ভাষাসৈনিকসহ ১৩ নারী বিনা কারণে আটক সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার আরেক নজির

0
111
Print Friendly, PDF & Email

৭ জানুয়ারি, ২০১৩।। 

ভাষাসৈনিক এবং এ দেশে নারী অধিকার আন্দোলনের বিশিষ্ট সংগঠক অধ্যাপিকা চেমন আরাসহ ধর্মভীরু ১৩ জন মহিলাকে গত শনিবার বিকেলে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস কাবে আটক করা হয়েছে। ইসলামী ছাত্রীসংস্থার ২০ জন নেত্রীকে গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে এবং তাদের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত বৈঠকে যোগ দিতে গেলে এই মহিলাদের বিনা কারণে ধরে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়। ওই গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত ছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরা অংশ নেন। আটকদের মধ্যে নারী সংগঠক, শিক্ষাবিদ, ছাত্রী সংস্থার কর্মী প্রমুখ রয়েছেন। পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট মোতাবেক, তাদের কয়েকজন আটক আছেন র‌্যাবের হাতে।

প্রেস কাবে ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি করে যাদের আটক করা হয় তাদের মধ্যে ভাষাসৈনিক ও প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক মরহুম অধ্যাপক শাহেদ আলীর স্ত্রী অধ্যাপিকা চেমন আরা, পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক বিভাগীয় প্রধান মমতাজ মান্নান, ইডেন গার্লস কলেজের সাবেক শিক্ষক জোসনা ইদ্রিস প্রমুখ রয়েছেন।

সরকারের ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়ন দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কতটা অবনতি ঘটিয়েছে, তার সর্বশেষ নজির একজন বয়োবৃদ্ধা ভাষাসৈনিকসহ ১৩ জন শান্তিপ্রিয় ও সম্মানিত মহিলা নাগরিককে বিনা দোষে আটকের এই অভাবিতপূর্ব ঘটনা। ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক আচরণ এবং প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতার সাম্প্রতিক তিক্ত অভিজ্ঞতায় জনগণের কাছে এটা স্পষ্ট যে, ভিন্ন মত দলন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির অসৎ লক্ষ্যেই এই ভদ্রমহিলাদের আটক করা হয়েছে। সুশাসনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে সরকার নিজের জনপ্রিয়তার ক্রমহ্রাস দেখে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতে কেমন দিশেহারা হয়ে উঠেছে, তার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত এই পুলিশি অভিযান। আমাদের দেশে স্বৈরাচারীরূপে অভিহিত কোনো সরকারের আমলেও এমনটা ঘটতে দেখা যায়নি। আর নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক হিসেবে পরিচিত সরকারের শাসনাধীনে তো এ ধরনের অন্যায় ও অশোভন আচরণ কল্পনাও করা যায় না। তার পরও আমাদের দেশে বিশেষ করে গত চার বছরে এমন বহু ঘটনা ঘটেছে যা সভ্যতা, আইন ও নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী এবং ক্ষমতাসীনদের প্রতিহিংসাপরায়ণতার পরিচায়ক। শনিবার প্রেস কাবে ভাষাসৈনিক চেমন আরাকে পর্যন্ত আটক করা হলো। অথচ ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই এসেছে আমাদের স্বাধীনতা। অধ্যাপিকা চেমন আরার স্বামীও ছিলেন প্রখ্যাত ভাষাসৈনিক। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের ক্রমবর্ধমান সন্দেহপ্রবণতা ও নিপীড়ক মনোবৃত্তি থেকে এখন আর কোনো নাগরিক নিরাপদ নন বলে আশঙ্কা হচ্ছে। মানবাধিকারের প্রতি প্রশাসনের শ্রদ্ধা আছে বলে মনে হয় না।

আমরা অবিলম্বে আটককৃত সব মহিলার নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি। সেই সাথে সব ধরনের অন্যায় হয়রানি, হামলা, মামলা, গ্রেফতার তথা দমন-নির্যাতন বন্ধ করার জোর দাবি জানাই। সবার মনে রাখা উচিত, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচার ও সীমালঙ্ঘনের পরিণাম কোনো দিন কারো জন্য শুভ হয়নি।

শেয়ার করুন