হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতি বছর পৌনে ২ কোটি মানুষ মারা যান

0
87
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা ঢাকা ১৯ অক্টোবর :
বিশ্বে প্রতি বছর ১ কোটি ৭৩ লাখ মানুষ হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন। ঝুঁকি উপাদান (রিস্ক ফ্যাক্টর) কমাতে না পারলে ২০৩০ সাল নাগাদ প্রতি বছর ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষ হৃদরোগে মারা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশেও হৃদরোগ মহামারীর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কোয়ান্টাম হার্ট ক্লাব আয়োজিত ‘হৃদরোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা একথা জানিয়েছেন। নগরীর কাকরাইল আইডিবি মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা আরো বলেন, সঠিক জীবনাচরণ, বৈজ্ঞানিক খাদ্যাভ্যাস ও মেডিটেশনের মাধ্যমে হৃদরোগের স্থায়ী সমাধান সম্ভব। অপারেশন ছাড়াই একজন মানুষ তেল, চর্বি ও লবণ পরিহার করে এবং কায়িক পরিশ্রম করে হৃদরোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় অধ্যাপক ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক। আলোচনায় অংশ নেন ডা. আহমদ মর্তুজা চৌধুরী, ডা. হাসনাইন নান্না, ডা. মনিরূজ্জামান, ডা. সাবরিনা ইয়াসমিন প্রমুখ। সেমিনারে হার্ট ক্লাবের কোর্স করে অপারেশন ছাড়াই নিরাময় লাভের অনুভ‚তি বর্ণনা করেন ইঞ্জিনিয়ার নজরূল ইসলাম, ব্যাংকার নূরূল আমিন ও রফিকুল ইসলাম। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শহীদ আল বোখারী মহাজাতক মেডিটেশন পরিচালনা এবং মহাপরিচালক নাহার আল বোখারী ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। ব্রিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক বলেন, হৃদরোগ এবং স্ট্রোক সমগ্র বিশ্বে সবচেয়ে বড় ঘাতক ব্যাধি এবং অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী। বিশ্বে প্রতি বছর ১ কোটি ৭৩ লাখ লোক এ রোগে মারা যান এবং এই সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, হৃদরোগ এবং স্ট্রোকসহ বিভিন্ন ক্রণিক রোগে যারা মারা যান, তাদের অনেকের বয়স এবং কর্মজীবন ৪০-৬০ বছরের মধ্যে। বেঁচে থাকলে তারা পরিবার এবং জাতির জন্য বিভিন্ন ক্ষেত্রে মূল্যবান অবদান রাখতে সক্ষম হতেন।লবণ, চর্বি, ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব বলেও তিনি জানান।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান বলেন, ‘‘সুস্থ থাকতে হলে নিজের দায়িত্ব নিজেকে নিতে হবে। আপনার কিডনি নিয়মিত ওয়াশ করতে দরকার হলো পানি। কিন্তু আপনি যদি জুস, কোল্ড ড্রিংকসে আসক্ত হন, তাহলে সেটা আপনার কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করবে।’’ তিনি বলেন, মাদকাসক্তিই সকল অশান্তির মূল। জীবনের চাপ কমাতে হবে। ইতিবাচক কাজের মধ্য দিয়ে জীবনকে অর্থবহ করে তুলতে হবে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন