এরা কাজের চেয়ে কে কতো টাকা বানাবে সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত

0
86
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (০৮জানুয়ারী) : সরকার চার বছরে কিছু করেনি মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় নেতা ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বলেছেন, সরকার দেশের রাস্তাঘাটের কোনো উন্নয়ন করেনি। ঢাকা-চট্রগ্রাম হাইওয়ে চার লেন করার কথা বলে কিছু করেনি।এরা কাজের চেয়ে কে কতো টাকা বানাবে সেই প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।

 

সোমবার রাতে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার যুবলীগ সভাপতি আলী আক্কাস রতনসহ শতাধিক কর্মীর বিএনপিতে যোগদান উপলক্ষে আয়োজিত সভায় বিএনপি চেয়ারপার্সন এসব কথা বলেন।

 

বিএনপি চায় উন্নয়‍ন আর আওয়ামী লীগ চায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে বলেও উল্লেখ করেন সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী।
তিনি দুটি রাজনৈতিক দলের কথা উল্লেখ করে বলেন, একটি হলো উন্নয়ন ও উৎপাদনমূখী রাজনৈতিক দল ও অপরটি হলো সন্ত্রাস খুন ও লুটপাটের দল।এটাই হলো বিএনপি ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পার্থক্য।

সংলাপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তলে তলে নয়, আলোচনা হতে হবে প্রকাশ্যে। সে আলোচনা হতে হবে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ের এ সভায় খালেদা সরকারের উদ্দেশে বলেন, “তলে তলে নয়, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে হবে। সে আলোচনা হবে প্রকাশ্যে। সবাই জানবে, প্রকাশ্যে আলোচনা হবে। খোশগল্প করার সময় আমাদের নেই।”

তিনি এসময় বিএনপিতে যোগদানকারীদের শুভেচ্ছা জানান। যোগদানকারীদের সিদ্ধান্ত সঠিক উল্লেখ করে তিনি বলেন ৫৬ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদকে হত্যা করা হয়েছে এটার নাম কি রাজনীতি। রাজনীতি মানে কি? হত্যা, গুম। এ সরকার গুমের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ইলিয়াস আলীর পরিবার এখন কি অবস্থায় আছে সবাই জানে। তিনি বর্তমান সরকারকে এই নোংরা রাজনীতি পরিহার করার কথা উল্লেখ করে বলেন, যারা জনগণের পক্ষে কথা বলছে বিএনপির সেই সাহসী নেতাদের হত্যা করা হচ্ছে।

 

তাদের উদ্দেশ্য বিরোধী দলকে দূর্বল করে ক্ষমতা চিরস্থয়ী ও পাকাপোক্ত করা। কিন্তু দেশের জনগণ সেই আশা পূরণ করতে দেবেনা।

 

নোয়াখালির কবিরহাট উপজেলা উদ্বোধনের কথা উল্লেখ করে বলেন, এরা কোনো উন্নয়ন না করে নামফলক সরিয়ে নতুন নামফলক উদ্বোধন করছে।

 

এরা তেলের দাম ৫ বার বৃদ্ধি করেছে উল্লেখ করে বলেন, গত বিএনপির সময় কেরেসিনের দাম ছিল ৩৩ টাকা। এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ টাকা। যা সাধারণ মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে।

 

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কথা উল্লেখ করে বলেন, আমাদের সময় অনেক গাড়ি পোড়ানো হয়েছিল কিন্তু আমরা সিনিয়র নেতাকে মামলা দেইনি।

বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে লগি বৈঠা দিয়ে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে আসামি করিনি। কিন্তু এখন কোথাও কিছু ঘটলে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের আসামি করা হয় এটা কোনো রাজনৈতিক আচরণ হতে পারেনা। তিনি বলেন আগামী নির্বাচন হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে।

এর পর তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “দেশকে রক্ষা আর উন্নয়নের জন্য নতুন ও পুরনো কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সবাই মিলেমিশে কাজ করতে হবে।”

বিএনপি চেয়ারপার্সন রাজধানীর বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলামকে হত্যার জন্য র‌্যাবকে দায়ী করে বলেন, “ঢাকার ৫৬ ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মজুমদারকে হত্যা করা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “সরকার তাদের ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্য বিএনপির সাহসী ও জনপ্রিয় নেতাকর্মীদের বেছে বেছে হত্যা করছে। সরকার এই ৪ বছরে শুধু বিএনপি নেতাকর্মীদের হত্যা, গুম, দমন-পীড়ন করেছে। তারা বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে।”

দেশকে রক্ষা করতে এসময় যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।

যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, যু্গ্ম মহাসচিব মো. শাজাহান, কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবুল খায়ের ভূঁইয়া, প্রচার সম্পাদক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক প্রমুখ।

নিউজরুম

শেয়ার করুন