মানব জাতিকে মুক্তির পথ দেখাতে ৬ দিন পর যার আবির্ভাব ঘটে

0
207
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৫ ডিসেম্বর) :  শীতের রাতে বেথেলহেমের এক গোয়ালঘরে কুমারী মাতা মেরীর কোলে জন্ম হয়েছিল খ্রিস্টধর্মের প্রবর্তক যিশুখ্রিস্টের। খ্রিস্ট ধর্মীয় বিশ্বাসমতে, মেরির গর্ভে জন্ম নেওয়া এ শিশুর পিতা স্বয়ং ঈশ্বর। মানব জাতিকে মুক্তির পথ দেখাতে ৬ দিন পর যার আবির্ভাব ঘটে। যিনি হয়ে ওঠেন যিশু।

তিনি ঈশ্বরের পুত্র। যার স্পর্শে পাপের আবর্তে নিমজ্জিত থাকা মানুষের অন্তরে এনে দেয় শান্তির পরশ। ২ হাজার ১১ বছর আগে এই শুভদিনে পৃথিবীকে আলোকিত করেন যীশু। যিনি পৃথিবীতে ছড়িয়েছেন শান্তির বার্তা। এবারের যিশুখ্রিস্টের জন্মদিন এসেছে দেশজুড়ে যখন রাজনৈতিক সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে ঠিক সে সময়ে। রাজনীতির ময়দানে চলছে সরকার ও বিরোধী দলের প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য। ছাত্রলীগের নির্মম হত্যাকাণ্ডের স্বীকার বিশ্বজিতের মতো নিরীহ মানুষ।

অন্যদিকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে জামায়াত-শিবির চক্র দেশজুড়ে তাণ্ডব আর চোরাগোপ্তা হামলা চালাচ্ছে ঠিক সে সময়ে।ধর্মীয় বিভেদ থাকলেও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ দেশে দেশের শান্তিকামী মানুষ চায় অস্থির এ সময়ে বড়দিন যেনো নিয়ে আসে শান্তির বার্তা।

যিশু নামে সেই শিশুটি বড় হয়ে পাপের শৃঙ্খলে আবদ্ধ মানুষকে মুক্তির বাণী শুনিয়েছিলেন। তিনি বললেন, “ঘৃণা নয়, ভালোবাসো। ভালোবাসো সবাইকে, ভালোবাসো তোমার প্রতিবেশীকে, এমনকি তোমার শত্রুকেও। মানুষকে ক্ষমা করো, তাহলে তুমিও ক্ষমা পাবে। পাপীকে নয়, ঘৃণা করো পাপকে। ঈশ্বরকে ভয় করো।“

যিশুখ্রীস্ট শান্তি ও সৌহার্দ্যের বারতা নিয়ে পৃথিবীতে এসেছিলেন, নিপীড়িত ও নির্যাতিত মানুষকে দিয়েছিলেন মুক্তির বার্তা । মানুষের প্রতি প্রেম, সেবা ও সহভাগিতার বাণী ছড়িয়েছিলেন। তার কথা ও কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে মুক্তিকামী বহু মানুষ তাকে অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু মানুষের মুক্তির এই বার্তা বয়ে আনার জন্য তাকে চরম কষ্ট ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ক্রুশবিদ্ধ হয়ে আত্মত্যাগ করেছিলেন তিনি।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ক্রিসমাস আমাদের দেশে বড়দিন হিসেবে আখ্যায়িত। বলা হয়ে থাকে, ঋতু পরিক্রমায় তীব্র শৈত্যমণ্ডিত ডিসেম্বরের ২৫ তারিখ দৈর্ঘ্যে ছোট হলেও এর গুরুত্ব বিশাল। তাই দিনটি বড়দিন নামে অভিহিত।

ডিসেম্বরের শুরু থেকেই রাজধানীসহ খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে বড়দিনের আমেজ শুরু হয়েছে। সোমবারই সম্পন্ন হয়েছে এদিন পালনের সব প্রস্তুতি। রাতে রাজধানীর বিভিন্ন খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গির্জাসহ বাসাবাড়ি বিশেষভাবে সজ্জিত করা হয়েছে। ক্যাথলিক খ্রিস্টানরা তৈরি করেছেন যিশুর জন্মদিনের গোয়ালঘর। প্রটেস্ট্যান্টদের স্থাপনাগুলোতে শোভা পাচ্ছে যিশুর আগমনী তারকা। এসব এলাকায় সোমবার রাত থেকেই শুরু হয়েছে প্রার্থনা সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

রাজধানীর কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রালে গিয়ে দেখা গেছে রাতেই প্রধান প্রার্থনাসভার আয়োজন শুরু হয়েছে।

পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এ দিনটিকে ঘিরে ছুটির উৎসব শুরু হয়। নগর-গ্রাম আলোকসজ্জায় উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। স্থানে স্থানে তারকা শোভিত আলো দেখা যায়। পূর্বদেশের তিন জ্ঞানী যেভাবে আকাশের তারকাকে অনুসরণ করে বেথেলহেমে যিশুখ্রিস্টের জন্মস্থানে উপস্থিত হতে পেরেছিলেন, সেই আলোক দিশার কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় এই আলোকসজ্জা। ক্রিসমাসে ভ্রমণপিপাসু মানুষেরা ক্রিসমাসের ছুটি উপভোগ করতে সপরিবারে দূর-দূরান্তে ছুটে যান। শুধু পাশ্চাত্যে নয়, প্রাচ্যের বহু দেশেও বড়দিন বছরের প্রধান উৎসব হিসেবে পালিত হয়। কালের বিবর্তনে এ উৎসব খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের বৃত্ত থেকে ছড়িয়ে পড়েছে অন্যদের মধ্যেও। বিশেষ করে, ক্রিসমাস উৎসবের জৌলুসময় আলোকসজ্জা সবাইকে আকৃষ্ট করে। সুসজ্জিত ক্রিসমাস ট্রি-কে কেন্দ্র করে নানা আয়োজনে যোগ দেন ছোট-বড় সকলে।

ক্রিসমাসে বিশেষ আয়োজন থাকে শিশুদের জন্য। ছোটদের প্রিয় চরিত্র সান্তাক্লজের আগমন ঘটে বড়দিনে। সান্তাক্লজের আগমন ও ছোটদের মধ্যে উপহার বিতরণের আয়োজন এ দিনের আকর্ষণীয় অনুষঙ্গ। আমাদের দেশেও ক্রিসমাস উৎসব আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়। এরইমধ্যে দেশের চার্চগুলো বড়দিনের সাজে সেজে উঠেছে। চারদিকে নানা প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বড়দিনের বাহ্যিক সৌন্দর্য সবাইকে আকৃষ্ট করে এ কথা যেমন সত্য, তেমনি এর অন্তর্গত শিক্ষাও আকর্ষণীয়।

বড়দিন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী দলের প্রধান বিশেষ বাণী দিয়েছেন। সোমবার রাত থেকেই বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনে এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেলসমূহে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

রাতে রাজধানীর হোটেলগুলোতেও বর্ণিল আলোকসজ্জা। সোনারগাঁও, রূপসী বাংলা, রেডিসন, ওয়েস্টিনের মতো নামিদামি হোটেলগুলোতে থাকছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান।

নিউজরুম

শেয়ার করুন