বৈশ্যিক জলবায়ু মোকাবেলা করছেন, নার্গীস আক্তার

0
114
Print Friendly, PDF & Email

রুপসীবাংলা কৃষি ডেস্ক :
নার্গীস আক্তার শ্রাবণ মাসে প্রথম সপ্তাহে লাউ বুনেছিলেন তার ক্ষেতে। ভাদ্রের শেষে এসে তিনি ফলন পান। নিজেরা খেয়ে হাজার তিনেক টাকার লাউ বিক্রিও করেছিলেন। আরও অনেক লাউএর গুটি ছিল গাছে। কিন্তু হঠাৎ করে আশ্বিনের মাঝামাঝি পানি বেড়ে গোড়া ডুবে যাওয়ায় গাছ মরে যায়। এরকমটি হতে পারে আগেই ধারণা থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা করে রেখেছিলেন নার্গীস বেগম। মাটির হাড়িতে তিনি বেশ কিছু লাউএর চারা করে রেখেছেন। যেন পানি নেমে গেলেই পনের বিশ দিন বয়সরে চারা রোপন করতে পারেন।
এতে তিনি অনেক আগেই ফলন পাবেন। লাভও বেশি হবে। কেবল নার্গীস বেগমই নয় বৈশ্যিক জলবায়ু পরিবর্তনকে এ ভাবেই মোকাবেলা করছেন মানিকগঞ্জ সদর উপজলোর কুন্দরা গ্রামের নারীরা। কৃষি নির্ভর এই গ্রামের প্রায় প্রতিটি বাড়ির নারীরা এখন সরাসরি চাষাবাদের সাথে জড়িত আর প্রধাণত তারাই জলবায়ুর পরিবর্তনকে মোকাবেলা করছেন তাদের অর্জিত পুর্ব অভিজ্ঞতা দিয়ে। কুন্দরা গ্রামের নার্গীস বেগম , ফাতেমা বেগম, সামেলা বেগম সহ আরও অনেকের সাথে কথা হলো এই প্রতিবেদকের। তারা জানান, নিচু এলাকা হওয়ায় এখানকার জমিতে পানি থাকতো বলে আমন ধানের চাষ হতো। পানি নেমে গেলে সড়িষা,কলাই চাষ করা হতো। কিন্তু কয়েক বছর ধরে পানি না হওয়ায় আমন ধান হতে পারছেনা। এখন বোরো ধানের পাশাপাশি সবজি চাষ করছে। মুলত সবজি চাষটিকেই তারা প্রাধাণ্য দিচ্ছেন। অথচ এক সময় এই এলাকায় সবজির চাষ হতো খুবই সিমিত আকারে। তারা জানান আগে বর্ষার শুরুতেই জমিতে পানি এসে পড়তো। কিন্তু গত দশ পনের বছর ধরে পানি আসে অনিয়মিত। কখনও বণ্যা হয়। কখনও বা জমিতে পানি ঢুকেইনা। আবার অসময়ে পানি আসে। যেমন এবার ভাদ্র মাস পার হয়েগেলেও পানি আসেনি। যে কারনে তারা লাউ, মুলা, ধনেপাতা,বেগুন চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে আশ্বিনের মাঝে হুড়হুড় করে জমিতে পানি ঢুকে পড়ে। সামেলা বেগমের বাড়িতে দেখাগেল মাটির হাড়িতে বিভিন্ন ধরণে শীতের সবজির চারা করে রেখেছেন। তিনি জানান আগে লাউ বুনতেন কার্তিক বা অগ্রহায়স মাসে। কিন্তু এখন তারা অন্তত এক মাস আগেই লাউ,সিম,মুলা,ধনে বুনছেন। তার ভাষায়, “আগের হিসাবে চাষ করলে ফলনে মাইর খাইতে হইবো”।
পানির বাড়ার সময় পার হয়ে যাওয়ায় ফাতেমা বেগমও তার ক্ষেতে বুনেছিলেন মুলা, বেগুন,আর ধনেপাতা। কিন্তু হঠাৎ করে পানি বেড়ে ডুবে যায় তার সবজির ক্ষেত। তবে তিনিও আগাম প্রস্ততি নিয়ে রাখায় খুব একটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছেনা। তার বাড়িতেও আছে মাটির হাড়িতে প্রায় পনের বশিদিন বয়সরে বিভিন্ন সবজির চারা। তিনি জানালেন জমি থেকে পানি নেমে গেছে। আর দু একদিনের মধ্যেই জমিতে সবজির চারা রোপন করতে পারবেন।
বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজিনাস নলেজ (বারসিক) নামের একটি বেসরকারী প্রতিষ্টান এই এলকাতেও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছে।্ এলাকার সমন্বয়কারী জানালেন, অভিজ্ঞতা দিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনটি নারীরা ঠিকই অনুধাবন করতে পারছে এবং প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে নারীদের এই অভিজ্ঞতা পুরোপুরি ভাবে কাজে লাগাতে হলে তাদের প্রশিক্ষিত করা প্রয়োজন রয়েছে। নারীদের প্রথাগত জ্ঞনকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করা সহ জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমনের পরিকল্পনা,বাস্তবায়নে গ্রামীণ নারীদের অংশ গ্রহন নিশ্চিত করতে পারলেই এই পরিবর্তনকে র্কাযকর ভাবে মোকাবেলা করা যাবে।

নিউজরুম

শেয়ার করুন