ভারতের সাথে পানিচুক্তির ১৭ বছর পার চুক্তি অনুযায়ী পানি পায়নি বাংলাদেশ

0
106
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, ডেস্ক (০৮জানুয়ারী) : বাংলাদেশ-ভারত পানি চুক্তির ১৭ বছর পার হলেও চুক্তি অনুযায়ী পানি মেলেনি। এ দিকে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে যৌথ নদী কমিশনের পানি পরিমাপ শুরু হয়েছে গত মঙ্গলবার। ১ জানুয়ারি ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশ-ভারত ঐতিহাসিক গঙ্গা নদীর পানি চুক্তি। ঈশ্বরদী উপজেলায় পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্্িরজ পয়েন্টে গত মঙ্গলবার থেকে পানির প্রবাহ পর্যবেণ শুরু হয়েছে। এ জন্য ভারত থেকে দুইজন পানিবিষয়ক কর্মকর্তা এসে পৌঁছেছেন। তারা হলেন ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর রাজেশ শাহ ও সহকারী পরিচালক বি এম ব্রোকার। তাদের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে পর্যবেণে থাকবেন উত্তরাঞ্চলীয় পরিমাপক বিভাগ-পাবনার উপসহকারী প্রকৌশলী মোফাজ্জেল হোসেন এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রইচ উদ্দিন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুননেছা জানান, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এই পানি টিম হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে ভারতের গঙ্গা থেকে ফারাক্কা বাঁধ হয়ে আসা পানিপ্রবাহ পর্যবেণ করবে। অন্য দিকে যৌথ নদী কমিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চার সদস্যবিশিষ্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল ভারতে অবস্থান করছে। তারা সেখানে ফারাক্কা বাঁধের ফিডার ক্যানেলের একটি পয়েন্টে এবং ফারাক্কার পাশের গঙ্গা নদীর অপর একটি পয়েন্টে দুই দেশের মধ্যকার পানিচুক্তি অনুযায়ী পানিপ্রবাহ পর্যবেণ করবেন।

বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, এ বছরও বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী তার পানির ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার আশঙ্কা করছে। ২০১১ সালে ডিসেম্বর মাসে যখন পদ্মার হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পানির প্রবাহ ছিল প্রায় এক লাখ কিউসেক সেখানে ২০১২ সালে ডিসেম্বর মাসে একই পয়েন্টে পানির প্রবাহ প্রায় ৭৫ হাজার কিউসেক। অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার কম। এতে স্মৃতিময় পদ্মা শুকিয়ে খালে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১৫টি গার্ডারের মধ্যে ৯টিই শুকনো চরে দণ্ডায়মান। যে ছয়টি গার্ডার পানিতে রয়েছে তার আশপাশে মানুষ চাষাবাদ করছে। ২০০৯ সালের মতো ২০১৩ সালেও চুক্তি অনুযায়ী পানি না পাওয়া গেলে পদ্মা নদী বেষ্টিত ছয়টি জেলার দুই কোটি মানুষ ফারাক্কা বাঁধের বিরূপ প্রভাবে ব্যাপক তিগ্রস্ত হবে। দেশের বৃহত্তম গঙ্গা-কপোতা সেচ প্রকল্প, পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্যান্য পানি নির্ভরশীল কৃষি প্রকল্প দারুণভাবে ব্যাহত হবে।

১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের হায়দারাবাদ হাউজে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেব গৌড়া এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ নিজ দেশের পে ৩০ বছর মেয়াদি পানি চুক্তিতে স্বার করেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত পাঁচ মাস শুষ্ক মওসুমে ভারতের মধ্যকার গঙ্গা নদীর পানি দুই দেশ চুক্তি অনুযায়ী পাবে। কিন্তু চুক্তির পর বিগত ১৬ বছর বাংলাদেশ তার পানির নায্য অংশ কোনো বছরই পায়নি। এ অবস্থায় গত ১ জানুয়ারি থেকে পানি চুক্তি কার্যকরের ১৭তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুননেছা জানান, আগামী ৩১ মে পর্যন্ত এই পানি পরিমাপ অব্যাহত থাকবে। গতকাল সোমবার পাকশীর জোড়া সেতু এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, বিস্তীর্ণ বালুরাশি এবং বিশাল শস্যতে। এলাকার কৃষকেরা সেখানে আখ, মসুর, বাদামসহ বিভিন্ন রবিশস্য আবাদ করছেন। পাকশীর জোড়া সেতু থেকে নদীর দিকে তাকালে চারদিকে শুধু সবুজের সমারোহ। এ যেন সবুজ পানিতে পাকশীর জোড়া সেতু।

নিউজরুম

শেয়ার করুন