ডেসটিনি প্রেসিডেন্ট’র জামিন আদেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে দুদক

0
108
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা, ঢাকা ২১ অক্টোবর :
ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদকে দেওয়া হাইকোর্টের জামিন আদেশে স্থগিতাদেশ চেয়ে আপিল করেছে দুর্নীতি কমিশন (দুদক)। রোববার সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আপিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার বিভিন্ন শর্তে দুদকের দায়ের করা দুটি মামলায় লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদকে দুই মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি ফরিদ আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ জামিন দেন। হাইকোর্ট বিভিন্ন শর্ত জুড়ে দিয়ে হারুন অর রশিদের প্রতি বলেন, “দেশত্যাগ করবেন না; তদন্তকাজে যখন ডাকা হবে, তখনই সাড়া দেবেন; তদন্তকাজ ব্যাহত করবেন না; ডেসটিনির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন না বা সম্পর্ক রাখবেন না; ডেসটিনির কারো জন্য চেষ্টা বা তদবির করবেন না; এ মামলার বিষয়ে জনসমক্ষে বক্তব্য (পাবলিক স্টেটমেন্ট) দেবেন না; নিয়মের বাইরে গিয়ে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলবেন না বা যোগাযোগ করবেন না; তার (হারুন অর রশিদ) জামিন ডেসটিনির অন্য কারো জন্য উদাহরণ হিসেবে আনা যাবে না; এসব শর্ত যদি তিনি ভঙ্গ করেন তাহলে তার জামিন বাতিল হয়ে যাবে বা বিচারিক আদালত জামিন বাতিল করতে পারবেন। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের অনুমতি নিতে হবে না।”
জামিন দেওয়ার কারণ হিসেবে হাইকোর্ট বলেন, “তার স্বাস্থ্যগত কিছু সমস্যা রয়েছে। এছাড়া তিনি সাবেক সেনাপ্রধান এবং একজন মুক্তিযোদ্ধা ও সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন। সর্বোপরি তার ব্যক্তিগত স্ট্যাটাস বিবেচনা করেই আদালত তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” গত ১১ অক্টোবর লে. জেনারেল (অব.) হারুন অর রশিদ, ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। সেদিনই তারা ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. জহুরুল হকের আদালতে পৃথকভাবে আত্মসমর্পণ করেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর হারুন অর রশিদ, রফিকুল আমীন, মোহাম্মদ হোসাইনসহ ডেসটিনির শীর্ষ ২১ কর্মকর্তাকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দেওয়া জামিন বাতিল করেছিলেন একই আদালত। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ডেসটিনি ২০০০ লিমিটেড কর্তৃপক্ষ ডেসটিনি ট্রি প্ল্যানটেশন ও ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটির মাধ্যমে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করেছে। কিন্তু বর্তমানে তাদের পৃথক দুটি অ্যাকাউন্টে মাত্র ৫৬ লাখ ও ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা অবশিষ্ট আছে। বাকি তিন হাজার ২৮৫ কোটি টাকা তারা মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে আত্মসাৎ করেছেন।

নিউজরুম

শেয়ার করুন