আশুলিয়ার তাজরিন ফ্যাশনের মালিকপক্ষ ব্যাংকঋণ পরিশোধ না করতেই আগুন ধরিয়ে দেয়

0
101
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, ঢাকা (২৭ নভেম্বর) :আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরিন ফ্যাশনের আগুনেরঘটনা পরিকল্পিত! ব্যাংকঋণ পরিশোধ না করতেই মালিকপক্ষ আগুন ধরিয়ে দিয়েছেনমালিকরা মনে করেছেন আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিলে ব্যাংকের ঋণের টাকা ফেরত দিতেহবে নাউপরন্তু, তারা ইন্সুরেন্সের টাকা পাবেনসেই টাকায় আবারও কারখানাচালু করতে পারবেনকারখানাটির শ্রমিকরা এমন ধারণাই করছেন

আগুনের পূর্বাপর ঘটনা বিশ্লেষণ করলে শ্রমিকদের এই অভিযোগ অমূলক মনে হয় না

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কারখানার এক শ্রমিক জানান, কারখানাটির মালিক দেলোয়ারহোসেন একজন ঋণখেলাপিকেবল তাজরিন ফ্যাশনের নামেই তিনি ব্যাংকঋণ নিয়েছেন ৫০কোটি টাকাশ্রমিকদের বেতন-ভাতাও নিয়মিত দিতেন না বলে জানান ওই কারখানারশ্রমিকরাতাই কারাখানাটিতে মাঝেমধ্যেই  শ্রমিকবিক্ষোভ হতোবিক্ষোভ করেইতাদের বেতনভাতা আদায় করতে হতো

অন্যদিকে আগুনের ভয়াবহতা থেকে রক্ষাপাওয়া অপর এক নারী শ্রমিক শ্রমিক জানান, ঘটনার দিনকয় আগেই প্রডাকশনম্যানেজাররা তাদের বলেছিলেন, ‘অগ্নিনির্বাপণ মহড়া চলবেতোমরা ভয় পাবা নাএবং নিচেও নামবা না

আগুনের মহড়ার কথা আগে প্রচার করায় শ্রমিকদেরমনে সন্দেহ হচ্ছে বলে অভিমত প্রকাশ করেছেন বেশ কয়েকজন শ্রমিকতাই তাদেরধারণা, আগুনের ঘটনাটি পরিকল্পিত।  

এদিকে আগুন আগুন লাগার পর পোশাককারখানাটির কর্মকর্তারা তালা মেরে চলে যানতাদের কেউ আগুনে পুড়ে মারাযাননিউপরন্তু, অগ্নিকাণ্ডের সময় মালিকপক্ষের কেউ কারখানায় আসেননিতাইশ্রমিকরা আগুনের ঘটনাকে পরিকল্পিত বলে মনে করছেন।  

এদিকে তাজরিনফ্যাশনের মালিক দেলোয়ার হোসেন রোববার টেলিফোনে বলেন, ‘আমারকারখানায় আমি কেন আগুন লাগাবোতিনি বলেন, আমার যে ব্যাংকঋণ আছে, কারখানাটির মেশিনপত্রের মূল্য তার চেয়ে অনেক বেশিআমার বিরুদ্ধে আগুনলাগানোর যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সঠিক নয়

পোশাক কারখানার বেঁচেযাওয়া এক শ্রমিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘সাড়ে ছয়টারদিকে আগুন লাগেআগুন লাগা আঁচ করতে পেরেই শ্রমিকরা কারখানার ভেতরেছোটাছুটি করতে থাকেনতারা উদ্বিগ্ন, কণ্ঠিত ও শংকিত হয়ে পড়েনতারা নিচেনেমে যেতে চাইলে কারখানার প্রডাকশন মানেজাররা (পিএম) শ্রমিকদের বলেন, ‘নিচে আগুনের মহড়া হচ্ছেভয়ের কিছুই নেই’  

তারপরও শ্রমিকদের কেউকেউ বের হয়ে যানএক পর্যায়ে গেট বন্ধ করে উচ্চৈ:স্বরে সাউন্ড বক্সে গানছাড়েনপ্রডাকশন ম্যানেজাররা শ্রমিকদের বের হবার পথ তালাবদ্ধ করে বের হয়েযান

এরই মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা দাউদাউ করে জ্বলে ওঠেশ্রমিকরা বাঁচার জন্য আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রিয়জনদের ফোন করেনতারা জানালার পাশে এসে বাইরের লোকজনকে তাদের জীবন বাঁচাতে আকুতি জানাতেথাকেন

আগুন লাগার আধাঘণ্টার মধ্যেই পুরো পোশাক কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়েধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় পুরো কারখানা

নিহতশ্রমিকদের সরকারঘোষিত সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শ্রমিকরাবেশ কয়েকজনশ্রমিক বলেছেন, ৯তলা পোশাক কারখানাটির প্রত্যেক তলায় ৬ থেকে ৯টি করে লাইনছিলোপ্রতি লাইনে কাজ করতো ১৫০ জন শ্রমিকএছাড়াও ছিলো হেলপারসবমিলিয়েকারখানায় প্রতি শিফটে কাজ করতো চার থেকে পাঁচ হাজার শ্রমিক

বেঁচেযাওয়া শ্রমিক এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কারখানার গেট ও ছাদ বন্ধ থাকায়কেউ বাইরে নেমে যেতে পারেন নিএকটি জানালা ভেঙে এক থেকে দেড়শশ্রমিকবাইরে নেমে আসতে পেরেছেনবাকি শ্রমিকরা করুণ পরিণতি বরণ করেছেনতাই দমকলবাহিনী ১১২ শ্রমিকের নিহত হওয়ার য়ে ঘোষণা দিয়েছে তা নিয়ে শ্রমিকরা প্রশ্নতুলেছেনতাদের দাবি, লাশের সংখ্যা আরও অনেক বেশিনিরাপত্তা বাহিনীরসহায়তায় লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শ্রমিক

তারাবলেছেন, ভোরের দিকে পোশাক কারখানার প্রধান গেট বন্ধ করে দমকল বাহিনী নিহতশ্রমিকদের লাশ উদ্ধার শুরু করেতখন দমকল বাহিনীর গাড়িতে লাশ উঠানো হয়

প্রত্যক্ষদর্শীশ্রমিকরা জানান, সকালে দমকল বাহিনীর সদস্যরা পোশাক কারখানায় অবস্থান করলেওতাদের গাড়িগুলিকে চলে যেতে দেখতে পান তারাতাদের ধারণা ওইসব গাড়িতে করেইঅনেক লাশ সরিয়ে ফেলা হয়েছে

লাশের সংখ্যা বেশি হলে পোশাক শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা দেখা দিতে পারেতাই অনেক লাশ গায়েব করে দেওয়া হয়েছে

আগেওঅনেক বড় বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছেসেসব দুর্ঘনায় অনেক শ্রমিক মারা গেছেনকিন্তু, লাশ উদ্ধারে সেনাবাহিনী ডাকা হয়নিকিন্তু, এই আগুনের ঘটনায়পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, র‌্যাব, এপিবিএন ও বিজিবিকে ডাকা হয়েছে

শ্রমিকদেরধারণা, লাশের সংখ্যা বেশি জানাজানি হলে শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা দেখাদিতে পারেপরিস্থিতি অশান্ত হয়ে পড়তে পারেতাই বিভিন্ন বাহিনী মোতায়েনকরা হয়েছে

গত কয়েকদিন ধরে একের পর এক পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডেরঘটনা ঘটছেশনিবার সন্ধ্যায় আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুর তাজরিন ফ্যাশন এবংসোমবার উত্তর খানের দুটি গার্মেন্টসে আগুন লাগেতাজরিন ফ্যাশনে আগুনলাগার একদিন পরই আশুলিয়ার ডেবোনিয়ার গার্মেন্টে ২০ হাজার টাকা নিয়ে আগুনলাগিয়ে দেন সুমি বেগম নামে ওই কারখানার এক নারীশ্রমিকওই ঘটনায় পুলিশ তাকেগ্রেফতার করেছেতাই একের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত কিনা, তা খতিয়েদেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল

 

নিউজরুম

শেয়ার করুন