চট্টগ্রামের ১১ থানায় ১৩ মামলা, আসামী ৬০০

0
101
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, চট্টগ্রাম (০৫ ডিসেম্বর) : যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে ডাকা হরতালে সড়ক অবরোধ, যানবাহন ভাংচুর, গাড়িতে আগুন দেয়া সহ বিভিন্ন ধরনের সহিংসতার অভিযোগে জামায়াত-শিবিরের প্রায় ৬`শ নেতাকর্মীকে আসামী করে ১৩টি মামলা দায়ের হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা এবং নগরীর ১১টি থানার পুলিশ কর্মকর্তারা বাদি হয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে এসব মামলা দায়ের করেছেন। সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আটক নেতাদের মুক্তির দাবিতে জামায়াত ইসলামী মঙ্গলবার এ হরতাল পালন করে। বিরোধীদল বিএনপি এ হরতালে নৈতিক সমর্থন দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৩টি মামলার মধ্যে জেলার ৪ থানায় ৪২৪ জনকে আসামী করে ৭টি মামলা দায়ের হয়েছে।

এর মধ্যে মিরসরাই থানায় গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে একটি এবং বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। দু`টি মামলায় ৩৪ জন করে ৬৮ জনকে আসামী করা হয়েছে। হরতালের সময় আটক হওয়া ৬ পিকেটারকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সীতাকুন্ড থানায় গাড়িতে আগুন দেয়ার অভিযোগে দ্রুত বিচার আইনে একটি এবং সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট আইনে একটি সহ মোট দু`টি মামলা দায়ের হয়েছে। দু`টি মামলায় ৫০ জন করে এক`শ জনকে আসামী করা হয়েছে। হরতালের সময় আটক হওয়া দু`পিকেটারকে এসব মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগে সাতকানিয়া থানায় ৭৮ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। হরতালের সময় আটক হওয়া ৩ জনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

ঝটিকা মিছিল থেকে ভাংচুরের চেষ্টার অভিযোগে লোহাগাড়া থানায় ৩৮ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। হরতালের সময় আটক হওয়া ৫ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এছাড়া জেলার বাঁশখালী থানায় নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে এক`শ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। হরতালের সময় আটক হওয়া ৩ জনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এদিকে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, গাড়ি ভাংচুর ও ত্রাস সৃষ্টি সহ বিভিন্ন অভিযোগে নগরীর খুলশী, বাকলিয়া, পাহাড়তলী, ডবলমুরিং, বায়েজিদ বোস্তামি এবং পতেঙ্গা থানায় মোট ৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রতিটি মামলায় ২৫ জন করে মোট দেড়`শ জনকে আসামী করা হয়েছে।

এছাড়া হরতালের সময় নগরীর বাকলিয়া থানায় ৩ জন, ডবলমুরিং থানায় ২ জন, পাঁচলাইশ থানায় ২ জন এবং পতেঙ্গা ও বায়েজিদ বোস্তামি থানায় ১ জন করে দু`জন সহ মোট ৯ জন জামায়াত-শিবিরের কর্মী আটক করা হয়।

নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার আব্দুল মান্নান  জানান, হরতালের সময় আটক হওয়া ৯ পিকেটারের মধ্যে যাকে যে থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে তাকে সেসব থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।  

উল্লেখ্য মঙ্গলবার জামায়াতের ডাকা হরতালে নগরীর বাকলিয়ায় চারটি গাড়ি সহ বিভিন্ন এলাকায় কমপক্ষে ৬টি যানবাহন ভাংচুর করে পিকেটাররা। বিভিন্ন এলাকায় সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা।

এছাড়া দিনভর নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল বের করে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে পুলিশকে ব্যতিব্যস্ত করে রাখে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা।

নিউজরুম

শেয়ার করুন