক কন্ট্রোলরুম স্থাপন করা হয়। মাঠে প্রবেশকালেও মুসল্লিদের (সন্দেহভাজনদের) মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।      

ভ্রাম্যমাণ আদালত:

১৪ টি ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৪ ঘণ্টা ইজতেমা ময়দানে কাজ করছে। বিশ্ব ইজতেমায় বিশুদ্ধ খাবার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৩টি মামলা করে ২লাখ ২৫ হাজার টাকার মত জরিমানা আদায় করেন।

স্বাস্থ্য সেবা
ইজতেমা ময়দানে ৪৪টি ফ্রি মেডিক্যাল টিম স্থাপিত হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নির্মিত ৮টি পল্টুন ব্রিজ প্রতিবারের ন্যায় নির্মিত হয়েছে। অতিরিক্ত ৪টি ট্রান্সফরমার,৩টি ফিডার ও ৫টি শক্তিশালী জেনারেটর ইজতেমা ময়দানে মুসল্লিদের সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়। ঢাকা ওয়াসার পাশাপাশি ১২টি গভীর নলকূপ স্থাপন করে পানি সরবরাহের জন্য ১৩ কিঃ মিঃ পাইপ লাইন স্থাপনের  কাজ সম্পন্ন করা হয়। ইজতেমা ময়দানে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ৪ হাজার ১৩৮ জন কে  জনকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগের ইজতেমা বিভাগের সম্বনয়ক সাকিল হোসেন।

এদিকে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে মোট ৪১ জনকে গ্রেফতার করা হয়ে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) ইসমাইল হোসেন।

৪২হাজার  বিদেশি মুসল্লি
ইজতেমায় মিসর, ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব-আমিরাত, কাতার, অস্ট্রেলিয়া, ব্রনাই, কানাডা, কম্বোডিয়া, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, জার্মানি, ইরান, জাপান, মাদাগাস্কার, মালি, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, পানামা, সেনাগাল, দঃ আফ্রিকা, তাঞ্জেনিয়া, ত্রিনিদাদ, রাশিয়া, আমেরিকা, জিম্বাবুই, বেলজিয়াম, ক্যামারুন, চীন, কমোরেস, ফিজি, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, ইটালি, কেনিয়া, মালয়শিয়া, মায়ানমার, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, সুইডেন, থাইল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, জাম্বিয়া, কোরিয়া, আলজেরিয়া, ইথিওপিয়া, ইরাক, ফিলিস্তিন, কুয়েত, মরক্কো, কাতার, সোমালিয়া, সিরিয়া, তিউনিসিয়া, ইয়েমেন, পাকিস্তান, বাহরাইন, ইরিত্রিয়া, জর্দান, মৌরিতানিয়া, ভারত, সুদান, দুবাইসহ বিশ্বের ১০৭টি রাষ্ট্রের ৪২ হাজার মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। বিভিন্ন ভাষা-ভাষী ও মহাদেশ অনুসারে ইজতেমা ময়দানে বিদেশি মেহমানদের জন্য মোট ৩টি ট্যান্ট নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়।mosarof-13

মুসল্লিদের অবস্থান
প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান ইজতেমা মাঠে অবস্থান করেন। ১ম পর্বে ৩২ জেলার মুসল্লিরা জেলাওয়ারী মাঠের ৪০টি খিত্তায় অবস্থান করেন। জেলা গুলো হলো, ১ ও ২ নম্বর খিত্তায় গাজীপুর জেলা, ৩ থেকে ১২ নম্বর খিত্তায় ঢাকা জেলা, ১৩ নম্বর খিত্তায় সিরাজগঞ্জ জেলা, ১৪ নম্বর খিত্তায়- নরসিংদী জেলা, ১৫ নম্বর খিত্তায় ফরিদপুর, ১৬ নম্বর খিত্তায় রাজবাড়ি, ১৭ নম্বর খিত্তায়- শরিয়তপুর, ১৮ নম্বর খিত্তায় কিশোরগঞ্জ, ১৯ নম্বর খিত্তায় রংপুর, ২০ নম্বর খিত্তায় নাটোর, ২১ নম্বর খিত্তায়- শেরপুর, ২২ নম্বর খিত্তায় রাজশাহী, ২৩ নম্বর খিত্তায় গাইবান্ধা, ২৪ নম্বর খিত্তায় জয়পুরহাট, ২৫ নম্বর খিত্তায় লালমনিরহাট, ২৬ নম্বর খিত্তায় হবিগঞ্জ, ২৭ নম্বর খিত্তায় দিনাজপুর, ২৮ নম্বর খিত্তায় সিলেট, ২৯ নম্বর খিত্তায় চাঁদপুর, ৩০ নম্বর খিত্তায় ফেনী, ৩১ নম্বর খিত্তায় চট্টগ্রাম, ৩২ নম্বর খিত্তায়- বান্দরবন, খাড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি, ৩৩ নম্বর খিত্তায় বাগেরহাট, ৩৪ নম্বর খিত্তায় কুষ্টিয়া, ৩৫ নম্বর খিত্তায় নড়াইল, ৩৬ নম্বর খিত্তায় চুয়াডাঙ্গা, ৩৭ নম্বর খিত্তায় যশোর, ৩৮ নম্বর খিত্তায় ভোলা, ৩৯ নম্বর খিত্তায়- বরগুনা এবং ৪০ নম্বর খিত্তায়-ঝালকাঠি জেলার মুসুল্লিরা অবস্থান নেবেন।

অন্যান্য সেবা
ইজতেমাস্থলে সাবক্ষণিক পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্যে ওয়াপদা, ওয়াসা ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বেশ ক’টি জেনারেটর স্থাপন করে। ইজতেমা চলাকালে মুসল্লিদের অজু, গোসল, রান্না-বান্না টয়লেটের কাজের জন্য বেশ ক’টি পাম্পের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পানি সরবরাহের পাশাপাশি ট্যাঙ্কার ও ট্রলির মাধ্যমে এবং তুরাগ নদীর পশ্চিম পাড়ে স্থাপিত পানি বিশুদ্ধকরণ প¬্যান্ট ট্যাঙ্কারের মাধমে প্রয়োজনীয় বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও প্যান্ডেল (সামিয়ানা) এবং এর আশে-পাশে স্থাপিত হয়েছে ১২টি গভীর নলকূপ।  

হেলিকপ্টার টহল
শুক্রবার থেকে শুরু হয় র্যাবের হেলিকপ্টার টহল। কিছু সময় পর পর ১টি হেলিকপ্টারকে পুরো ইজতেমাস্থল  ও এর আশে-পাশের এলাকায় চক্কর দিতে দেখা গেছে।এটি রোববার পর্যন্ত দেখা গেছে। র্যাবের উপ-পরিচালক লেঃ কঃ রাশেদুল আলম জানান, তুরাগ নদীতে নৌ-টহল। আর আকাশ পথে হেলিকপ্টার টহল দেওয়া হচ্ছে।

ইজতেমাকে কেন্দ্র করে ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা ইজতেমা মাঠের আশে-পাশে অস্থায়ী হোটেল, কাঁচা বাজার, নানা ধরনের কাপড় ও রকমারি পণ্য সামগ্রীর বাজার বসিয়েছে। এছাড়াও টঙ্গীর আশে-পাশের মার্কেটের বিভিন্ন স্থায়ী হোটেল ও দোকানে চলছে জমজমাট ব্যবসা।  এসব হোটেল ও বাজারে খাদ্য মান ও দ্রব্য মূল্য যাচাইয়ে বেশ ক’টি ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করছে।

mosarof-11smহোগলা পাটির বাজার- বছরের অন্য সময় হোগলার চাটাইয়ের তেমন কদর না থাকলেও ইজতেমা উপলক্ষে এর দাম বেড়ে যায়। ইজতেমার বাজার ধরতে ব্যবসায়ীরা ১-২মাস আগে থেকে হোগলা পাতা সংগ্রহ চাটাই বুননের কাজ শুরু করেন। ইজতেমায় বিক্রির জন্য  নোয়াখালীর নাছির ডুগী এলাকা থেকে ৫শ’ হোগলার চাটাই নিয়ে এসেছেন আ. মতিন নামের এক ব্যবসায়ী। ছোট থেকে বড় সাইজের চাটাই তিনি ৩০ থেকে ৮০টাকা বিক্রি করছেন। অন্য সময় তা অর্ধেক দামেও বিক্রি হয় না।

অস্থায়ী বাজার- মন্নু কারখানার দক্ষিণে  ও আশরাফ স্কুলের পশ্চিম পাশে খোলা জায়গায় বসেছে নানা পণ্যের অস্থায়ী বাজার। এখানে কম্বল, স্যান্ডেল, পাজমা-পাঞ্জাবি, হাড়ি-পাতিল, চুলা, কাঁচা বাজারসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে। তবে এ সব বাজারে বেশি দরে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তারপরও প্রয়োজনের তাগিদেই দেশি-বিদেশি মুসল্লি তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে এসব বাজারে ভিড় করছেন। আফ্রিকা থেকে আসা তিন মুসল্লি ওমর, ইসা ও মিসের আলী শুক্রবার ওই বাজারে গেলেন স্যান্ডেল কিনতে। কিন্তু দোকানী তাদের কাছ থেকে ৮০-১০০টাকার প্লাস্টিকের স্যান্ডেলের দাম রেখেছেন ১৪০ টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ব্যবসায়ী জানান, তাদের জায়গা ভাড়া নিতে হয়েছে চড়া মূল্যে। ১০বর্গহাত আকারের একটি দোকানের ভিট ১০দিনের জন্য ৩০হাজার টাকায় ভাড়া নিয়েছেন।   

মোবাইল মোনাজাত
ইজতেমা স্থলে যেতে পরিবহন সংকট ও ভিড় এড়াতে গাজীপুরের কয়েকটি স্থানে এলাকাবাসী মোবাইল ফোনে  মোনাজাতে অংশ নেয় বলে জানা গেছে। ইজতেমার মূল মাঠ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে গাজীপুর সদরের চান্দনা চৌরাস্তা ঈদগাহ ময়দানে কয়েক হাজার মুসল্লি জমায়েত হন। পরে তারা মোবাইল ফোন ও পুলিশের ওয়াকিটকির মাধ্যমে  ইজতেমা স্থলে যোগাযোগ রক্ষা করে বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে শরিক হয়েছেন। একই ভাবে জেলার ভোগড়া, বাসন সড়ক ও শিমুলতলী এলাকায় মোবাইল মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

যান ও জনজট
আখেরি মোনাজাত শেষ হওয়ার পরপরই বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়া মানুষ একযোগে নিজ নিজ গন্তব্যে ফেরার চেষ্টা করেন। মুসল্লিরা শুরু করে দেয় হুড়োহুড়ি এবং আগে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। এতে টঙ্গীর আশে-পাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে সৃষ্টি হয় জনজট ও যানজট। ফলে আবারো পায়ে হেটে রওনা দেয় মুসল্লিরা। আর পাঁয়ে হাঁটা মুসল্লিদের চাপে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মুসল্লিদের যানবাহন ইজতেমা মাঠের আশে-পাশের এলাকায় থেমে আছে। তারা ভিড় কমলে রওয়ানা হবেন।

কয়েক হাজার পরিত্যক্ত জুতা
আখেরি মোনাজাত শেষে হুড়োহুড়ি করে বের হতে গিয়ে কয়েক হাজার জুতা-স্যান্ডেল ফেলেই মাঠ ত্যাগ করেন মুসল্লিরা। মোনাজাত শেষে আশে-পাশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে কয়েক হাজার জুতা-স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখা গেছে। আর টোকাইদের বস্তায় ভরে ওইসব জুতা-স্যান্ডেল নিয়ে যেতে দেখা যায়।

নিউজরুম

শেয়ার করুন