আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন শেখ হাসিনা

0
259
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৯ ডিসেম্বর) : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সপ্তমবারের মতো আওয়ামী লীগের সভানেত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। আর দলের সাধারণ সম্পাদকের পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। শনিবার বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের ১৯তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে তাঁরা পুর্ননির্বাচিত হন।
এর আগে সকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দলের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও জনগণ যারা রক্ত দিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন তাঁরা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবে। যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর চিন্তা করেন তাঁদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের চিন্তা থেকে সরে যান। এরকম চিন্তা জনগণ গ্রহণ করবেন না।
‘শান্তি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনবদলের প্রত্যয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’ এই স্লোগান সামনে রেখে আওয়ামী লীগের এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যারা দেশকে দুর্নীতিগ্রস্ত, জঙ্গিবাদী ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে গড়তে চেয়েছেন তাঁদের সম্পর্কে জনগণকে সজাগ থাকতে ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিরোধী দল বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, কিছু মহলের ক্ষমতায় যাওয়ার খায়েশ আছে। কিন্তু জনগণের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সাহস ও দক্ষতা নেই। তাঁরা সব সময় অলিগলি ও অন্ধ চোরাপথ দিয়ে হাঁটেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁরাই সব সময় জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছেন বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা। আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, গণতন্ত্র অব্যাহত থাকবে। জনগণের পছন্দ হলে তাঁরা আমাদের ভোট দেবে। পছন্দ না হলে যে রায় দেবে তা মাথা পেতে নিব।
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করছে। এখন নির্বাচন কমিশন যতটা স্বাধীন অতীতে কখনও সেভাবে কাজ করতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, এতগুলো স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তা নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন তুলতে পারেননি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) স্বাধীনভাবে কাজ করছে। আর এজন্যই সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মন্ত্রীদের দুদক ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পেরেছে।
বক্তব্য দেওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া ৭৩টি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকেরাও একই সঙ্গে দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন।
সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী মেনিফেস্টো দিয়েছে তা আমরা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করছি। মেয়াদের মধ্যেই সবগুলো বাস্তবায়ন করব।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণকে ধোঁকা দেয় না। যা প্রতিজ্ঞা করে তা বাস্তবায়ন করে। এই সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত সব কয়টি স্থানীয় নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে দাবি করে আশরাফুল ইসলাম বলেন, তাহলে কেন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে না?
আশরাফুল ইসলাম বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি দুই মাসের মধ্যে জেলা, তিন মাসের মধ্যে ইউনিয়ন ও উপজেলা কমিটি করার নির্দেশ দেন। সম্মেলনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দলের অভ্যর্থনা উপ পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। যারা মারা গেছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন আব্দুল মান্নান খান।
এদিকে সম্মেলন উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সাজানো হয়েছে নতুন রূপে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো আলোকসজ্জা, ব্যানার, ফেস্টুন ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বড় বড় প্রতিকৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে। নৌকাসদৃশ বিশাল মঞ্চ করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সাড়ে ছয় হাজার কাউন্সিলর, ২০ হাজার ডেলিগেটসসহ প্রায় ৩৫ হাজার লোকের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের চারপাশে বড় পর্দায় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মূল মঞ্চে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক ছাড়াও জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতি টানানো হয়েছে। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, দলের সভাপতি পদে শেখ হাসিনা ও সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম পুনর্নির্বাচিত হচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। এ দুই পদে আগ্রহী হিসেবে দৃশ্যমান কোনো প্রার্থীও নেই।

তবে সভাপতিমণ্ডলী, সম্পাদক মণ্ডলী ও কেন্দ্রীয় সদস্য পদে অনেকের আগ্রহ থাকলেও এসব পদে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগের আজকের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়াসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এ ছাড়া দেশের খ্যাতনামা বুদ্ধিজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী নেতা, সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এর আগে ২০০৯ সালের ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন হয়।

নিউজরুম

শেয়ার করুন