পরেশ বড়ুয়া ডিজিএফআইয়ের আশ্রয়ে ছিলেন

0
232
Print Friendly, PDF & Email

ঢাকা (১৪ ডিসেম্বর)  ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদি সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম (উলফা)এবং বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের মধ্যে এক সময়ের কথিত যোগাযোগের ওপর নতুন করে আলো ফেলেছেন বিখ্যাত সুইডিশ সাংবাদিক বার্টিল লিন্টনার। নতুন বই গ্রেট গেইম ইস্ট এ তিনি লিখেছেন, ১৯৯৬ সালের ২৯ এপ্রিল ঢাকায় উলফার সামরিক শাখার প্রধান পরেশ বড়‍ুয়ার সঙ্গে দেখা হয়েছিল তার। আর সেই সাক্ষাৎ ঘটেছিল ডিজিএফআইয়ের এক সেইফ হাউজে। ফার ইস্টার্ন ইকনোমিক রিভিউয়ের সাবেক সাংবাদিক বার্টিল লিন্টনারের লেখা ৪৪২ পৃষ্ঠার এ বইটি প্রকাশ করেছে হার্পার কলিনস।

বইটির পঞ্চম অধ্যায়ের শিরোনাম আসাম অ্যান্ড বাংলাদেশ, যেখানে ঢাকায় পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে সেই সাক্ষাতের কথা তুলে ধরেছেন লিন্টনার। ১৯৯৬ সালে ওই সাক্ষাতের কিছুক্ষণ আগেই গৌহাটির নীলাচল পাহাড়ের চূড়ায় কামাক্ষ্যা মন্দিরের বাইরে এক হামলায় এক ভারতীয় কর্নেলের নিহত এবং আরেকজনের গুরুতর আহত হওয়ার কথা পরেশের কাছে পৌঁছায়। খবরটা যখন আসে, সে সময় তিনি (পরেশ) একা ছিলেন না। ঢাকার একটি সেইফ হাউজে তার পাশে ছিলেন ডিজিএফআইয়ের দুই কর্মকর্তা। আমিও ছিলাম সেখানে। আর এটা নিশ্চিত যে, এই গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা তাদের অত্যন্ত গোপন এই সেইফ হাউজে একজন বিদেশি সাংবাদিক দেখে মোটেও খুশি হয়নি।

বইটির বিবরণ অনুযায়ী, পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে লিন্টনারের ওই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন উলফার জেনারেল সেক্রেটারি অনুপ চেটিয়া, যিনি নিজেও পরে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে আছেন। পরে ২০০২ সালে আরেক দফা উলফা নেতাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করলেও ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে লিখেছেন লিন্টনার। ২০০২ সালের মার্চে চট্টগ্রামে উলফার ফরেইন সেক্রেটারি শশধর চৌধুরীর সঙ্গে আমার দেখা করার ব্যবস্থা হয়। হোটেলে বসে আমি তার দেয়া একটি ই মেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করি। কিন্তু এরপর আর কারো সাড়া পাইনি। পরে জানতে পারি, শশধর চৌধুরীসহ অন্য উলফা নেতাদের ডিজিএফআই সতর্ক করে দিয়েছিল, যাতে তারা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করেন।

আমি নিশ্চিত , ১৯৯৬ সালে ঢাকায় সেই সাক্ষাতের পর ডিজিএফআই আর কোনো বিদেশি সাংবাদিককে উলফা নেতাদের গুপ্ত আশ্রয়ের আশপাশে ঘেঁষতে দেয়নি, লিখেছেন লিন্টনার।

নিউজরুম

শেয়ার করুন