সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী দুলু আটক ॥ সোমবার নাটোরে হরতাল॥ আনোয়ার হোসেন আলীরাজ,

0
60
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, নাটোর ( ০৯ ডিসেম্বর) : বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক ও নাটোর জেলা সভাপতি সাবেক উপমন্ত্রী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ চার বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাতে দুলুর বাড়ির সামনে দুপক্ষের গুলি বিনিময়ে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি দেওয়ান শাহীন এবং শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক পলাশ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় পুলিশ তাদের আটক করে। দুলুকে আটকের প্রতিবাদের ব্যাপক ভাংচুর করেছে বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা। জেলা বিএনপি সোমবার নাটোর জেলায় সকাল সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেছে।

নাটোর জেলা জামায়াতে ইসলামীও হরতালে সমর্থন জানিয়েছে। এছাড়া মধ্য রাত ও সকালে শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক গাড়ি ভাংচুর করে নেতাকর্মিরা।

শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে একটি মাইক্রোবাস ও ২৫/৩০টি মোটর সাইকেল যোগে দুলুর বাড়িতে হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ সময় উভয় পক্ষের গুলি বিনিময় হয়। এতে জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন ডান কানে গুলিবিদ্ধ হন ও শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক পলাশ পিঠে গুলিবিদ্ধ হন । এর কয়েক মিনিট পরে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাইফুজ্মান ফারুকী ও সহকারী পুলিশ সুপার আপেল মাহমুদের নেতৃত্বে শতাধিক পুলিশ দুলুর বাসার চারপাশে অবস্থান নেয়। রাত একটার দিকে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ যুবদল কর্মী শামীম ও আহামুদুল্লাহ এবং দুলুর বাসার কেয়ারটেকার আসলাম আলীকে আটক করে পুলিশ। এতে গভীর রাতেই শহরের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ ও গাড়ি ভাংচুর করে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। রাত সোয়া একটার দিকে দলের অস্থায়ী জেলা কার্যালয়ে বিএনপির জেলা সাধারন সম্পাদক আমিনুল হক তাৎক্ষনিক উপস্থিত সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার সকাল সন্ধ্যা হরতাল আহবান করেন। নাটোর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ইউনুস আলী ও সাধারন সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান সোমবারের বিএনপির হরতালে নৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন।

এদিকে রবিবার সকালে ১৮দলের ডাকা অবরোধ কর্মসূচী পালন করছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। শহরের বড় হরিশপুর বাইপাস এলাকায় ভোর থেকে অবস্থান নেয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীরা। অবরোধ পালনকালে পুলিশ বাধা দিলে পুলিশের সাথে অবরোধকারীদের ব্যাপক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ অবরোধকারীদের ওপর ব্যাপক টিয়ার সেল নিক্ষেপ গুলিবর্ষণ ও লাঠিচার্জ করে। এতে পুলিশ ও জেলা ছাত্রশিবিরের সাধারন সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। অবরোধে নাটোর শহর পরিবহন শূন্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে সকাল ১১টার দিকে শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে অবরোধ বিরোধী সমাবেশ করে জেলা আওয়ামী লীগ। তারা শহরে খন্ড খন্ড মিছিল করে। অবরোধ বিরোধীরা বিএনপি নেতা শহীদুল ইসলামের মালিকানাধিন ভিআইপি আবাসিক হোটেল ভাংচুর করে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন