স্কাইপ সংলাপের চরিত্র ২২, কেউই অস্বীকার করেননি- শুনানিতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক

0
244
Print Friendly, PDF & Email

ডেস্ক রির্পোট (২৮ ডিসেম্বর) : পুনর্বিচার চেয়ে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের দায়ের করা আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে। গতকাল তার পক্ষে শুনানিতে ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক বলেন, বিচারপতি মো. নিজামুল হক ও ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিনের মধ্যকার স্কাইপ সংলাপে ২২ জন ব্যক্তির কথা উঠে এসেছে। তাদের সাত জন বিচার বিভাগের, ছয় জন প্রসিকিউশনের, চার জন নির্বাহী বিভাগের এবং বাকিরা অন্যান্য শ্রেণীর। তাদের কেউই স্কাইপ সংলাপকে অস্বীকার করেননি। তাদের কেউই প্রতিবাদ করেননি। তাই স্কাইপ সংলাপের সত্যতা নিয়ে কোনই সন্দেহ নেই। এত কিছুর পরও যদি ট্রাইব্যুনালের আগের আদেশ প্রত্যাহার করা না হয়, তাহলে বিচার ব্যবস্থা এবং ন্যায়বিচার বলতে কিছুই থাকবে না। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল ১-এ গতকাল এই শুনানি হয়। গোলাম আযমের পক্ষে শুনানি শেষে জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে শুনানি শুরু করেন আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। শুনানির এক পর্যায়ে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে তার বাক্যবিনিময় হয়। পরে শুনানি রোববার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়। গতকালের শুনানিতে ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, ইকোনমিস্ট এবং আমার দেশ স্কাইপ সংলাপ প্রকাশ করেছে। ইকোনমিস্ট বলেছে, কেন তারা এই সংলাপ প্রকাশ করেছে। জনস্বার্থ এবং মানুষের জীবনের প্রশ্ন জড়িত থাকার কারণেই পত্রিকাটি সংলাপ প্রকাশ করেছে। ইকোনমিস্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পত্রিকা। বৃটেনের তথ্য প্রযুক্তি আইন অত্যন্ত কঠোর। যদি সত্য না হতো ইকোনমিস্ট ওই সংলাপ প্রকাশ করতো না। তিনি বলেন, যদি সত্য হয় এবং জনস্বার্থ জড়িত থাকে তবে সংবাদপত্রের অবশ্যই এখতিয়ার রয়েছে তথ্য প্রকাশের। তিনি বাংলাদেশ, ভারত, বৃটেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ আদালতের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করে বলেন, স্কাইপ সংলাপ এবং আদান-প্রদান করা ই-মেইল আদালত অবশ্যই বিবেচনায় নিতে পারে। ব্যারিস্টার রাজ্জাক বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে যারা কর্মরত তাদের গোপনীয় তথ্য জনস্বার্থে প্রকাশে কোন আইনি বাধা নেই। বিচারপতি নাসিমের গোপনীয় তথ্য প্রকাশ করেও সংবাদমাধ্যম কোন অপরাধ করেনি। তিনি বলেন, জনস্বার্থে প্রকাশিত তথ্য দিয়েই আমরা আবেদন করেছি। ন্যায়বিচারের স্বার্থে যে কোন আদেশ দেয়ার এখতিয়ার এ ট্রাইব্যুনালের রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল চাইলেই তাদের আগের আদেশ প্রত্যাহার করতে পারে। এ নিয়ে কোন আইনি বাধা নেই। ব্যারিস্টার রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালের বিচারপতিদের উদ্দেশ্যে করে বলেন, আপনারা এমন একটি এজলাসে বসে বিচারকাজ পরিচালনা করছেন যেখানে এক সময় বিচারপতি মোর্শেদ বসতেন। ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠায় তার দেয়া আদেশ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। তিনি আবারও উল্লেখ করেন, গোলাম আযমের মামলায় অভিযোগ আমলে নেয়া, চার্জ গঠনসহ ছয়টি আদেশ বেলজিয়াম থেকে ড. আহমেদ জিয়াউদ্দিন লিখে পাঠিয়েছিলেন।
কাদের মোল্লার সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে প্রসিকিউশন
এদিকে, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিপক্ষে যুক্তি উত্থাপন শেষ করেছে প্রসিকিউশন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তার সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়েছে। বিচারপতি এম ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল ২-এ গতকাল এ শুনানি হয়। আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ২০১৩ সালের ৭ই জানুয়ারি দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল। এর আগে গত ১৭ই ডিসেম্বর কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আলী। গতকাল যুক্তি উত্থাপন শেষ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। তিনি বলেন, কাদের মোল্লা নিজে রাইফেল হাতে গুলি করেছেন। গত ২৮শে মে মুক্তিযুদ্ধকালীন হত্যা, গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ, ষড়যন্ত্র ও উস্কানিসহ ৬টি অভিযোগ এনে কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৩(১), ৩(২)(এ) (এইচ) অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল-২। গত ২০শে জুন তার বিরুদ্ধে সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- কবি মেহেরুন্নেসাসহ বুদ্ধিজীবী হত্যা, পল্লবীর আলোকদি গ্রামে ৩৪৪ জনকে হত্যা, খন্দকার আবু তালেবকে হত্যা, বাঙলা কলেজের ছাত্র পল্লবসহ সাত জনকে হত্যা, কেরানীগঞ্জের শহীদনগর গ্রামের ভাওয়াল খান বাড়ি ও ঘাটারচরসহ পাশের আরও দু’টি গ্রামের অসংখ্য লোককে হত্যার ঘটনা।

 

শেয়ার করুন