মাইনাস টু শেষ, প্লাস ফোর হতে পারে: ব্যারিস্টার রফিক

0
36
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (১২জানুয়ারী) : বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেছেন, মাইনাস টু এর চিন্তা শেষ হয়েছে। এখন মাইনাস টু নয়, বরং প্লাস ফোর হতে পারে।  কিন্তু প্লাস ফোরের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি। শনিবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মানবাধিকার সংগঠন মুক্তচিন্তা আয়োজিত ‘একক বক্তৃতা’ অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক বাংলাদেশ বিষয়ে তিনি একথা বলেন।  

রফিক-উল হক বলেন, “সরকারের সর্বক্ষমতা নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের হাতে দেওয়া যেতে পারে। তবে এটি বাস্তবায়ন খুবই কঠিন।”তিনি বলেন, “দেশ খুব টারময়েলের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যা ঠিক করতে হলে দুই নেত্রীকে বসা দরকার। সাংবাদিকদের এই নিয়ে চেষ্টা করা দরকার। যে কোনো টেলিভিশন চ্যানেল একবার চেষ্টা করে দেখতে পারে। কারণ নির্বাচনের আর মাত্র ১০ মাস বাকি আছে। দুইনেত্রী যদি টেলিভিশনে বিতর্কে অংশ নেয় তাহলে অনেক সমস্যার সমাধান বের হয়ে আসতে পারে।’

রফিক-উল হক বলেন, দলের মধ্যে গণতন্ত্র আসতে হবে। তারা স্বৈরাচার হয়ে গিয়েছেন। তারা যা বলেন, দলে তাই হয়। তাদের বিরুদ্ধে কিছু বললে তার সদস্যপদই বাতিল হয়ে যাবে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার মতো লোককে নিম্ন আদালত জামিন দেয় না। আমরা মুখ দেখে বিচার করি। আইন কি বলে সেটি দেখা দরকার। লোকটাকে না দেখে।  

আগামী নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাঁচজন পাঁচজন করে ১০ জনকে নিয়ে অন্তবর্তী সরকার হতে পারে। এ ধরনের একটি সরকারের চিন্তা করা যেতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক মানেই ১/১১ হবে এটি ঠিক নয়। বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যদি ফখরুদ্দীন, মইন উ আহমেদরা ভালো কাজ করতেন তাহলে তারা দেশ ছেড়ে পালাতেন না। যদি দেশ ছেড়ে পালাতেই হয় তাহলে তা ভালো কাজের নমুনা নয়।   

আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে এক সঙ্গে বসাতে তিনি কোনো উদ্যোগ নেবেন কি না –সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, দুই পার্টিকে এক সঙ্গে বসানোর শক্তি ও সামর্থ্য আমার এখন নেই। অনেক বয়স হয়েছে।

মাইনাস টু শেষ

প্রবীন আইনজীবি ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, দেশে মাইনাস টু হওয়ার সম্ভাবনা শেষ হয়ে গিয়েছে। আমরা কাগজে দেখেছি মাইনাস টু হতে পারে। কিন্তু আমি মনেকরি মাইনাস টু হতে পারে না। বলা হচ্ছে-ওয়ান ইলেভেনের চেষ্টা করা হচ্ছে। আবার ১/১১ হতে পারে না কারণ এটি দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক মানেই আবার ১/১১। তার এই আশঙ্কা ঠিক নয়। আমি মনেকরি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সবকিছুই ঠিক হয়ে যাবে। যে নামেই নির্বাচন হোক, দেশের মানুষ একটি সুষ্ঠু, সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন চায়, সেটি যে নামেই হোক। আমি গ্রামে গিয়ে দেখেছি তারা একজন ভালো মানুষ খুঁজছে ভোট দেওয়ার জন্য।

ব্যারিস্টার রফিক-উল হক বলেন, আমরা টারময়েলের দিকে যাচ্ছি। এজন্যই দুই নেত্রীকে বসা দরকার। দেশ, জাতি ও জনগণের জন্য আলোচনায় বসা দরকার। দুই নেত্রীকে নিয়ে উম্মুক্ত আলোচনা করা যেতে পারে। বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে এ আয়োজন করা যেতে পারে।   

অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখা

ব্যারিস্টার রফিক বলেন, ১/১১ এর চিন্তা বাদ দিয়ে তিন দল মিলে (আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি) প্রতিনিধি নির্বাচন করে একটি অন্তবর্তী সরকার গঠন করে যদি নির্বাচন হয় তাহলে সমস্যা থাকার কথা নয়। আগামী নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাঁচজন পাঁচজন করে ১০ জনকে নিয়ে অন্তবর্তী সরকার হতে পারে। এ ধরনের একটি সরকারের চিন্তা করা যেতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক মানেই ১/১১ হবে এটি ঠিক নয়।   

নির্বাচিত ব্যক্তিকে দিয়েই অন্তর্বর্তী সরকার করা যেতে পারে। এর থেকে দুইজন দুইজন করে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারে। যদি এটাও না হয় তাহলে রাজনীতি করেন না এমন কাউকে দিয়ে সরকার গঠন করা যেতে পারে।

তিনি বলেন, ৬ বছরে এদেশের মানুষ বুঝতে পেরেছে ওই সরকার কত ক্ষতি করেছে। সেই চিন্তা থেকেই মানুষ এখন আর ১/১১ চায় না। তারা এমন কাজ করেছে, যে দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, দু’জনই দেশের ভালো চান। তারা দেশের ভালোর জন্যই রাজনীতি করেন। যেহেতু তারা দেশের ভালো চান সেজন্য তাদের বসতে হবে। নির্বাচনে বাকি আর ১০ মাস। নির্বাচনের আগে সব নির্বাহী ক্ষমতা কমিশনকে দিতে হবে। কিন্তু এটি বাস্তবায়ন কঠিন। এটি না করেও দেশে কেউ না কেউ আছে যারা ভালো লোক। স্বৈরাচারের চেয়ে বেশি

ব্যারিস্টার রফিক বলেন, আমাদের ঐহিত্য এমন হয়েছে দলের প্রধান যা বলবেন তাই হবে। এর বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করতে পারবে না। করলে তার সদস্য পদও থাকবে না, এমনকি দল থেকে বহিষ্কার করা হবে। এখানে যেকোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে দলের প্র্রধানকে সব দায়িত্ব দেয়। তাদের আচরণ মোর দ্যান ডিক্টেটরশিপ। দুই দলেই এই স্বৈরতন্ত্র রয়েছে। এজন্য দুই দলের মানসিকতার পরিবর্তন করা দরকার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক উন্নতি হয়েছে। দেশে আগে অনেক সমস্যা ছিল। যদি দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা না থাকতো তাহলে দেশের আরো অনেক দ্রুত উন্নতি হতো। সমসাময়িক যেসব সমস্যা তা আরো ঘনিয়ে আসছে। কারণ নির্বাচন সন্নিকটে। এটি সরকারের শেষ বছর। এটি দেশের এখন মূল সমস্যা। কারণ দুই পার্টি একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হয়ে এগ্রেসিভ কথা বলছে। আসলে একে অপরের প্রতি সহনশীল হওয়া উচিত।

তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ১/১১ আর আসবে না। প্রধানমন্ত্রী বললেও আসবে না। দুই নেত্রী বসে আলোচনা করলে সব ঠিক হয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য রাজনৈতিক। দুই নেত্রী না বসলেও তাদের পরবর্তী নেতারা বসে নির্বাচন কাঠামো তৈরি করতে পারেন, যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়।  

বিশ্বজিৎ হত্যা

বিশ্বজিৎ হত্যাকাণ্ড বিষয়ে তিনি বলেন, উচ্চ আদালত এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করতে বলেছে। কিন্তু পুলিশ গ্রেফতার করেছে ৫ জনকে। এ বিষয়ে পুলিশ যে রিপোর্ট দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, এই হত্যার সঙ্গে এরা জড়িত নয়। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, এই হত্যাকাণ্ডে ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়।

রফিক-উল হক মনে করেন রাজনীতি করে এমন কেউ এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে না। যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের অন্যায় দলগতভাবে স্বীকার করে অপরাধীদের দল থেকে বহিষ্কার করা উচিত।

শিক্ষকদের আন্দোলন   

শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশি নির্যাতনের বিষয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের দাবির প্রতি সমর্থন না দিয়ে তাদের ওপর গ্যাস স্প্রে করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সরকার বিনামূল্যে বই দিচ্ছে। বিশ্বের কোথাও এভাবে বই দেওয়া না। তবে স্বাস্থ্য খাতে তেমন উন্নতি হয়নি। কারণ অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা।  

মির্জা ফখরুল ও বিচারব্যবস্থা  

ফখরুলকে জেলে পুরলো। বিচার ব্যবস্থা স্বাধীন নয়। যদি স্বাধীনই হয়ে থাকে তাহলে নিম্ন আদালত তাকে কিভাবে জামিন প্রত্যাখ্যাত হয়। আমরা মুখ দেখে বিচার করি। আইন দেখে বিচার করা হয় না। কে কোন দলের তা দেখে বিচার করা উচিত নয়। বিচারকরা এটি করবেন এটাই আমরা আশা করি।

নিউজরুম

শেয়ার করুন