পুলিশি বাড়াবাড়ি প্রতিকার পাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে

0
86
Print Friendly, PDF & Email

৮ জানুয়ারি, ২০১৩।।

পুলিশকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের কারণে এর প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমর্যাদা অনেকাংশে ুণœ হয়েছে। তা ছাড়া পুলিশ নিজেদেরকে আইনের ঊর্ধ্বে ও জবাবদিহিতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগও কোনো আমলযোগ্য হয় না। সাহস করে যারা থানা এড়িয়ে আদালতে যান তাদেরও পুলিশি তদন্তের সময়ক্ষেপণ প্রক্রিয়ায় পড়ে নাজেহাল হতে হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করে না। আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও পুলিশ কোনো তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেয় না।

পুলিশের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে নালিশি মামলা করেও প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। আদালত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন। এরপর বছরের পর বছর পার হলেও পুলিশের প্রতিবেদন আদালতে জমা পড়ে না।

একটি জাতীয় দৈনিকের অনুসন্ধানে সারা দেশে ২৬টি নালিশি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে, যেগুলো বছরের পর বছর ঝুলে আছে। এর মধ্যে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে গত আট বছরে দায়ের হওয়া ১৩টি নালিশি মামলারও খোঁজ মিলেছে,  যেগুলো তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেয়ার কারণে ঝুলে আছে। পুলিশÑ পুলিশের বিরুদ্ধে তদন্তে এতটা গড়িমসি করে যে বাদি ন্যায়বিচার পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

যদিও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অভিমত হচ্ছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবশ্যই পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হবে। যাদের বিরুদ্ধে তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ মিলেছে, অতীতে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।

তা ছাড়া আদালতের নালিশি আবেদনের মধ্যে যে কয়টার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে, তাতে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের রেহাই দেয়ার উদাহরণই বেশি। যেমন সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপকে মারধরের অভিযোগে যে পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা হয়েছে, মহানগর হাকিম ঘটনাটি পুলিশকে তদন্তের নির্দেশও দেন; কিন্তু অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তাকে দায়মুক্তি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। অথচ ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তা কিভাবে চিফ হুইপকে পিটিয়েছেন, তা তখন বিভিন্ন টেলিভিশনের খবরে দেখানো ও সংবাদপত্রে ছবি প্রকাশিত হয়েছে।

আইনজীবীরা মনে করেন, পুলিশের বিরুদ্ধে করা নালিশি মামলাগুলোর তদন্তভার পুলিশকেই দেয়া হয়; তাই সঠিক তদন্ত হয় না। ফৌজদারি কার্যবিধিতে বিচার বিভাগীয় তদন্তের কথাও বলা আছে। বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে আইন সুরতি থাকে। পুলিশও অভিযোগমুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। আবার বাদিও বিচার না পাওয়ার হতাশায় পড়বেন না।

বহুল আলোচিত চট্টগ্রামের সীমা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়ে বিচারক ভবিষ্যতে পুলিশের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত পুলিশকে দিয়ে না করানোর সুপারিশও করেছিলেন।

বিভিন্ন সময়ে পুলিশের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনের দণ্ডনীয় অনেক অপরাধের অভিযোগ ওঠে। অনেক ঘটনা গণমাধ্যমেও প্রকাশ পায়। যদিও বাড়তি হয়রানি বা নতুন করে বিপদের আশঙ্কায় বেশির ভাগ ভুক্তভোগীই পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে যান না। গেলেও থানায় পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। থানায় ব্যর্থ হয়ে কেউ কেউ আদালতে নালিশি মামলা করেন। এরপর আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপকেই তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলেন, কিন্তু পুলিশ বছরের পর বছর এসব তদন্ত ঝুলিয়ে রাখে। যেসব বাদির ধৈর্য ও তদবির করার সামর্থ্য আছে, তাদের েেত্র হয়তো একপর্যায়ে পুলিশের প্রতিবেদন পাওয়া যায়। অন্যথায় বিচারের বাণী নিভৃতেই কেঁদে বেড়ায়।

আমরা মনে করি, পুলিশ প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারী। তার পরও আইন হাতে তুলে নেয়ার এখতিয়ার তাদের নেই। আইন মেনেই তাদের দায়িত্ব পালন করার কথা। সে ক্ষেত্রে পুলিশ প্রায়ই বাড়াবাড়ি করে। বন্ধু না সেজে আতঙ্ক হয়ে দেখা দেয়। তা ছাড়া অনেক ফৌজদারি অপরাধেও পুলিশ জড়িয়ে যায়। তাদের আইনের আওতায় না আনলে আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত হয়। এ ব্যাপারে আইনানুগ পন্থায় প্রতিকার পেতে পুলিশের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সব সুযোগ রুদ্ধ করে দেয়া সময়ের দাবি। কারণ অনেক পুলিশ সদস্যই আজকাল অতি উৎসাহ প্রদর্শন করে বাড়াবাড়ি করে পার পেয়ে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন