গোপালগঞ্জ বিএনপি অভ্যনত্মরীণ কোন্দলে দ্বিধা-বিভক্ত

0
192
Print Friendly, PDF & Email

গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক,০৪ অক্টোবর:
অভ্যনত্মরীণ কোন্দলে দ্বিধা-বিভক্ত হয়ে পড়েছে গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি৷ ২০০৭ সালে চার দলীয় জোট সরকার মতা ছাড়া ও ২০০৮ সালের শেষ দিকে মহাজোট ৰমতায় আসার পর থেকেই মূলতঃ বিএনপি’র কোন্দল শুরু হয়৷ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে জেলা কমিটির মেয়াদ৷ দলে প্রতিষ্ঠিত হয়নি মুক্তিযুদ্ধের স্বপৰের কোন নেতৃত্ব৷ দূর্বল নেতৃত্বের কারণে দলে মূল্যায়ন নেই নেতা কমর্ীদের৷ অরাজনৈতিক ও বহিরাগতদের কমিটিতে সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়৷ যাদের সমাজে গ্রহনযোগ্যতা নেই বললেই চলে৷ পাশাপাশি গতিশীল নেতৃত্বের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করার যোগ্যতা ও স্বদিচ্ছা তাদের নেই বলে অভিযোগ তৃণমূল একাধিক নেতাকর্মীদের৷
জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে,বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের দ্বারা গোপালগঞ্জ বিএনপি নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বিএনপি এখানে শক্ত অবস্থান তৈরী করতে পারেনি৷ এ ছাড়া রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে বিগত দিনে বিএনপি সরকারে থাকা অবস্থায় এ এলাকায় তেমন কোন উলে-যোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ করেনি৷ যে কারণে নেতা কমর্ীদের ও অনেক বিব্রতকর অবস্থার মধ্য দিয়ে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়৷ বিএনপিকে শক্তিশালী করতে গোপালগঞ্জে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি মুক্তিযোদ্ধা এমএইচ খান মঞ্জুকে৷ তিনি সভাপতি হওয়ার পর গোপালগঞ্জ শেখ কামাল ষ্টেডিয়ামে তারেক রহমানকে দিয়ে বিএনপির তৃণমূল পযর্ায়ের নেতাকমর্ীদের নিয়ে প্রতিনিধি সম্মেলন করিয়ে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছিলেন৷ এরপর থেকে এম এইচ খান মঞ্জু আওয়ামীলীগের সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক বিররাধে জড়িয়ে পড়েন৷ ওই সময় এক সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রাকিব হোসেন তুষার৷ এ হত্যার দায় পড়ে তার ঘাড়ে৷ ওই ঘটনার জের ধরে ২০০৭ সালে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ৰমতা ছাড়ার পর ২৮ অক্টোবর গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এইচ খান মঞ্জুর বাসভবন ও দলীয় কাযর্ালয় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় আওয়ামীলীগ সমর্থিতরা৷ এছাড়া ঢাকার সাবেক সাংসদ এ্যাড. খন্দকার মাহাবুব উদ্দিন অহমেদ, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এম মুনসুর আলী, সিনিয়র সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান পিনু, যুবদল নেতা আজিজুর রহমান বেনো ও বিএনপি নেতা কামিল সারোয়ারের বাসায় লুটপাট এবং অগি্নসযোগের ঘটনা ঘটে৷ এসব ঘটনার জন্য এমএইচ খান মঞ্জুকে দলীয় ভাবে দায়ী করা হয়৷ এ জন্য মঞ্জুকে বাদ দিয়ে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয় সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে৷ গত সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ সদর আসনে (গোপালগঞ্জ-২)দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয় সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজকে৷ তাকে মনোনয়ন দেয়া হয় মূলত তার কারিকর সম্প্রদায়ের প্রায় ৪০ হাজার ভোটের উপর ভিত্তি করে৷ কিন্তু নির্বাচনে তিনি তার সম্প্রদায়ের ওই ভোট টানতে ব্যর্থ হন৷ তিনি গত নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর গোপালগঞ্জে তার গ্রামের বাড়ী আড়পাড়ায় সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, যে তার কারিকর সম্প্রদায়ের প্রায় ৪০ হাজার ভোট রয়েছে৷ তিনি ওই ভোট পাবেন এবং সমমনাদের ভোট পেয়ে নির্বাচনে বিজয়ী হবেন তিনি৷ কিন্তু নির্বাচনে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়৷ বিগত সংসদ নির্বাচনগুলোতে বিএনপি যে ভোট গোপালগঞ্জ সদর আসনে পেয়েছে তিনিও প্রায় একই ধরনের ভোট পান৷ নির্বাচন এলে এখানে চলে নিজ দলের প্রাথর্ীকে ভোট কম দেয়ার প্রতিযোগীতা৷ পৃথক ৪টি গ্রম্নফে নেতৃত্বে দেন সাবেক দুই সাংসদ এফ,ই,শরফুজ্জামান জাহাঙ্গীর, এম,এইচ খান মঞ্জু, সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান নান্টু ও বর্তমান সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ৷ আর দলের এই আভ্যনত্মরীন কোন্দলের কারণে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্থ হচ্ছে৷ বিএনপি’র সহযোগী সংগঠনের নেতা কমর্ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে বিএনপি-র নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা সভাপতি মোঃ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক এম মুনসুর আলী৷ সম্প্রতি কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে৷ দলকে শক্তিশালী ভাবে সংগঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছে সিরাজ-মুনসুর নেতৃত্ব৷ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক শেখ বদরুল আলম নাসিম বলেন, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠার পর থেকে বারবার দলের নেতৃত্ব পরিবর্তন হয়েছে৷ অযোগ্য সুবিধাবাদী ব্যক্তিরা মতার স্বাদ নিতে দলে এসেছেন৷ তারা কখনও দলকে সংগঠিত করার ব্যাপারে পদৰেপ নেন নি৷ নিজেদের আত্মীয় স্বজন, কর্মচারী, আস্থাভাজন চাটুকর ও অন্য দলের লোকজন দিয়ে কমিটি করা হয়৷ জেলা বিএনপি সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, আমরা প্রশাসনের বাধার কারণে প্রকাশ্যে কোন কর্মসূচী পালন করতে পারছি না৷ শানত্মিপুর্ণর্ ভাবে দলীয় কোন কর্মসূচী পালন করতে গেলেও পুলিশ আমাদের রাজপথে নামতে দিচ্ছে না৷ সাবেক সাংসদ ও জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এমএইচ খান মঞ্জু বলেন, বিএনপি দেশের একটি গণতানত্ম্রিক বড় দল৷ গোপালগঞ্জে নেতা কমর্ীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই৷ দলে নেতৃত্বের লড়াই না হলে নেতাকমর্ীদের মূল্যায়ন করা যায় না৷ সকল নেতা কমর্ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপিকে শক্তিশালী করার আহবান জানান তিনি৷
আপলোড ৪ অক্টোবর ২০১২, গোপালগঞ্জ প্রতিবেদক: সম্পাদনা আলীরাজ/ আরিফ নিউজরুম

শেয়ার করুন