জালিয়াতি করে ঢাবির মেধাতালিতায় ৫ জন !

0
133
Print Friendly, PDF & Email

ঢাবি (২৮ ডিসেম্বর) : জালিয়াতি করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার মেধা তালিকায় স্থান করে নেওয়া পাঁচ শিক্ষার্থীকে সনাক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তাদের সবার অবস্থান মেধা তালিকার ১৫০-এর মধ্যে।

এরই মধ্যে এই পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে বিষয়ও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অফিস সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে বিষয়টি আরও উচ্চ পর্যায়ের অনুসন্ধানের জন্য বুধবার বিশ্ববিদ্যালয়ের  ডিনস কমিটির বৈঠকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) ড. সহিদ আকতার হোসাইনকে প্রধান করে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আমজাদ আলী  “গত ২১ অক্টোবর ডিজিটাল জালিয়াতির অভিযোগে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জালিয়াত চক্রের ১১জনকে ঢাবি প্রক্টোরিয়াল টিমের সহযোগিতায়  আটক করে ডিবি পুলিশ। এদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য খতিয়ে দেখে এই পাঁচজনকে সনাক্ত করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “আমাদের ধারণা এরা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে জালিয়াতি করে মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।”

এই পাঁচ শিক্ষার্থী পরীক্ষার হলে মোবাইল এনে বাইরে থাকা অভিজ্ঞ কিছু ব্যক্তির সঙ্গে এসএমএস এর মাধ্যমে প্রশ্নের সমাধান করেছে বলে জানা গেছে।

প্রক্টর অফিস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জালিয়াতদের মধ্যে মেধা তালিকায় খান জাহান আলী ৪৮তম, নাজমুল আরেফিন ৯ম এবং মেহেদী হাসান ৫০তম। বাকি দুজন মেধা তালিকায় ১৫০ এর মধ্যে অবস্থান করলেও তাদের নাম জানা যায়নি।

আরও জানা যায়, নাম উল্লেখিত তিনজন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় রেজাল্টের স্কোর অনেক কম হলেও ভর্তি পরীক্ষায় তারা আশ্চর্যজনকভাবে সর্বাধিক নাম্বার পাওয়াদের তালিকায় স্থান করে নেয়।

মেধাতালিকায় স্থান করে নেওয়া খান জাহান আলীর ভর্তি পরীক্ষার স্কোর ৯০.৩৬ হলেও  মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার স্কোর ৬০.৩৬, নাজমুল আরেফিনের ভর্তি পরীক্ষার স্কোর ৯০.৯০ হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার স্কোর ৬৭.৮৬, মেহেদী হাসানের ভর্তি পরীক্ষার স্কোর ৯৩.৬০ হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার স্কোর ৫৭.২৮।

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ স্কোর ধরা হয় ৮০। ভর্তি পরীক্ষার নম্বর থাকে ১২০। গড় হিসাব করে তৈরি করা হয় মেধা তালিকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয়  ভর্তি অফিস সূত্র জানায়, সনাক্ত করা পাঁচজন ছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় কেউ ৯০-এর বেশি নাম্বার পায়নি। এরা প্রত্যেকেই ইংরেজিতে ৩০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ২৮.৫০। সাধারণজ্ঞানেও এদের সবার নাম্বার প্রায় সমান।

প্রক্টর আরও জানান, আটক ১১জনের মধ্যে একজনের নাম হাবিবুর রহমান। তার  ছোটভাই খান জাহান আলী ভর্তি পরীক্ষায় ৪৮তম এবং তার  গ্রামের নাজমুল আরেফিন নবম স্থান অধিকার করেছে।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপচার্য ড.  সহিদ আকতার হোসাইন বলেন, “এই পাঁচজনের ভর্তির পরবর্তী কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। শুরু হয়েছে তদন্ত কার্যক্রম। তদন্ত রিপোর্টের ফলাফল অনুযায়ী এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন