সাক্ষীরা তো আর বেলজিয়াম থেকে আসেননি: অ্যাটর্নি জেনারেল

0
242
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (২৪ ডিসেম্বর) : হ্যাকড করা স্কাইপি সংলাপের সূত্র ধরে কথা বলে এবং বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে বিভিন্ন আবেদনসহ নানা কাজকর্ম করে আসামিপক্ষ অন্যায় করছেন বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। ট্রাইব্যুনালের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা এসব কাজ করে যাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বেলজিয়ামের ব্রাসেলস প্রবাসী বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি সংলাপকে উদ্ধৃত করে ট্রাইব্যুনালে চলমান বিভিন্ন মামলার আসামিদের আইনজীবীরা বলে আসছেন, ‘‘মামলার বিভিন্ন বিষয় বেলজিয়াম থেকে আহমেদ জিয়াউদ্দিন লিখে পাঠাচ্ছেন।’’    

 

এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘‘সাক্ষীরা তো আর বেলজিয়াম থেকে আসেননি। তারা সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন।’’
‘‘হ্যাকিং করা স্কাইপি সংলাপ দিয়ে কিভাবে অস্বীকার করবেন যে, রাও ফরমান আলীর সঙ্গে গোলাম আযমের বৈঠকের ছবি আছে? এটাতো ইতিহাস। ইতিহাসকে অস্বীকার করতে পারবেন হ্যাকিং করে পাওয়া অভিযোগ থেকে?’’ আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে এসব প্রশ্নও ছুড়ে দেন সরকারি এই শীর্ষ আইন কর্মকর্তা।
সোমবার একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযমের মামলার বিচার পুনরায় শুরু (রি-ট্রায়াল) করতে আসামিপক্ষের আবেদনের শুনানিতে অংশ নিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ আসেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম। তিনি রাষ্ট্রপক্ষে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্যের জবাব দেন।

 

পরে সাংবাদিকদেরকে ব্রিফ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।   

 

অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম আরও বলেন, ‘‘শুরু থেকে এ বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে একটি গ্রুপ চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিষয়ে লবিস্ট নিয়োগ করেছে।’’

 

‘‘বিচার প্রতিহত করার জন্য যেসব চেষ্টা চলছে, সেসব চেষ্টা সফল হবে না’’ বলেও উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

 

তিনি বলেন, ‘‘গোলাম আযমের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো দিয়েই বিচার হবে। বিচার হবে সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে। প্রসিকিউটরদের দেওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে।’’

 

এর আগে ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযমের পুনর্বিচারের আবেদনের সপক্ষে শুনানি করেন আসামিপক্ষের প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক। তিনি পরে সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘‘আমরা এ মামলা শুরু থেকে শুরু করতে আবেদন জানিয়েছি।’’   

 

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে-১ চলমান জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী ও নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বিচার পুনরায় শুরু (রি-ট্রায়াল) করতে আসামিপক্ষ পৃথকভাবে ৩টি আবেদন করেছেন।

 

এর মধ্যে সোমবার গোলাম আযমের মামলার পুনর্বিচারের আবেদনের শুনানি শুরু হয়েছে চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে।

 

আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি সংলাপকে উদ্ধৃত করে এসব মামলার বিচার প্রক্রিয়া যথাযথ নিয়মে শুরু হয়নি অভিযোগ তুলে বিচার কার্যক্রম ফের শুরুর আবেদনগুলো করেন আসামিপক্ষ। সোমবার থেকে আবেদনগুলোর বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করে দেন ট্রাইব্যুনাল।

 

তবে রোববার আবেদনগুলোর পক্ষে ল’ পয়েন্টে শুনানি করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যরিস্টার মওদুদ আহমদ এমপি। মওদুদ বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য রায় হওয়ার জন্য এ মামলাটি পুনরায় শুরু করা প্রয়োজন।
এ ট্রাইব্যুনালে গোলাম আযম, নিজামী ও সাঈদী ছাড়াও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বিচার চলছে। এর মধ্যে সাঈদীর মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে গত ৬ ডিসেম্বর। তার বিরুদ্ধে রায় যে কোনো দিন দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করে মামলাটির রায় ঘোষণা অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছেন ট্রাইব্যুনাল। আর নিজামীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরা চলছিল। পুনর্বিচারের আবেদনের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত শুনানি মুলতবি থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।   

 

অন্যদিকে গোলাম আযমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের সকল সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও আসামিপক্ষের জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর তার পক্ষে সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ করা হচ্ছিল। গোলাম আযমের ছেলে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বাবার পক্ষের প্রথম সাফাই সাক্ষী হিসেবে সাফাই সাক্ষ্য দিচ্ছিলেন। কিন্তু পর পর কয়েকটি ধার্য তারিখে সাফাই সাক্ষী ও তার আইনজীবী উপস্থিত না হওয়ায় বার বার সময়ের আবেদন করছিলেন অন্য আইনজীবীরা। এর প্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল সাফাই সাক্ষ্যগ্রহণ বাতিল করে যুক্তিতর্ক (আর্গুমেন্ট) উপস্থাপনের দিন ধার্য করেছিলেন। তবে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী ও আইনজীবী উপস্থিত হতে পারলে তার অসমাপ্ত সাক্ষ্যগ্রহণেরও আদেশ দিয়ে রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল। ১৯ ডিসেম্বরও এ তারিখ ধার্য থাকলেও আসামিপক্ষের পুনরায় বিচার শুরুর আবেদনে তা করা যায়নি।

 

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বেলজিয়ামের ব্রাসেলস প্রবাসী বাংলাদেশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর পদত্যাগী চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের স্কাইপি সংলাপের ওপর সংবাদ প্রকাশিত হয় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায়। এরপর গত ১১ ডিসেম্বর পদত্যাগপত্র জমা দেন বিচারপতি নিজামুল হক।

 

বিচারপতি নিজামুল হকের পদত্যাগের পর ১৩ ডিসেম্বর দু’টি ট্রাইব্যুনালই পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। এতে ট্রাইব্যুনাল-১ এ বিচারপতি নিজামুল হকের স্থলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর।

এ সুযোগে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা মামলা পুনরায় শুরু করার আবেদনসহ বিভিন্ন আবেদন ট্রাইব্যুনালে দাখিল করছেন।

নিউজরুম

শেয়ার করুন