শিশুবান্ধব শিক্ষার মানোন্নয়নে ইউনিসেফ-ইইউ

0
343
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, ডেস্ক শিক্ষা :  প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত সব শিশুকে মানসম্পন্ন শিশুবান্ধব শিক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে ইউনিসেফ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই হয়েছে।

কার্যকর, সমন্বিত এবং সমতাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে এ সহযোগিতা দেওয়া হবে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

বাংলাদেশে নিয়োজিত ইইউর ডেলিগেশন প্রধান ও রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হান্না, ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলনোভ’র মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।  অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ সহযোগিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্পন্ন হয়।

এ সহযোগিতা চুক্তির মাধ্যমে ইইউ তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে (পিইডিপি-৩) চার বছরের জন্য (২০১২-২০১৬) ইউনিসেফকে ৩৫ লাখ ডলার (প্রায় ২৮ কোটি টাকা) অনুদান দিয়েছে। এক বছরব্যাপী প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফ প্রতিনিধি প্যাসকেল ভিলনোভ বলেন, “মান সম্পন্ন শিক্ষা মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক শিশুর জন্যই এ অধিকার এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি। মা-বাবা, শিক্ষক, ছাত্র, সমাজ, সুশীল সমাজ, এনজিও এবং সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবারই এ অধিকার  নিশ্চিত করতে সমান ভাবে ‍অংশগ্রহণ দরকার।”

বাংলাদেশের সব শিশুর জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়িত করার সহযোগিতা দানের জন্য ইইউকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

ইইউ রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম হান্না বলেন, ‘‘শিশুদের জন্য বিনিয়োগ ইইউর কার্যক্রমগুলোর মধ্যে ‍অন্যতম প্রধান।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয় যে, আমাদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নিয়ে আমরা বাংরাদেশের শিশুদের জীবন মান উন্নয়নের জন্য বর্তমানে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে পাঁচ হাজার ৭০০ কোটি ইউরো ( প্রায় ৬০০ কোটি টাকা) বিনিয়োগ করেছি। এ কর্মসূচির মধ্যে তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি অন্যতম। এতে ইইউর দাতা সংস্থাসমূহ যোগান দিচ্ছে প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি ইউরো (প্রায় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা)। ইউনিসেফের এ অংশীদারিত্ব আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আশা করছি, এতে আমরা ভাল ফল পাব।’’

ইইউর কাছ থেকে পাওয়া এ সহযোগিতা পিইডিপি-৩ এর অধীনে যোগ্যতা বৃদ্ধিতে কারিগরী সহযোগিতা হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে  প্রতিটি শিশুর শিক্ষা, শিক্ষকের শিক্ষা ও উন্নয়ন; বিকল্প ও দ্বিতীয়  দফায় শিক্ষার  সুযোগ; প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা; জরুরি অবস্থায় শিক্ষা; বিকেন্দ্রিকৃত বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালনা প্রভৃতি বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সর্বজনিন প্রাথমিক শিক্ষা, বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি ও বিস্তার ঘটানোর লক্ষ্য পূরণ করার ক্ষেত্রে  বাংরাদেশ কার্যকরি পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে মেয়ে ও ছেলেদের সমতা ইতোমধ্যেই ‍ ‍অর্জিত হয়েছে। তবে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি এখনও উল্লেখযোগ্য নয় এবং ঝরে পড়ার সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বস্তির শিশু, বিচ্ছিন্ন এলাকা ও আদিবাসী শিশুদের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা জাতীয় গড়ের আরও নিচে।

ইউনিসেফ ও ইইউর এ সহযোগিতা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগ্যতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে শিক্ষার মান বাড়বে এবং অসমতা কমে আসবে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন