রেলের কাণ্ড, মোট আসনের অর্ধেক এক প্রতিষ্ঠানকে!

0
147
Print Friendly, PDF & Email

ঢাক (২২ডিসেম্বর):সাধারণ যাত্রীদের কথা চিন্তা না করে একটি চাহিদাপত্রের বিপরীতে ট্রেনের ৩৪০টি টিকিট দেওয়া হয়েছে এক প্রতিষ্ঠানের নামে।

চট্টগ্রাম অভিমুখী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটির এসব আসন বরাদ্দ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। এতে মোট আসন রয়েছে প্রায় ৯০০টি। এ কারণে সাধারণ যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েছে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ইউনির্ভাসিটি অব প্রফেশনালসের আওতাধীন ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড এবং স্টাফ কলেজ অব বাংলাদেশকে (স্টাফ কলেজ)  একসঙ্গে এ পরিমাণ টিকিট দেওয়া হয়েছে।

ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে ২৯ ডিসেম্বরের জন্য টিকিট কেটে নেওয়া হয়েছে।

এভাবে এক চাহিদাপত্রের বিপরীতে এতোগুলো টিকিট দেওয়া মোটেও যৌক্তিক নয় বলে মত প্রকাশ করেছেন যাত্রী ও রেল সংশ্লিষ্টরা।

তবে তারপরও যদি প্রয়োজন পড়ে তবে সংশ্লিষ্ট ট্রেনে অতিরিক্ত বগি লাগাতে হবে, যাতে সাধারণ যাত্রীদের আসন ঘাটতি না হয়। অথচ নির্ধারিত তারিখে কোনো  অতিরিক্ত বগিও লাগানো হচ্ছে না।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আবু তাহেরকে কয়েকবার টেলিফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। একই ভাবে বিভাগীয় বাণিজ্যিক কর্মকর্তাকেও পাওয়া যায়নি।

সূত্র মতে, সুবর্ণ এক্সপ্রেসে মোট আসন ৮৯৯টি। ট্রেনের টিকিটে বিভিন্ন ধরনের কোটা থাকে প্রায় ১৫ শতাংশ। এর মধ্যে সরকারি কর্মকর্তা, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি (ভিআইপি), প্রতিবন্ধী এবং রেল কমকর্তাদের কোটা রয়েছে। সে হিসেবে প্রায় ১৩৫টি আসন চলে যায় কোটাতে। বাকি থাকে ৭৬৪টি আসন। এর মধ্য থেকে ৩৪০টি আসন নিয়েছে স্টাফ কলেজ। যা নির্ধারিত দিনের মোট আসনের প্রায় অর্ধেক।

সূত্র মতে, সুবর্ণ এক্সপ্রেসে মোট আসনের ৪৫৯টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত চেয়ার। এর ৩৩০টি এবং ১০টি শোভন চেয়ার মিলিয়ে ৩৪০টি আসন দেওয়া হয়েছে স্টাফ কলেজকে।

জানা গেছে, এতো বড় চাহিদাপত্রের অনুমোদনের বিপক্ষে মত দিয়েছেন রেলের কয়েকজন কর্মকর্তা। বিষয়টি লিখিত ভাবে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আবু তাহেরকেও জানান কর্মকর্তারা। মূলত তিনিই এভাবে চাহিদাপত্রের বিপরীতে অনুমোদন দিতে পারেন।

এদিকে জানা যায়, স্টাফ কলেজ থেকে সংশ্লিষ্ট দলটি চট্টগ্রামে যাবে। তাদের নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাও রয়েছে।

অন্যদিকে, ব্যস্তমত ঢাকা- চট্টগ্রাম রুটে প্রায় সবদিনই যাত্রীদের ভিড় থাকে। সিট না থাকায় দাঁড়িয়ে যেতে হয় যাত্রীদের। আর ২৯ ডিসেম্বরের জন্য এক সঙ্গে ৩৪০টি  টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ায় টিকিট নিতে আসা সাধারণ যাত্রীরা টিকিট না পেয়ে  ফিরে যাচ্ছেন। তাদেরকে কাউন্টার থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে টিকিট নেই।  এতে তারা ক্ষুব্ধ হলেও নিরুপায় হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে কথা হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মো. জুলফিকার হোসেনর সঙ্গে। নির্ধারিত দিনের টিকিট কিনতে তিনি কমলাপুরে আসলে তাকে জানানো হয়েছে টিকিট নেই। তিনি বলেন, ‘‘এক সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে টিকিট কিনতে এসে যদি এমন কথা শুনতে হয় তবে সাধারণ যাত্রীরা আর কোথায় যাবে।”  

নিউজরুম

শেয়ার করুন