তত্ত্বাবধায়ক নিয়ে রায় বিচার বিভাগের জন্য কলঙ্ক: রফিকুল ইসলাম মিয়া

0
117
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, ঢাকা ২৪ অক্টেবর :
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেছেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার সম্পর্কিত প্রথম দেওয়া রায়ের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কোনো মিল নেই। এই রায় বিচার বিভাগের জন্য কলঙ্ক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।”বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোট আয়োজিত ‘বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও আগামী নির্বাচন’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ব্যারিস্টার রফিক দাবি করেন, “প্রথম দফার রায়ে যা বলা হয়েছিল, ১৬ মাস পর দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে তা পরিবর্তন করা হয়েছে। এতে সাবেক প্রধান বিচারপতিসহ যারা এর পক্ষে ছিলেন তারা ইতিহাসে চিহ্নিত হয়ে থাকবেন।”
“প্রধানমন্ত্রী যে ফর্মূলার কথা বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ে সে কথাই প্রতিফলিত হয়েছে” উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, “আগে বলা হয়েছিল সংসদ চাইলে দুই মেয়াদে তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকতে পারবে। এখন বলা হয়েছে, নির্বাচিত এমপিদের নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার হতে পারে।”
তিনি আরো বলেন, “রি-কল শুনানি ছাড়া এ ধরনের রায় পরিবর্তন করা যায় না। বিশ্বের কোথাও এ ধরনের নজির নেই।” “সংসদ ও গণতন্ত্র ধ্বংস করার জন্য সরকার ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করেছে” উল্লেখ করে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া চুরি ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না এবং ১৮ দলীয় জোট ওই নির্বাচনে অংশ নেবে না।”এ প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, “কঠোর আন্দোলন ছাড়া শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রুমে বসে আলোচনা করে হাসিনা সরকারের পতন সম্ভব নয়।”
সরকার কর্তৃক কোম্পানি আইন সংশোধনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বর্তমানে কিছু কোম্পানির উপর সরকারের নজর পড়েছে। এ কারণে কোম্পানি আইন সংশোধন করা হয়েছে। প্রশাসক নিয়োগ করে সরকার বিভিন্ন কোম্পানিতে হস্তক্ষেপ করতে চায়।” আরটিভি’র টকশোতে নৌ-পরিবহনমন্ত্রীর আচরণ প্রসঙ্গে বলেন, ওই দিনের ঘটনার ভিডিও চিত্র দেখলেই এ বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে। সেদিনের টকশোতে ঈদ উপলক্ষে রাস্তায় ট্রাক আটকিয়ে চাঁদাবাজি, শেয়ার বাজার, হলমার্ক কেলেংকারি, ডেসটিনি ও কুইক রেন্টালের নামে লুটপাটের বিষয়ে আমি কথা বলেছিলাম। কিন্তু তারা সত্য কথা বলতে দিতে চায় না” প্রসঙ্গক্রমে অতীতের ঘটনা টেনে ব্যারিস্টার রফিক বলেন, “আমি শেখ সাহেবের একরোখা আচরণের কারণে ১৯৬৩ সালে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলাম। আজ মনে হয় আমার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।” সম্মিলিত গণতান্ত্রিক জোটের সভাপতি মেজর (অব.)এম এম মেহবুব রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মো: রহমতুল্লাহ, জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সহ-সভাপতি আবুল হোসেন, সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হোসেন শাহীন প্রমুখ।

নিউজরুম

শেয়ার করুন