রুপসীবাংলা ঢাকা২৩ অক্টোবর :
একালের বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমানের ৮৩তম জন্মদিন আজ ২৩ অক্টোবর মঙ্গলবার। ১৯২৯ সালের অক্টোবরের এই দিনে ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মেছিলেন বাংলাদেশে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ সব প্রগতিশীল আন্দোলনে শরিক এই কবি ব্যক্তিত্ব। তার পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরার পাহাড়তলী গ্রামে। ২০০৬-এর ১৭ আগস্ট ৭৭ বছর বয়সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কবির বর্ণাঢ্য জীবনের যবনিকাপাত ঘটে।
সারাদেশে বিভিন্ন সংগঠন নানা আয়োজনের মাধ্যমে কবিকে স্মরণ করবে। রাজধানীতে শামসুর রাহমান স্মৃতি পরিষদ বিকাল ৫টায় বাংলা একাডেমীতে নানা আয়োজনে তার জন্মদিন উদ্যাপন করবে। এ অনুষ্ঠানে আজীবন সাহিত্য সাধনার স্বীকৃতিস্বরূপ কবি আবুল হোসেনকে ২০১২ সালের শামসুর রাহমান স্মৃতি পুরস্কার প্রদান করা হবে। ১৯ বছর বয়সে কবিতা লিখতে শুরু করেছিলেন শামসুর রাহমান। তাঁর জীবদ্দশায়ই প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের সংখ্যা ছিল ৭০টির মতো। প্রধানত কবি হলেও সাহিত্যের অন্যান্য শাখায়ও তাঁর বিচরণ ছিল সাবলীল। কথাসাহিত্য, প্রবন্ধ-গদ্য, অনুবাদ, স্মৃতিচারণা আর শিশুতোষ রচনা—সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গনে ছিল তাঁর হীরন্ময় উপস্থিতি। প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উপন্যাস চারটি, প্রবন্ধগ্রন্থ একটি, ছড়ার বই সাতটি ও অনুবাদ ছয়টি। সব মিলিয়ে গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ১০০টি।
আসাদের শার্ট, এ লাশ রাখবো কোথায়, অভিশাপ দিচ্ছি, তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা, স্বাধীনতা তুমি, বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়, উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ এর মতো বাংলা সাহিত্যের চির অমলিন অনেক জনপ্রিয় কবিতার স্রষ্টা এ কবি।
সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি প্রগতিশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও মানবতার পক্ষে এবং সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মান্ধতা, কুসংস্কার, স্বৈরশাসন ও কূপমণ্ডূকতার বিরুদ্ধে কবির অবস্থান ছিল স্পষ্ট, সুদৃঢ় ও তর্কাতীত। বাংলাদেশের প্রায় সব মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননা ও পদকে ভূষিত করা হয়েছে কিংবদন্তিতুল্য কবি শামসুর রাহমানকে। পেয়েছেন আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৩), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৬৯), রাষ্ট্রীয় `একুশে পদক` (১৯৭৭), মিৎসুবিশি পুরস্কার (১৯৮২) ও রাষ্ট্রীয় `স্বাধীনতা পুরস্কার` (১৯৯২)। ১৯৯৪-এ পেয়েছেন ভারতের আনন্দ পুরস্কার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে বিএ ও এমএ শেষ করে ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজ-এ কো-এডিটর হিসেবে শুরু করেন সাংবাদিকতা জীবন। কবি পরিচিতির বাইরে একজন সফল কলামিস্ট, সাংবাদিক হিসেবে দীর্ঘদিন নানা সংবাদ মাধ্যমে সুনামের সঙ্গে কাজ করেছেন। দৈনিক বাংলার সম্পাদক ছিলেন দীর্ঘদিন।
১৯৫০ সালে প্রকাশিত প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’র পর অবিরাম লিখেছেন অসংখ্য সফল কাব্যগ্রন্থ। এ দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তি সংগ্রামে তার কবিতা অপরিসীম প্রেরণা জুগিয়েছে মুক্তিকামী মানুষকে।
নিউজরুম







