চট্টগ্রামে মা-ছেলে ও মেয়ে খুন

0
155
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, চট্টগ্রাম ২৪ অক্টোবর :
চট্টগ্রাম নগরীর পাঁচলাইশ থানার খতিবেরহাট এলাকায় নিজ বাসায় খুন হওয়া প্রবাসীর স্ত্রী-সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগর (সিএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও লাশের আলামত সংগ্রহের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, “নৃশংসভাবে মা ও দু’সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি আমরা। হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। আঙ্গুলের ছাপসহ অন্যান্য যে আলামত নেওয়া হয়েছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আমরা হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পারবো।” হত্যাকারী একজন হতে পারেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে বোঝা যায়, কোনো পেশাদার খুনি এ কাজ করেননি। নিহতদের মাথা ও মুখে আঘাত করে খুন করা হয়েছে।”কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “খুনি দা বা বটি দিয়ে ৩ জনকেই মাথা ও মুখে উপর্যুপরি কুপিয়েছেন। এতে তাদের চেহারা অনেকটা বিকৃত হয়ে গেছে।”
তিনি বলেন, “হত্যাকাণ্ডের কোনো কারণ এখনো উদঘাটন করা যায়নি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে পরিবারের কোনো সদস্যের সংশ্লিষ্টতা নেই।”তিনি আরও বলেন, “হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে খুনের দুটি সূত্র ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ৩টি টিম এরই মধ্যে মাঠে কাজ করছে। সফল হলে বুধবার সকালে একটি ফল পাবো বলে আশা করি।”
কমিশনার বলেন, “একই পরিবারের ৩ জনকে এর মধ্যে দুই শিশুসহ মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করায় আমরা মর্মাহত। আমাদের ধারণা, হত্যাকারী একজন। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে গ্রেফতার করতে পারবো বলে আশা করছি আমরা।”
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নগরীর পাঁচলাইশ থানার বহদ্দারহাটের খতিবেরহাট এলাকার মা-মনি ভবনের ৫ তলা ভবনের ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাটে প্রবাসীর স্ত্রীসহ ২ সন্তানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।এরা হলেন, ডলি আক্তার (৩০), তার ছেলে আলভি (১০) এবং মেয়ে পায়েল (৫)। আলভি খতিবেরহাট লাইম লাইট গ্রামার স্কুলের ৩য় শ্রেণির ছাত্র এবং পায়েল একই স্কুলের কেজি-১ এর শ্রেণির ছাত্র।
নিহত ডলি আক্তার চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কাগতিয়া গ্রামের সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী প্রবাসী আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী। তিনি দু’সন্তানকে নিয়ে নগরীর ওই এলাকার প্রবাসী ইলিয়াস আলীর মালিকাধীন মা-মনি ভবনের ৫ম তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন।
ভবনের মালিকের স্ত্রী ফেরদৌস বেগম উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, এ ভবনে ডলি তার সন্তানদের নিয়ে ৫ বছর আগে ওঠেন। তাদের আচার-আচরণে কোনো ধরনের সন্দেহের কারণ ছিল না। তারা ভালোভাবেই বসবাস করতো।
হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রথমে বাড়ির দারোয়ান আবুল হাসান তাকে জানান উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাগরিবের পরে বাড়ির ছাদে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা দেখতে যাওয়ার সময় আবুল হাসান দরজায় রক্ত দেখতে পায়। এরপর বিষয়টি আমাকে জানালে তাদের ঘরে গিয়ে ৩ জনের লাশ দেখতে পাই।”তিনি বলেন, “পরে ঘটনাটি আমাদের পাশের ফ্ল্যাটের বাসিন্দাদের জানিয়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে পুলিশে খবর দিই আমরা।”
বাড়ির মালিকের স্ত্রী জানান, তাদের গৃহশিক্ষক সর্বশেষ ঘর থেকে বের হন। তবে শিক্ষকের নাম জানাতে পারেননি তিনি।
এ ঘটনার খবর পেয়ে পাঁচলাইশ জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) মঞ্জুর মোর্শেদ, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশসহ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
এর কিছুক্ষণ পরেই র‌্যাব-৭ এর প্রধান কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সাইদ করিম, নগর গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি মনিরুজ্জামান, এডিসি তারেক আহমেদ, এসি শাহরিয়ার হাবিব আসেন। এর পরেই উপস্থিত হন সিএসপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম। এছাড়া পুলিশ ও র‌্যাবের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এবিষয়ে র‌্যাব-৭ এর প্রধান কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল সাইদ করিম সাংবাদিকদের বলেন, “হত্যাকাণ্ড দেখে মনে হয়েছে, ঘটনাটি কোনো পেশাদার খুনি খুন করেননি এবং খুনি একজনই মনে হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি খুনিকে আটক করতে র‌্যাবও মাঠে নেমেছে।”
এদিকে, ডলির বাবা মো. ইসহাক বলেন, “আমার মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কারও কোনো শত্রুতা ছিলনা। তাদেরকে এভাবে হত্যা করার কোনো কারণ আমি খুঁজে পাচ্ছিনা।” দু’জন গৃহশিক্ষক তার মেয়ের বাসায় পড়াতে আসতেন বলে জানালেও তাদের নাম-পরিচয় কিছু জানাতে পারেননি তিনি। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য ২ গৃহশিক্ষককেই সন্দেহ করছেন ডলির বাবা মো. ইসহাক। এদিকে, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির দারোয়ান আবুল হাসানকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিআইডির টিম রাত ১০টার দিকে আসার আগ পর্যন্ত প্রায় ২ ঘণ্টা সাংবাদিক ও পুলিশের দলকে বাড়ির সিঁড়িতে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন