মিয়ানমারে শর্ত সাপেক্ষে কোরবানীর অনুমতি দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী

0
204
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা ডেস্ক ২২ অক্টোবর :
নিজ বাসভূমিতে অবরুদ্ধ মিয়ানমারের মুসলমানরা আসন্ন ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির মৌখিক অনুমতি দিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকার স্থানীয় কমান্ডাররা। তবে বেশ কয়েকটি শর্ত জুরে দিয়েছে তারা, যেমন-চাষাবাদের কাজে বা বোঝা বহনের কাজে লাগে কিংবা দুধ দেয়-এমন পশু কোরবানি করা যাবে না।
গত কয়েক মাসের মুসলিম বিরোধী সহিংসতায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং লুটপাট হওয়ার পর সংখ্যালঘু মুসলমানরা এখন প্রায় সর্বস্বান্ত। রাখাইন ও নাসাকা বাহিনী মুসলমানদের গরু, ছাগলসহ গবাদিপশুও কেড়ে নিয়ে গেছে। এছাড়া, সামর্থবান রোহিঙ্গা মুসলমানদের ধরে নিয়ে গিয়ে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করেছে নাসাকা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
এ অবস্থায় সেখানকার অনেক মুসলমানেরই এবার কোরবানি দেয়ার সামর্থ নেই। তারপরও যদি কেউ কোরবানি দিতে চায়, তাকে বেশি দামে পশু কিনতে হবে মগ কিংবা নাসাকা বাহিনীর কাছ থেকে। সেখানেও রয়েছে আরেক দফা বিপদ।
সর্বোপরি, সুস্থ ও তাজা পশু কোরবানির জন্য যেখানে ধর্মীয় নির্দেশনা রয়েছে সেখানে নাসাকা কমান্ডারের নির্দেশ মতো ব্যবহার অনুপোযোগী পশু কোরবানি জায়েজ হবে কিনা তা নিয়েও সংশয়ে রয়েছেন মুসলমানরা।
কোরবানি নিয়ে এ রকম একটি আশংকা যেমন রয়েছে- তেমনি ঈদের নামাজ পড়া যাবে কিনা বা কোথায় জামায়াত হবে তা এখনো অনিশ্চিত। তবে মংডু থেকে টেলিফোনে একজন মুসলিম নাগরিক জানালেন, নাসাকা বাহিনী বলেছে-নামাজের বিষয়টি ঈদের দিন জানানো হবে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে মুসলিমবিরোধী সহিংসতা শুরু হওয়ার পর মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলো নাসাকা, সেনাবাহিনী ও সশস্ত্র রাখাইনরা ঘিরে রেখেছে। সেখানে মসজিদ ও মক্তবগুলো রয়েছে তালাবন্ধ। আজান ও প্রকাশ্যে নামাজ পরার সুযোগ নেই মুসলমানদের। এদিকে, মুসলিম অধ্যুষিত আকিয়াবে পূর্ব ও উত্তর পাশের চারটি থানা এলাকায় বৌদ্ধ মগদের ডাকে শনিবার হরতাল ও বিক্ষোভ মিছিল অয়োজন করা হয়।
তাদের দাবি হচ্ছে, মুসলমানদের মিয়ানমারের নাগরিকত্ব বাতিল, তাদেরকে শহর এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশে বৌদ্ধদের ওপর হামলার বিচার করা ও ক্ষতিপূরণ দেয়া।

(আইআরআইবি)

শেয়ার করুন