পদ্মা সেতুর নকশা করতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আহবান

0
72
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা ( ২জানুয়ারী) : স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম হাতিরঝিল প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশের প্রকৌশলীদের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে তিনি পদ্মা সেতুর নকশা করতে তাঁদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ (বুয়েট) এই প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন, কারিগরি পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাঁরা সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে সৈয়দ আশরাফ বলেন, ‘আপনারা এ প্রকল্প বাস্তবায়নে যেভাবে সহায়তা করেছেন, সেটা অভূতপূর্ব। আপনারা পদ্মা সেতুর নকশা করুন। আপনারাই পদ্মা সেতু করতে পারবেন।’ স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘আগে কালভার্ট করতেও বিদেশি পরামর্শক লাগত, এখন দেশের প্রকৌশলীরাই হাতিঝিলের মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ফেলছেন।’
হাতিরঝিলের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবু সাঈদ মো. মাসুদ বলেন, ‘সেনাবাহিনীর প্রকৌশল কোরে জনবলসংকট আছে। জনবল দেওয়া হলে চার-পাঁচটা পদ্মা সেতু করতে পারব।’
বৃষ্টির পানি ও পয়োনিষ্কাশনের মাধ্যমে রাজধানীর একটি বড় অংশের জলাবদ্ধতা দূর করা, বৃষ্টি ও বন্যাজনিত পানি ধারণ, নগরের নান্দনিক সৌন্দর্য বাড়ানো, রাজধানীর পূর্ব ও পশ্চিম অংশের মধ্যে যোগাযোগের ব্যবস্থাসহ সার্বিক পরিবেশের উন্নয়ন করতে হাতিরঝিল প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ি খালের সঙ্গে বনানী ও গুলশান লেকের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। একটি আধুনিক পয়োনিষ্কাশন নেটওয়ার্কও গড়ে উঠবে হাতিরঝিল প্রকল্পকে ঘিরে। প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে সম্ভাব্য যানজট নিরসনের লক্ষ্যে প্রকল্পের পরামর্শকদের নির্দেশনামতো সংশোধিত প্রকল্পে দুটি ইউ লুপ সংযোজন করা হয়। এর নির্মাণকাজও শুরু হয়েছে।
প্রকল্পে চারটি সেতু, চারটি ওভারপাস, ৮ দশমিক ৮ কিলোমিটার সার্ভিস সড়ক, আট কিলোমিটার এক্সপ্রেস সড়ক, ২৬০ মিটার ভায়াডাক্ট (সেতুপথ) এবং প্রায় ১২ কিলোমিটার হাঁটার পথ নির্মাণ করা হয়েছে।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। বরাদ্দ করা অর্থের মধ্যে ১৫০ কোটি টাকা জাপানের অনুদানের। বাকি অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার। ওয়াসা, রাজউক ও এলজিইডির সহায়তা নিয়ে প্রকল্পের কাজ করছে সেনাবাহিনীর কোর অব ইঞ্জিনিয়ার্স ১৬ ইসিবি।
রাজউকের চেয়ারম্যান নূরুল হুদা জানান, হাতিরঝিল প্রকল্প মোট ৩০২ একর জমিতে গড়ে উঠেছে। মোট খরচ হয়েছে এক হাজার ৯৭১ কোটি টাকা। এর মধ্যে জমি অধিগ্রহণে এক হাজার ৪৮ কোটি এবং বাকি টাকা নির্মাণকাজে খরচ হয়।

নিউজরুম

শেয়ার করুন