পদ্মা প্রকল্পে এবার নকশা কেলেঙ্কারি, তদন্ত করছে দুদক

0
71
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (৩ জানুয়ারী) : পদ্মাসেতুর পরামর্শক প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের মামলার পর এবার প্রকল্পটির নকশা কেলেঙ্কারির অভিযোগ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

জানা গেছে, পদ্মা বহুমুখী সেতুর তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম পদ্মাসেতুর নকশার জন্য অনিয়মের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেন। এর ফলে জালিয়াতির মাধ্যমে নিউজিল্যান্ডের প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা প্রায় সোয়া এক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে শিগগিরই অনুসন্ধান করছে দুদক।  

সূত্র জানায়, নকশা জালিয়াতির ঘটনায় তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনসহ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছিল কি-না তা খোঁজা হবে। দুদকের বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগ সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সূত্র জানায়, পদ্মাসেতুর নকশা চূড়ান্ত না করেই প্রকল্প পরিচালক এই টাকা তুলে দেন পরামর্শক এইকম নিউজিল্যান্ড লিমিটেডকে। এ অভিযোগ আমলে নিয়ে শিগগিরই আলাদা টিম গঠন করে এ বিষয়ে বিষদ তদন্ত করবে দুদক।

দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান বলেন, “পদ্মাসেতুর পরামর্শক প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে দুদকের চলমান তদন্তের পাশাপাশি এ প্রকল্পে নকশার বিষয়ে যে অনিয়মের কথা আসছে সে বিষয়ে আরেকটি কমিটির মাধ্যমে তদন্ত হবে।“

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রফিকুল ইসলামের সহায়তায় পদ্মা প্রকল্পের টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী নিউজিল্যান্ডের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটির নকশার কাজ সম্পন্ন না করেই সোয়া এক কোটি টাকা নেওয়ায় রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়েছে মনে করছে দুদক।

২০১০ সালের ২৮ নভেম্বর তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলামকে লেখা সাবেক সেতু সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত চিঠির সূত্র (ইউও নোট নং৫০.১২৫.০১৪.০০.০০.১৫৫.২০০৬(ভ-৪)-৩৪১) থেকে অনিয়মের বিষয়ে এসব তথ্য জানতে পারে দুদক।

এ চিঠির অনুলিপি থেকে জানা যায়, চুক্তি অনুযায়ী  কাজ শেষ করার আগেই ২০১০ সালের জুলাই মাসে শতভাগ পেমেন্ট এইকমকে দেওয়া হয়েছে নকশা না করেই। বিষয়টি তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনও অবগত ছিলেন বলে জানা যায়।

দুদক জানায়, মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া  সেতু কর্তৃপক্ষের সচিব হিসেবে সে সময় এই ঘটনাটি জানেন নি এমন নয়। প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তিনি দায় এড়াতে পারেন না।  ধারণা করা হচ্ছে, কমিশন ভাগাভাগিতে বনিবনা না হওয়ায় তিনি ঘটনাটি ফাঁস করে প্রকল্প পরিচালককে একটি চিঠি দেন। যার সঙ্গে ওই প্রকল্প পরিচালক নিজেও জড়িত ছিলেন।

এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা ও কানাডিয়ান নাগরিক রমেশ সাহার ডায়েরিতে ঘুষের তালিকায় নাম থাকলেও দুদকের আসামির তালিকা থেকে বাদ পড়েন তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক রফিকুল ইসলাম।

নিউজরুম

শেয়ার করুন