এমএ পাশ করলেন মুশফিকুর রহিম

0
138
Print Friendly, PDF & Email

স্পোর্টস ডেস্ক(২৫ ডিসেম্বর): ধরুন, বাংলাদেশ অধিনায়কের নাম হয়ে গেল ডক্টর মুশফিকুর রহিমআপাতত সেটাহচ্ছে না কারণ, মুশফিক যদি কখনো সত্যি সত্যি পিএইচডি করেনও, তত দিন পর্যন্ততাঁর জাতীয় দলের অধিনায়ক থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণতবে বাংলাদেশ অধিনায়কেরইচ্ছা আছে, একদিন তিনিও পিএইচডি করবেন
কৃতী ছাত্র হিসেবে মুশফিকেরপরিচয় আগেই জেনেছেনসর্বশেষ খবর হলো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকেইতিহাস বিভাগে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন তিনি প্রথম শ্রেণী নিয়েস্নাতকেওপ্রথম শ্রেণী ছিলএমন একজন ছাত্র আরও উচ্চশিক্ষায় মনোযোগী হতেই পারেনকালবিসিবি অফিসে দাঁড়িয়ে মুশফিকও বলছিলেন, ‘একাডেমিক ডিগ্রি যে খেলায় খুববেশি সাহায্য করবে তা নয়তবে এখান থেকেও অনেক কিছু শিখেছিআর এখানেইপড়াশোনা শেষ নয়আশা করছি, ভবিষ্যতে এমবিএ বা পিএইচডিও করবপেশাদারক্রিকেটার যেহেতু, ক্রিকেট নিয়ে উচ্চশিক্ষার ইচ্ছা মুশফিকেরএমনকিভবিষ্যতে শিক্ষাগত যোগ্যতা দিয়ে যদি ভালো কোনো চাকরিও পান, করবেন সেটাও, ‘রকম পরিস্থিতি তৈরি হলে চাকরি না করার তো কিছু নেই
বাংলাদেশেরপ্রেক্ষাপটে খেলাধুলা আর পড়াশোনার অবস্থান বিপরীত মেরুতেখেলা আর পড়াএকসঙ্গে হয় না, এটা তো অভিভাবকদের প্রিয় বুলিই ছিল একসময়পরিবার থেকেদুটিতেই সমর্থন পেলেও কথাটা মুশফিককেও কম শুনতে হয়নিকিন্তু কীভাবে তিনিমেলালেন দুই মেরুকে? মুশফিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন বন্ধু সহপাঠী এবংবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের প্রতি, ‘আমার যতটা কৃতিত্ব, তার চেয়েবেশি কৃতিত্ব দেব আমার শিক্ষক আর বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধুদেরতাঁদেরসহযোগিতা ছাড়া এটা কখনোই সম্ভব হতো নাঅনেক সময় ক্লাস করতে পারতাম না, বন্ধুদের নোট নিয়ে পড়তামঅ্যাটেনডেন্সে সমস্যা হলেও স্যাররা আমাকে কনসিডারকরেছেনআমাকেও কষ্ট করতে হয়েছেতার পরও যখনই সময় পেয়েছি ক্লাস করেছি
পড়াশোনাশেষ করায় সবচেয়ে বড় প্রেরণাটা নিজের কাছ থেকেই পেয়েছেন মুশফিকযা-ই করব, ভালোভাবে করবএটাই তাঁর দর্শনপড়া আর খেলাদুটিতেই একসঙ্গে ভালো কিছু করেদেখানোর চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন তাই মনে মনেপরীক্ষার আগে আগে হয়তো অনেক সময়খেলতে বিদেশে চলে গেছেনকফিনে ব্যাট-প্যাডের সঙ্গে তখন সঙ্গী হতোবই-খাতাওঅবসরের সময়টাতে অন্যরা যখন আড্ডা দিয়েছেন, মুশফিক ডুবে ছিলেনপাঠ্যবইয়েসতীর্থরাও বলতেন, ‘আড্ডা দিস না, পড়তোর না পরীক্ষা!’ ‘বিশ্বাসকরবেন কি না জানি না, এমনও সময় গেছে যে আমি প্লেনে করে এসেছি পড়তে পড়তেপরদিন পরীক্ষা…কেঁদেছিএসব আত্মত্যাগের পর যে পড়াটা শেষ করতে পেরেছি, সেজন্যই বেশি ভালো লাগছে’—একটু যেন আবেগাপ্লুতই হয়ে পড়লেন বাংলাদেশ দলেরএমএ পাস অধিনায়ক
খেলাধুলায় শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে নাআবার এটাও ঠিক, পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড় হয়ে উঠতে গোপন প্রভাবক হিসেবে কাজ করে এই যোগ্যতাসমবয়সী সতীর্থ এবং জুনিয়রদের প্রতিও তাই তাঁর পরামর্শপড়াশোনাটা ছেড়ো না, ‘এটা জীবনেরই অংশমানুষ হয়ে জন্মালে পড়াশোনা করতেই হবেআমি মনে করি এটাঅনেক বড় বার্তা হবে সবার জন্যএটা সত্যি, অনেক ছাড় দিতে হয়তবে কেউ যদিপড়াশোনাটা করে, শেষ পর্যন্ত লাভটা নিজেরইজুনিয়র যারা আছে তাদেরও বলিপড়াশোনাটা চালিয়ে যেতে
ছেলের প্রতি আস্থা সব সময়ই আছে পরিবারেরতারপরও, খেলতে খেলতে ছেলে এমএ পাস করে ফেলায় একটু নাকি অবাকই হয়েছে মুশফিকেরাপরিবারএখন তিনি পরিবারের ছোটদের কাছেও অনেক বড় উদাহরণআমার মনে হতো, আমি যদি খেলার পাশাপাশি ভালোভাবে পড়াশোনা করি ছোট ভাইবোনেরাও বুঝবে ভাইয়াতো খেলে, তার পরও পড়ছেআমরা কেন পারব না?’
ভাইয়ামুশফিকের পড়া এখনশেষপেশা হিসেবে যেহেতু খেলাটাকে আগেই বেছে নেওয়া আছে, বাকি রইল কেবলজীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করাছোট ভাইবোনদের জন্য একজন ভাবি খুঁজে আনানতুন জীবনের স্বপ্ন এখন মুশফিকের চোখেও, ‘যেহেতু এখন সিঙ্গেল, অবশ্যই বিয়েকরার ইচ্ছা আছেসময় হলেই সবাই জানতে পারবেনসবাইকে জানিয়েই করব
এমএ পাসদেখতে সুশ্রীজাতীয় দলের অধিনায়কপাত্র হিসেবে মনে হয় খুব একটা খারাপ হবেন না মুশফিকুর রহিম

 

নিউজরুম

 

শেয়ার করুন