আদালতে ভাবলেশহীন নাফিস, নির্দোষ দাবি

0
99
Print Friendly, PDF & Email

নিউইয়র্ক (১০জানুয়ারী) : সন্ত্রাসের অভিযোগে নিউইয়র্কে আটক বাংলাদেশি যুবক কাজী মোহাম্মদ রেজওয়ানুল আহসান নাফিস নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বুধবার তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার শুনানি হয় নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে। সেখানে বিচারকের সামনে নাফিসকে নির্দোষ বলে দাবি করেন তার আইনজীবী। পরে বাদি ও আসামি পক্ষ আলাপ আলোচনার মাধ্যমে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি এবিষয়ে পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করে।

নাফিসের আইনজীবী হেইডি সিজর অবশ্য কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

১৫ মিনিট স্থায়ী হয় বুধবারের শুনানি। আদালত সূত্র জানিয়েছে, মামলার বিচার প্রক্রিয়া কি হবে তা নিয়েই এই শুনানি। এরপর পূর্ণাঙ্গ শুনানি শুরু হবে ৩ এপ্রিল।

বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় আদালতে নেওয়া হয় নাফিসকে। ফেডারেল কোর্টের চিফ জাজ ক্যারল এ্যমনের কোর্টে নাফিসের মামলার এই শুনানি হয়। শুনানির শুরুতে নাফিসের পক্ষে তার আইনজীবি তাকে নিদোষ দাবি করে জামিনের আবেদন করলে তার বিরোধীতা করেন প্রসিকিউটর। এক্ষেত্রে মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারন করা হয় ২০ ফেব্রুয়ারি।

ছাইরঙা একটি বিশেষ পোশাক পরিয়ে নাফিসকে আদালতে হাজির করানো হয়। পাশে বসে তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডিফেন্স এটর্নি হেইডি সিজর। পুরো সময়ই নাফিস ছিলেন নির্লিপ্ত ও ভাবলেশহীন।

এ সময় কোর্টে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলেট বিভাগের প্রধান শামসুল হক, নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মনিরুল ইসলাম ও দূতাবাস কর্মকর্তা শাহানারা মনিকা।

শুনানি শেষে নাফিসকে আবার ফেরত পাঠানো হয়েছে জেল হাজতে।

শুনানি শেষে নাফিসের সাথে সাক্ষাত করেন দূতাবাসের কূটনীতিকরা।

এবিষয়ে মনিরুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, আমরা নাফিসের সাথে কথা বলে তার সার্বিক অবস্থা জানতে চেয়েছি। সে জানিয়েছে তার কোন অসুবিধা হচ্ছে না। যেখানে তাকে রাখা হয়েছে সেখানে আরো অনেক লোক আছে। চাইলে টেলিভিশন দেখা বা ফোনে কথা বলারও সুবিধা আছে। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো সে বুঝেছে কিনা আমরা জানতে চাইলে সে ইতিবাচক উত্তর দিয়েছে।

নাফিস জানিয়েছে এখন নিয়মিত সে তার বাবা মা’র সাথে কথা বলতে পারে। ডিটেনশন সেন্টারে ফোন আছে। সেখান থেকে ইচ্ছেমত ফোনে কথা বলতে পারছে আত্মীয় স্বজনদের সাথে।

ডিটেনশনে একাকীত্বের কোন সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে সে বলেছে শতাধিক লোক আছে সেখানে। এছাড়াও রাতেও তার রুমে একজন লোক থাকে। সেই হিসেবে একাকীত্বের যন্ত্রণা সইতে হচ্ছে না নাফিসকে।

ফেডারেল জাজকে নাফিসের আইনজীবি বলেছেন, “আমরা এখন কোন বিষয়ে মন্তব্য করতে চাচ্ছি না। কারণ দুই পক্ষের মধ্যে মামলা নিস্পত্তির একটি সমঝোতার আলোচনা চলছে। এতে নাফিস নিজের দোষ স্বীকার করে নিলে সাজার মেয়াদ কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।”

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার নাফিসের কাছে দুটো প্রস্তাব দিয়েছে। একটি হচ্ছে দোষ স্বীকার করে নিলে সাজার মেয়াদ কমানো আর অন্যটি হচ্ছে পূর্নাঙ্গ শুনানি। যাতে দোষী হলে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদ- হতে পারে।

এদিকে, নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত ডেইলি নিউজ পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, আমেরিকান ড্রোন আক্রমনে নিহত আমেরিকান জঙ্গী নেতা আলওয়াকীর একজন ভক্ত ছিল নাফিস। সে আলওয়াকির উত্তেজনাকর বক্তব্যের নিয়মিত শ্রোতা ছিল।

নাফিসের ওপর দোষ স্বীকার করিয়ে নেওয়ার একটি চাপ রয়েছে বলেও ডেইলি নিউজ জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ভবণ উড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে এফবিআই গত ১৭ অক্টোবর নাফিসকে গ্রেফতার করে। ১৬ নভেম্বর গ্র্যান্ড জুরি অভিযুক্ত করে তাকে।

গত বছরের জানুয়ারিতে স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর দক্ষিণ-পূর্ব মিসৌরির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন নাফিস। সাইবার সিকিউরিটি বিষয়ক ওই কোর্স শেষ না করেই জুনের শেষ সপ্তাহে নিউইয়র্কের একটি টেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি হন তিনি। এফবিআই নাফিসকে গ্রেপ্তারের পর ঢাকায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সে ষড়যন্ত্রের শিকার।

নিউজরুম

শেয়ার করুন