মাজুল হাসানের কবিতা, বুকের চামড়া উপড়ে গড়ে দেয়া হলো অন্তরীক্ষের নকশা

0
142
Print Friendly, PDF & Email

‘কাননবালারা কোথা থেকে আসে’ সেই নৃতাত্ত্বিক গবেষণার দায়িত্ব নিক
নতুন কোনো ক্ষুব্ধ অধ্যাপক। আমি এখন দেবতা; মেনকার দুগ্ধপোষ্য
শালা চামবাজ নাগর, দ্যাখো— স্তন দুলছে; পেণ্ডুলামের মতো  
তাকাও; নগরীর একমাত্র গণিকালয়ের দিকে। কী দেখছো?
নেবেনচুস? পিলারে বারোয়ারি কুকুর, পাতি মাস্তান আর পানের পিক
সবাই শিল্প সমঝদার

সাবধান, অই আসছে লাল ফড়িং
(ভেতরে ভেতরে আমার বড় মদের তিয়াস)
সাবধান, চিত্রাঙ্গদার কাহিনী নিয়ে ওঁত পেতে আছে মাঝারি আতেল
(ছেনাল মাগি আমি তোমায় ভালোবাসি)
সাবধান, দুয়ারে তোমার সাত ট্রাক গোলাপ চন্দন; সর্বহারা প্রেমিক
পৃথিবী এক মারদাঙ্গা মুভি, ঝগড়া পরবর্তী যৌন ফুলঝুরি
রেশমের গুটি, ভ্যানিলা আইসক্রিম— সবই রাজনীতি।
রাজনীতি এক কালো জাদু; ছদ্ম ইঙ্গিতময়
(তোমার হাতের লেখা বড্ড বেশি ক্লিশে)
নীরবে নিভৃতে পান করে মৃত সিংহের জৌলুশ…

লজিং মাস্টারের লৌহজটা স্বপ্ন

এক লজিং মাস্টার জীবনে কতো কতো কাগজি লেবুর দেশ
ডুবোচর আর লৌহজটা মুখ! আজ কোথায় তুমি মোমের পুতুল
কোথায় মায়াপীর? দিকে দিকে বেলুন উৎসব; নৃত্যবিবর্ণ এক।
ছন্দপ্রেমী জেনে যে নদীর জন্য রেখে আসা হলো নুপুর-নিক্কন
বুকের চামড়া উপড়ে গড়ে দেয়া হলো অন্তরীক্ষের নকশা
জাদুর পাদুকা যুগল; আজ ভ্রমরগুঞ্জরণের দিনে কেন তার
কম্পিত পদচ্ছাপ বেঁকে যেতে চায় শরীরকুঞ্জ অথবা নারী বৈকুণ্ঠপুর?
আজ বায়ান্নো হাজার তিপ্পান্নো গলির মোড়েমোড়ে গবেটের গোলাপ মন্থন
জানা হলো না পীতপাহাড়, সহবাস; কাকে বলে তুমুল সঙ্গম!
তবু সারেঙ্গি সারশ হয়ে যায়; সৌরঝড়ে সুফিয়ার গাঁথা; আজো
মায়া ও ম্লেচ্ছর দেশে হারিয়ে যেতে হয় বলে, দেখা হয়ে যায়
কাম জরজর কোয়েলকাব্য। সেখানে মেলা, মালিনীর মক্ষিকাগণ
‘হারিয়ে যাও; হারালেই মধু’ বলেছিল সে। সে মানে অরুন্ধুতিরাজ
গুপ্তরঞ্জক; খাঁকি ও খানকা থেকে বেরিয়ে আসা কূলনারীর শোক।

উৎসবের দিকে

দরজা থেকে ফিরে এলাম, কারণ দরজা খোলা ছিলো…  
উৎসর্গ : ফাহিম আহমেদ

না বলেও ঠিকঠিক বলে দেয়া যায় ‘তাচ্ছিল্যকাহন’। দূরে মেহগনি ফাটার শব্দ…
বুঝি না, উৎসব ক্যানো এতো মদমত্ত অক্ষমের আস্ফালন?
চুরি করে যে বেলপাতা রেখে আসা হলো সুনেত্রার ঘরে, তার গুরুভার
অনুচ্চ ঘ্রাণ; শিথান-পৈথান; ক্যানো পারে না ঠেকিয়ে দিতে ডাকাত-আগমন?
এখন রাত। ছুরি-কাচি, টুংটাং, রঙঅন্ধ রেডওয়াইন। পাখি ও পাইনের
বন্যগহীনে কোথাও কোনো রাজর্ষি নেই; ছিলো না কোনোদিন। অগত্যা
এই মারীবীজ, মোম; মোষের পিঠে চড়ে ডাকাবুকা ফেউসার দাপট।
‘হায়! একটা ভারী চুম্বনও জুটলো না জীবনে’— এই আক্ষেপ অদৃশ্য-শ্রবণে
সুনেত্রা বলেছিল, ‘গোশালা ছেড়ে একবার শুধু খসালডাঙ্গির মেলায় এসো
এসো জয়ফল ও কোশা নৌকার দ্বীপে, সেথায় পাবে তুমি গোষ্ঠের মাঠ;
‘আমাকে নাও, আমাকে নাও’ বলে আলো দেখাবে আহত দিকচক্রবাল
আমি যাই, ফিরে আসি দুয়ার থেকে; ভেতরে অপেক্ষা, ভেতরে কান্না; কলহাস্যের…

 
চোখ

শয্যা বদলে যদি ভুলে যাওয়া যেত শয্যাশায়ী হওয়ার ক্ষত
তবে প্রেম কখনো হতো না কম্পিত জরি, চুড়ি ঝুমঝুম
রেশমি আপুর কাচ। তবে হাঁশুলি ও এই হত্যাআলোর রাতে
সুগোল অষ্টপ্রহরের মতো লালপিঁপড়ে, পিঁপড়ের লাল; অড়ষ্ট মতো
মনে পড়তো জীবন সেতো ফেলনা নয়; দুর্মূল্য তারাগেন্দার হার…

এই যে অজগর; আগামসি লেন, আমি কতটুকু চিনি আতর-অঙ্গার?

শেয়ার করুন