নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পেলেন পিয়াস

0
95
Print Friendly, PDF & Email

নাটোর (২৯ ডিসেম্বর) :  নাটোরের নলডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি মেয়র আব্বাস আলী নান্নুকে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে অপসারণের পর প্যানেল মেয়র-১ শরিফুল ইসলাম পিয়াসকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব রেহানা ইয়াসমিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি নাটোর সদর উপজেলা কার্যালয়ে পৌঁছেছে। ওই চিঠিতে প্যানেল মেয়র শরিফুল ইসলাম পিয়াসকে মেয়রের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 
এ ব্যাপারে প্যানেল মেয়র ও নলডাঙ্গা পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম পিয়াস বাংলানিউজকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় মেয়র আব্বাস আলীকে অপসারণ ও তাকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল নলডাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য ৩৫ লাখ টাকার টেন্ডার আহ্বান করা হয়।

ওই টেন্ডারে ৮ ঠিকাদার প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড রাজশাহী শাখার জাল ব্যাংক ড্রাফট (বিডি) সংযুক্ত করে পৌরসভায় জমা দেয়। এ বিষয়ে অভিযোগ হলে উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাক আহমেদ তদন্ত করে জাল বিডির সত্যতা পান।
 
জাল বিডির বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পৌর মেয়র আব্বাস আলী নান্নুকে জেলা প্রশাসক নির্দেশ দেন। কিন্তু পৌর মেয়র জাল ব্যাংক ড্রাফট দাখিলকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিয়ে জাল ব্যাংক ড্রাফট ডকুমেন্ট পুড়িয়ে তথ্য গোপন করার চেষ্টা করেন। এছাড়া একই সময়ে প্যানেল মেয়রকে দায়িত্ব বুঝে না দিয়ে বিদেশ সফরে চলে যান।
 
পরবর্তীতে জাল ব্যাংক ড্রাফট ডকুমেন্ট পুড়িয়ে ফেলা, দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা না করা এবং বিদেশ গমনের সময় প্যানেল মেয়রকে দায়িত্ব বুঝে না দেওয়ার বিষয়ে কারণ দর্শানোর নেটিশ দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মেয়র আব্বাস আলী নান্নু কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ দর্শানোর জবাব দেন। কিন্তু সেই জবাব কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ ও সন্তোষজনক হয়নি।

গত ১৯ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের পৌর-২ শাখা হতে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ধারা ৩২ (১) (ঘ) বিধি মোতাবেক তাকে নলডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র পদ থেকে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ সংক্রান্ত একটি চিঠি নির্বাচন কমিশন সচিব, জেলা প্রশাসক, সরকারী মুদ্রালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা, প্যানেল মেয়র-১ এবং মেয়র আব্বাস আলী নান্নুকে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ অন্যরা চিঠি প্রাপ্তির কথা স্বীকার করলে মেয়র আব্বাস আলী নান্নু এখনও চিঠি হাতে পাননি বলে জানান।

নিউজরুম

শেয়ার করুন