লস্করের ট্রেনিং পাওয়া কাসাব ফাঁসিতে ঝুলেও বেঁচেছিল ৬মিনিট!

0
160
Print Friendly, PDF & Email

ফিচার ডেস্ক: সাধারণত কাউকে ফাঁসিতে ঝোলানোর পরবর্তী ২ মিনিটের মধ্যেই মৃত্যু হয়। কিন্তু লস্কর-ই-তাইয়েবা জঙ্গি আজমল কাসাবের ক্ষেত্রে এই সময় লাগে ৬ থেকে ৭মিনিট। কারণ, সে তার ফুঁসফুঁসে প্রচুর অক্সিজেন জমিয়ে রেখেছিল। ওই অক্সিজেনে সে পরবর্তী ৬ মিনিট বেঁচেছিল। মহারাষ্ট্রের পুনে এলাকার ইরাওয়াদা জেলের একটি সূত্র সংবাদ মাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই সূত্র আরও জানায়, ২১ নভেম্বর বুধবার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে প্রবীণ ফাঁসুরে বাল মোহিতি ইরাওয়াদা জেলে ফাঁসির মঞ্চে দাঁড় করানো কাসাবের দণ্ড কার্যকরের জন্য ফাঁসিকাষ্ঠের লিভার টেনে দেন। এরপর  সকাল ৭টা ৩৬ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

সূত্র আরও জানায়, কাসাবকে ফাঁসির দড়ি থেকে নামানো হয় ৭টা ৪০ মিনিটে অর্থাৎ লিভার টেনে দেওয়ার ১০ মিনিট পর। তার আগে চিকিৎসক পরীক্ষা করে দেখেন কাসাবের শরীরের আর কোনো নড়াচড়া ‍আছে কি না।  এরপর সকাল পৌনে ৮টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় আনুষ্ঠানিকভাবে।

ইরাওয়াদা জেলসূত্রের তথ্য আমরা বিশ্বাস করি আর না করি, এসব বয়ানের ওপর ভিত্তি করে এখন ভারত-পাকিস্তানে লোকজনের মধ্যে একথা বেশ চাউড় হয়ে গেছে যে, লস্কির জঙ্গি আজমল কাসাবের এমন প্রশিক্ষণ নেওয়া ছিল যে সে ১০ থেকে ১৫ মিনিট স্বাস আটকে বেঁচে থাকতে পারতো।

সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় পত্রিকা জানায়, সারভাইভাল ট্যাকটিক্স-এর অংশ হিসেবে কাসাবকে দম আটকে বেঁচে থাকার কৌশল শেখায় লস্কর। মোটকথা মুম্বাই অপারেশনে পাঠানোর আগে তাকে অনেকগুলো কঠিন প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে সক্ষমতা অর্জন করতে হয়।  

ইরাওয়াদা জেল সূত্র মতে, কাসাব পানির নিচে বা ধোঁয়ার মধ্যে ১০ থেকে ১৫ মিনিট দম আটকে থাকতে পারতো। সে মোতাবেক ফাঁসিতে ঝোলানোর পর কাসাবের মৃত্যু হতে ৬-৭ মিনিট সময় লাগার বিষয়টিতে ইঙ্গিত করে সূত্র জানায়, কাসাব ফাঁসিতে ঝোলানোর আগের মুহূর্তেও দম আটকে রাখার বিষয়টিতে সচেতন ছিল। এবং সেই চেষ্টা করেও ছিল সে। তার ধারণা ছিল, দড়িতে ঝুলেও সে বেঁচে থাকবে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।
 
এদিকে, জেলসূত্র আরও জানায়, মৃত ঘোষণার প্রায় সঙ্গে সঙ্গে কাসাবের ময়না তদন্ত সম্পন্ন করা হয়।
 
ইরাওয়াদা জেলের ওই সূত্রের আরও তথ্য হচ্ছে, এটি ছিল কারও মৃত্যুর পর দ্রুততম সময়ে করা ময়নাতদন্তগুলোর একটি। ময়না তদন্তে দেখা গেছে, তার রক্ত ছিল টাটকা আর শরীরের তাপমাত্রাও ছিল লক্ষণীয়ভাবে উষ্ণ।

এদিকে, এই গুজবের বাস্তব দিক সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশিষ্ট আইনজীবী ব্যারিস্টার তুহিন মালিক বাংলানিউজকে বলেন, এটা স্রেফ গুজব। কারণ কেউ যদি দশ মিনিট বা আধা ঘণ্টাও দম আটকে রাখে ফঁসির মঞ্চে, যদিও এটা সম্ভব নয় কোনো মতেই— তারপরেও বুঝতে হবে তাতে কোনো লাভ নেই। কারণ রায় মোতাবেক দণ্ড কার্যকর করবে জেল কর্তৃপক্ষ তথা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। সে হিসেবে তারা তার মৃত্যু নিশ্চিত করবে। এছাড়া হাত-পায়ের রগ বা গলার রগ কেটে দেওয়ার মত বিষয়গুলোও থাকে। সব মিলিয়ে বলা যায়, এটা কোনোমতেই যুক্তিগ্রাহ্য প্রসঙ্গ না।

তুহিন মালিক ‍আরও বলেন, আর যেখানে আজমল কাসাবের মত টপ রেটেড সন্ত্রাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়— তাতে দণ্ড কার্যকরের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা আরও অনেক গুণ বেশি সতর্ক ছিলেন, এটা নিশ্চিতভাবে বলা যায়। আর দম আটকে বাঁচার চেষ্টা করে ওই যাত্রায় সফল হলেও কি আজমল প্রাণে বেঁচে যেত, বা ভারতের জেল থেকে ছাড়া পেত? লস্কর-ই-তাইয়েবা কি এতই শক্তিশালী যে তাকে সুরক্ষিত জেল থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে পারতো?

তিনি বলেন, এসব অলীক কল্পনা। তবে গুজবধর্মী এসব খবর অনেক মানুষ আগ্রহ নিয়ে পড়ে বলে অনির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে এসব চটকদার খবর তৈরি করা হয়, স্রেফ বিনোদনের জন্য।

শেয়ার করুন