রাজধানীজুড়ে নাশকতার পরিকল্পনা,জামায়াত-জেএমবি একাট্টা

0
105
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, ঢাকা (০৩ ডিসেম্বর) : জামায়াত-শিবিরের চলমান আন্দোলনে হাত মিলিয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সোমবার জামায়াত-শিবির কর্মীদের সঙ্গে তারাও রাজধানীজুড়ে নাশকতায় অংশ নিতে পারে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা সূত্র।

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাবের) হাতে আটক জেএমবির ৫ শীর্ষ নেতাও এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জেএমবির ওই পাঁচ শীর্ষ নেতার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া লিফলেট ও সিডিতে আরো অনেক তথ্য পায় র‌্যাব। তবে কৌলশগত কারণে এখনই সব কিছু খোলাসা করছে না র‌্যাব বা গোয়েন্দারা।  

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার এম সোহায়েল সাংবাদিকদের বলেন, “রাজধানীসহ সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর যে হামলা চলছে তাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবিও জড়িত রয়েছে। ধর্মভিত্তিক ওই দলটির সঙ্গে এক হয়ে তারা এ তৎপরতা  চালাচ্ছে।”

তবে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জেএমবির হাত মেলানোর বিষয়টি অস্বীকার করে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “জামায়াত শিবিরের সঙ্গে কোন নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পর্ক নেই।”

র‌্যাব সূত্র জানায়, বিভিন্ন জেলায় বৈঠকের পর জেলা আমীরদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক করার উদ্দেশ্যে জেএমবির শীর্ষ নেতারা ঢাকায় আসার পরিকল্পনা করে। রাজধানীতেও গোপন বৈঠক করে সোমবার জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে এক হয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতি নেয় তারা। এ তথ্যের ভিত্তিতে শুরা সদস্য মাসুমের গতিবিধির উপর নজরদারি চালায় র‌্যাব।

এক পর্যায়ে শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মিরপুর টেকনিক্যাল মোড় থেকে জেএমবি’র শুরা সদস্য শেখ রহমত উল্লাহ ওরফে মাসুম (৩৩), বর্তমান অর্থ সম্পাদক ও এহসার সদস্য মো. শাহিনুজ্জামান ওরফে শাহীন ওরফে শফিক (২৭), অমিত হোসেন ওরফে আজমির (২৬), গায়রে এহসার সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম ওরফে সোহাগ ওরফে মিল্টন ওরফে ইমরান (২৩) ও মো. সাইদুর রহমানকে (৪০) আটক করা হয়।

আটকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল সংখ্যক লিফলেট ও সিডি। উদ্ধার করা লিফলেট ও সিঁডিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উপর জামায়াত শিবিরের সাম্প্রতিক হামলাসহ নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ রয়েছে।

কমান্ডার সোহায়েল বলেন, “জেএমবি জামায়াতের সঙ্গে মিশে তিনটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। এগুলো হলো- বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতা, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে বিঘ্ন সৃষ্টি করা ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা।”

কমান্ডার সোহায়েল বলেন, “তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া সিডি দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতাকে তারা টার্গেট করেছে। তবে তদন্ত ও নিরাপত্তার স্বার্থে  তাদের নাম বলা যাচ্ছে না। আমরা সার্বিকভাবে তাদের উপর নজরদারি রাখছি।”

নিউজরুম

শেয়ার করুন