ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে আসছেন ভারতীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
74
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (১২জানুয়ারী) : ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিনধে আগামী ২৮ জানুয়ারি ঢাকা আসছেন। সিনধের তিন দিনের সফরে বাংলাদেশ ভারতের ভিসা সহজীকরণ ও বন্দী হস্তান্তর চুক্তি হবে। ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।

ভারতের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২৮ থেকে ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর ও ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিনধে চুক্তি দুটি সই করবেন।

সংশোধিত ভ্রমণ ভিসা নামের নতুন ভিসা চুক্তিতে ব্যবসায়ী, ৬৫ বছরের বেশি বয়স্ক ও ১২ বছরের নিচে বয়সের শিশুদের ভিসার ওপর থেকে কড়াকড়ি শিথিল করা হবে।

সংশোধিত ভ্রমণ ভিসা চুক্তি হলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সহজে একাধিক ভিসা, পর্যটকরা দলীয় ভিসা সহজে পাবেন। চিকিৎসা নিতে রোগীদের সঙ্গে একজন যাওয়ার যে কড়াকড়ি রয়েছে সেটিও শিথিল হবে। ভিসার সময়ও বাড়ানো হবে।

বর্তমানে ভারত সরকার বাংলাদেশি পর্যটকদের সর্বোচ্চ ছয় মাসের টুরিস্ট ভিসা দেয়। আর চিকিৎসার জন্য ভ্রমণের ক্ষেত্রে রোগীর সঙ্গে যেতে পারেন একজন।

গত বছরের অক্টোবরে ঢাকায় ‍দুই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকের সময় নতুন ভিসা চুক্তির প্রস্তাবটি আসে। পাকিস্তানের সঙ্গে ভিসা সহজীকরণ চুক্তির একমাস পরেই প্রস্তাবটি তোলা হয়।

বন্দী হস্তান্তর চুক্তি করতে অনেক দিন থেকে কাজ করছে দুই দেশের সরকার। বন্দী হস্তান্তর চুক্তি হলে উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াসহ বাংলাদেশে আত্মগোপনে থাকা ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলের অনেক অপরাধীকে পাবে ভারত সরকার।

অন্যদিকে সুব্রত বাইন ও সাজ্জাদ হোসেনের মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে ভারত সরকার রাজি।

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গে সুব্রত বাইনকে গ্রেফতার করে ভারতীয় পুলিশ, আর ফাঁসির আসামি সাজ্জাদ গ্রেফতার হন অমৃতসরে। বাংলাদেশে এই দুই জনের বিরুদ্ধে বহু মামলা রয়েছে।

অনেক দিন থেকে অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তর করতে বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে আসছে ভারত। কিন্তু দুই দেশের বন্দী হস্তান্তর চুক্তি না থাকায় তা সম্ভব হয়নি। অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করার অভিযোগে ১৯৯৭ সাল বাংলাদেশের কারাগারে আটক রয়েছেন উলফার সাধারণ সম্পাদক। তিনি বাংলাদেশের কাছে নিরাপত্তাজনিত কারণে আশ্রয় চেয়ে আদালতে আবেদন করেছিলেন। এ আবেদনের কারণে তাকে  হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতার সৃষ্টি করে।

এক কর্মকর্তা বলেন, “বন্দী হস্তান্তর চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ সব আইনি প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে ফেলবে।”বাংলাদেশ ও ভারতের কারাগারে বন্দী থাকা অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন