বিশৃঙ্খলা করে রাজনৈতিক বিষয়ের সমাধান সম্ভব নয়: হাসান মাহমুদ

0
134
Print Friendly, PDF & Email

চট্টগ্রাম (১১জানুয়ারী) : দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে কোন রাজনৈতিক বিষয়ের সমাধান করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী ড.হাসান মাহমুদ।

 

তিনি  বলেন, ‘ পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই, গাড়ি ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, মানুষ হত্যা করে রাজনৈতিক কোন বিষয়ের সমাধান হয় না। আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে।’  

দেশে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না করে আলোচনায় বসার জন্য বিরোধী দলীয় নেত্রীকে আহ্বান জানান মন্ত্রী।

শুক্রবার সকালে নগরীর আগ্রাবাদে পরিবেশ অধিদপ্তর আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন হাসান মাহমুদ।  পরিবেশ অধিদপ্তরের সার্বণিক বায়ুমান পরিবীক্ষণ স্টেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড.হাসান মাহমুদ।

সরকার তলে তলে ষড়যন্ত্র করছে বিরোধী দলীয় নেত্রীর এমন বক্তব্যে প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, `সরকার নয় বরং তাদের দলের কেউ কেউ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখতে পারেন।` 

অন্য একটি প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্রে মক্ষতায় যাওয়ার জন্য নির্বাচন ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতেই এ সরকার কাজ করছে।’  

দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় দাবি করে মন্ত্রী বলেন, `গত ৪ বছরে এ নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রায় ৫ হাজার নির্বাচন অনুষ্টিত হয়েছে। এরমধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনও ছিল।`

সিলেটের উপ র্নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়েছে। এতে বুঝা যায় দেশের প্রত্যেকটি নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপে হয়েছে। ফলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না কথাটি সত্য নয়।  

সংবিধানের আলোকে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য বিরোধী দলের যদি কোন পরামর্শ থাকলে তা সানন্দে গ্রহণ করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘সেজন্য আমরা বিরোধী দলকে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দু:খের বিষয় হলো বিরোধী দলীয় নেত্রী বলেছেন আলোচনা করার কোন মানসিকতা তার নেই।’

তার যদি আলোচনার মানসিকতা না থাকে তাহলে আমরা ধরেই নিব এখন যে পুলিশের অস্ত্র ছিনতাই হচ্ছে, গাড়ি ভাংচুর হচ্ছে, অগ্নি সংযোগ করে মানুষ মারা হচ্ছে- তিনি কি সেই মানসিকতা পোষণ করছেন? প্রশ্ন রাখেন তিনি।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, `বর্তামানে পরিবেশ সংরক্ষণ সবেচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে কাজ করছি। আর পরিবেশ সংরক্ষণের অন্যতম প্রধান কাজ হচ্ছে বায়ুমান রক্ষা করা। বায়ুমান রক্ষা করতে হলে বায়ুমান কোন পর্যায়ে আছে তা জানতে হবে। তা জানার জন্যই চট্টগ্রামে বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।`

চট্টগ্রামে এর আগে একটি বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ঢাকাসহ সারা দেশে মোট ১১ বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। দেশের সব বিভাগে এ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে।

এছাড়া চট্টগ্রামে আরো বায়ুমান কেন্দ্র স্থাপনের পরীকল্পনা রযেছে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি  বলেন, `আইন পরিবর্তন করে পাহাড়কাটা, জাহাজ ভাঙ্গা নতুন পরিবেশ আইনে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এতে পুলিশ চাইলে স্বপ্রনোদিত হয়ে পরিবেশ দূষণকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এছাড়া প্রতি জেলা পরিবেশ আদালত করা হবে।`

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালযের যুগ্ম সচিব ড. নাছির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সাংসদ এমএ লতিফ, পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক জাফর আলম বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম কার্যালয়ের পরিচালক জাফর আলম বলেন, `পরিবেশ দূষণের অন্যান্য বিষয় নিয়ে চিন্তা করলেও বায়ু দূষণ নিয়ে ভাবি না। অথচ বায়ু দূষণ নিয়েই আমাদের বেশি চিন্তা করা উচিত। কারণ পরিবেশ দূষণের ক্ষেত্রে বায়ু দূষণ  সব চেয়ে বড়।`

চট্টগ্রামে স্থাপিত বায়ুমান পরিবীক্ষণ কেন্দ্রের মাধ্যমে কোত্থেকে বায়ু দূষণ হচ্ছে তা চিহ্নিত করে এর সমাধান বের করা যাবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, `এ কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রতিমুহুর্তে বায়ুর মান কি তা জানা যাবে। আরো কয়েকটি কেন্দ্র স্থাপতি হলে চট্টগ্রামে বায়ুর সার্বক্ষণিক মান নির্ধারণ করা যাবে।`

শেয়ার করুন