উদ্বেগ বাড়ছে নয়াপল্টনে, ৪৫ জনকে আটকের দাবি পুলিশের

0
333
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, নয়াপল্টন (১০ ডিসেম্বর) : ভেতরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রুহুল কবির রিজভীসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। নিচে মিডিয়া কর্মীদের খবরের জন্য অপেক্ষা। রাস্তার উল্টোপাশে সার বেঁধে দাঁড়ানো শতাধিক ইউনির্ফমড পুলিশ। আছে র‌্যাব, সাদা পোশাকের পুলিশ আর গোয়েন্দারাও।

কোন ব্যারিকেড নেই। তবুও কি এক অজানা আশঙ্কায় যানবাহনগুলো মাড়াচ্ছেই না নয়াপল্টনের রাস্তা। মাঝেমধ্যে দু’একটি পথভোলা মাইক্রোবাস আর রিকশা সাঁ সাঁ করে ছুটে যাচ্ছে ব্যস্ত সময়েও অযাচিতভাবে ফাঁকা হয়ে পড়া পিচপথ চিরে।

সকালে শুরু হওয়া গ্রেফতার আতঙ্কটা বিকেল গড়ানোর পর যেন বেড়েছে আরো।

দিনভর কতোজনকে ধরেছেন জানতে চাইলে ঘটনাস্থলে উপস্থিত মতিঝিল জোনের এডিসি মেহেদী হাসান বাংলানিউজকে বললেন, “৪০ কি ৪৫ জন হবে।”

সঙ্গে এও বললেন, “আজ (সোমবার) এখানে সমাবেশ আইনসিদ্ধ নয়। তারা (বিএনপি) অনুমতি না নিয়েই এখানে সমাবেশ আয়োজনের চেষ্টা করেছে। তাই বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে আমরা তাদের আটক করেছি।”

মেহেদী হাসান আরো বলেন, “কস্তুরি হোটেলে সামনে কটকেল ফুটেছে। এ ঘটনাও আটকের একটা কারণ।”

তবে যে কারণই হোক না কেন, একের পর এক নেতা-কর্মী আটক হচ্ছেন নয়াপল্টনে। বিএনপি অফিসের সামনে নিয়মিত টহল বা পাহারা দেওয়া পুলিশের পাশাপাশি বেশ কিছু নতুন চেহারার সাদা পোশাকের পুলিশ এসেছে সোমবার। একটু পরপরই একে ওকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছে তারা।

এমনকি ধরে নিয়ে গেছে বিএনপি অফিসের এক পিয়ন ও পার্টি অফিস লাগোয়া চায়ের দোকানিকেও। ধরে নিয়েই অপেক্ষমান প্রিজন ভ্যানে তোলা হচ্ছে নেতাকর্মীদের।

সম্ভবত আটক নেতকর্মীতে বোঝাই হয়ে গেছে, তাই শেষ বিকেলে নয়াপল্টন ছেড়ে গেছে দিনভর অপেক্ষমান প্রিজন ভ্যানটি। নতুন আর একটি প্রিজন ভ্যান এসে গ্যাঁট হয়ে বসেছে পার্টি অফিসের সামনের রাস্তায়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে ভেতরে আরো আছেন দলের ভাইস-চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, বিরোধী দলের চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, দলের যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুস সালামসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

সন্ধ্যা ছোয়া ছ’টা নাগাদ বের হয়ে গেছেন সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন ও নারয়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর আলম খন্দকার।

বাকিরা কখন পার্টি অফিস ছাড়বেন, বা আটক হওয়া এড়াতেই পার্টি অফিসে বসে রয়েছেন কি না এখনই তা জানার জো নেই। এ বিষয়ে মুখে যেন কুলুপ এঁটে রেখেছেন বিএনপি নেতা-কর্মীরা।

অপরদিকে সদ্য দায়ের হওয়া মামলার আসামি হিসেবে মির্জা ফখরুল ও রিজভী আহমেদসহ অন্য কাউকে ধরার অপেক্ষা করছে কি না তাও স্পষ্ট করছে না পুলিশ।

সব মিলিয়ে তাই উৎকণ্ঠা বাড়ছে নয়াপল্টনে। বিএনপি নেতাকর্মী আর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অপেক্ষার সময় বাড়ছে মিডিয়া কর্মীদেরও।

সন্ধ্যা সোয়া ছ’টার পর আনন্দভবনের সামনের রাস্তায় পরপর দু’টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা যেন উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে আরো।

নিউজরুম

শেয়ার করুন