নওগাঁয় ধানের ফলন বাম্পার হলেও দাম কমে কৃষক হতাশ

0
138
Print Friendly, PDF & Email

নিজস্ব প্রতিবেদক, নওগাঁ (২১ নভেম্বর) নওগাঁর আদি বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে খ্যাত ধামইরহাটে এবার আমন মওসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও দাম না থাকায় কৃষককূল হতাশ হয়ে পড়েছেন। অনেক কৃষক তার পুঁজি তুললে পারছেনা। ফলে অনেকে ধান চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

 

 

 

উপজেলার সর্বত্র বর্তমান পুরোদমে আমন ধান কাটা মারা শুরু হয়েছে। এবার অত্র উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকগণ আমন ধান রোপন করে। প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ৫০/৫৫ মণ ধান উৎপাদন হয়েছে চলতি মওসুমে। অন্যান্য বারের তুলনায় এবার সার কীটনাশক ও মজুরীর দাম ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় ধানের উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।

 

তাছাড়া নতুন পোকা বাদামী গাছ ফড়িং (কারেন্ট পোকা) দমন করতে কৃষকদের হিমশিম খেতে হয়েছে। অনেক কৃষক ওই পোকা দমন করতে ক্ষেতে কয়েকবার কীটনাশক স্পে করে। এর ফলে ধানের উৎপাদন খরচ কয়েক গুন বেড়ে গেছে। অনেক কৃষক বিভিন্ন সংস্থা থেকে ঋণ ও দার দেনা করে ধান উৎপাদন করেছে। কিন্তু বর্তমানে ধানের বাজার দর কম হওয়ায় কৃষককূল হতাশ হায়ে পড়েছেন। অধিকাংশ কৃষক জানান,সার,কীটনাশক,পানি সেচ খরচ ও মজুরের দাম মিটিয়ে দিয়ে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকছেনা।

 

ধান আড়তগুলোতে প্রথমে নগদ টাকায় ধান ক্রয় করলেও বতর্মানে নানা অজুহাত দিয়ে বার্কীতে ধান ক্রয় করছে। এদিকে কৃষকদের দাবী তারা চড়া দামে ডিজেল,সার,কীটনাশক,বীজ ও মজুরী দিয়ে ধান আবাদ করেও তা বিক্রি করতে গিয়ে নাজেহালের শিকার হতে হচ্ছে।

 

বর্তমানে উপজেলার সর্বত্র জিরাশাইল (সরু ধান) ৪০ কেজি ধান ৬০০/৬১০, গুটি স্বর্ণা, স্বর্ণা-৫ ৫৯০/৬০০ টাকা দরে কেনা বেচা হচ্ছে। সরকারীভাবে এখনও খাদ্য গুদামগুলোতে ধান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে ধান অধ্যুষিত এলাকার কৃষকগণ ধান বিক্রি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে।

 

 

 

নিউজরুম, প্রতিবেদক মোফাজ্জল হোসেন

 

শেয়ার করুন